চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ফেনী নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রজেক্টের (সিডিএসপি) বাঁধ। প্রতিদিন নতুন নতুন অংশ ভেঙ্গে যাচ্ছে। গত কয়েকদিনে বাঁধের একাংশ নদীতে বিলীন হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভেঙ্গে পড়েছে। ভেঙ্গে গেছে কয়েকটি বিদ্যুতের খুঁটি ও সড়কের পাশের অসংখ্য গাছ। ভাঙ্গনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এ এলাকার মৎস্যচাষিরা। দ্রুত বাঁধের ভাঙন ঠেকানো না গেলে পথে বসবে অসংখ্য এলাকাবাসী ও মৎস্যচাষি। মৎস্য শিল্পে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। লবণাক্ত পানি ঢুকলে মাছচাষ হুমকির মুখে পড়বে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মিরসরাইয়ের বিস্তীর্ণ এলাকা বঙ্গোপসাগরের ভাঙন থেকে রক্ষা করতে ১৯৯৪ সালে চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রজেক্টের (সিডিএসপি) আওতায় ১১.৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বাঁধ নির্মাণ করা হয়। সিডিএসপি বাঁধকে ঘিরে বদলে গেছে এলাকার চিত্র। গড়ে ওঠে শত শত মৎস্য প্রকল্প। এসব মৎস্য প্রকল্পে চাষাবাদ করে ভাগ্য বদলেছে অসংখ্য মানুষের। কয়েক বছর আগে বাঁধ থেকে প্রায় ৩ হাজার মিটার দূরেও মৎস্য চাষ হতো। ভাঙ্গনের তীব্রতার ফলে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে ২৫টি মৎস্য প্রকল্প। এখান থেকে চট্টগ্রামের মাছের চাহিদার ৭০ শতাংশ উৎপাদিত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিডিএসপির বাঁধ পুরোপুরিভাবে ভেঙ্গে গেলে চলতি বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দেবে। পাশের এলাকার মানুষ হারাবে ভিটেবাড়ি, কৃষক হারাবে জমি, নদী গর্ভে বিলীন হবে মৎস্য প্রকল্প। ভাঙ্গনের স্বল্প দূরত্বে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া দেশের সর্ববৃহৎ জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন কাজও কিছুটা ঝুঁকিতে পড়বে। ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের আগস্ট মাসে সিডিএসপি বাঁধের কিছু অংশ ভেঙে নদীতে বিলীন হয়। তখন ভাঙ্গা অংশে নদীর প্রবাহ অন্য দিক দিয়ে ঘুরিয়ে বাঁধ নতুন করে নির্মাণ করা হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, মুহুরী সেচ প্রকল্পের ভাটিতে প্রায় ১১ শত বর্গমিটার এলাকায় পলির স্তর জমেছে। এতে নদীর প্রবাহ পথ বদলে সোনাগাজীর থাক খোয়াজের লামছিতে ছোট ছোট চর জেগেছে, অপরদিকে মিরসরাই অংশের উত্তর ইছাখালী অংশে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। পলি জমার কারণে মুহুরী সেচ প্রকল্পের বেশ কিছু স্লুইচ গেট কাজে আসছে না। স্থানীয় কৃষক হোসেন আহম্মদ বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকে এই নদীর আচরণ দেখে আসছি। মুহুরী প্রকল্পের ভাটিতে যে পলি জমেছে তা খনন করলে ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে। আমার বয়সেও এখানে এমন ভাঙন দেখিনি। মূলত পলি জমার কারণে ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। ইছাখালী ইউনিয়নের মৎস্য চাষি মাঈন উদ্দিন বলেন, সিডিএসপি বাঁধ দেওয়ার পূর্বে নদী প্রায় ৩ হাজার মিটার দূরে ছিল। বাঁধ দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল এখানকার ফসলি জমি-বসতবাড়ি লবণাক্ত পানি ও বন্যার পানি থেকে মুক্ত রাখা। বাঁধ ভেঙ্গে গেলে বাঁধের পূর্ব পাশের ১০-১২টি গ্রামে লবণাক্ত পানি ঢুকে পড়বে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজা জেরিন বলেন, আমি আগে কয়েকবার পরিদর্শন করেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা বলবো এই বিষয়ে যেন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হয়। ফেনী পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী অলোক দাশ বলেন, সিডিএসপির বাঁধ ভাঙার খবর শুনে মিরসরাইয়ে দায়িত্বে থাকা সেকশন অফিসার জিয়া উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। শীঘ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।