জেলার খালিয়াজুরী উপজেলায় একটি ব্রিজের জন্য গত ৫ বছর ধরে ভোগান্তিতে পড়েছেন ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। স্থানীয়রা জানান গত ২০০১ সালে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘ ২০ বছর ব্রিজটি ব্যবহার করার পর, গত পাঁচ বছর আগে ব্রিজটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ায় ভোগান্তি আরো বেড়েছে। তবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এর সাথে যোগাযোগ করলে তারা বলতে পারছেনা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নাম, প্রাক্কলিত মূল্য, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নাম ও ব্রীজের শুরু ও শেষ কবে হয়েছে। নতুন করে ব্রিজটি নির্মাণ করা হবে কিনা, তাও জানা যায়নি। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নের চাকুয়া গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নিহারি খালের উপর নির্মিত ব্রিজটি। গ্রামের দুই পাড়ের উপর ব্রিজটি ভেঙে যায় প্রায় পাঁচ বছর আগে। ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয়রা কলাগাছ ও সুপারিগাছ দিয়ে ব্রিজটির নিচ দিয়ে ব্যবহার করছিল। বর্ষাকালে নৌকা দিয়ে পারাপার হয়ে আসছে।এলাকার কৃষক মজনু মিয়া জানান বোরো ফসল রোপন করা ও পাঁকা ধান কেটে বাড়িতে আনা নেওয়ার সময় আমাদের কয়েক কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিয়ে বাড়িতে আসতে হয়। চাকুয়া, লিপসা, রাংছাপুর, শালদিঘা, পাতরা, মকিমপুর দাউতপুর, ভল্লি, পতুয়া আড়াকান্দি সহ ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ এই ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করে আসছে। চাকুয়া গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থী ময়না রানী বলে, এই ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় আমাদের স্কুলে চলাচল করা অনেক ভোগান্তি বেড়েছে। নৌকা দিয়ে খাল পার হওয়ার সময় আমাদের অনেক ভয় লাগে। কিছুদিন আগে আমাদের এক বন্ধু নৌকা থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছে। চাকুয়া গ্রামের বাসিন্দা অজয় চন্দ্র বলেন ‘এই ব্রিজটির জন্য আমাদের আশপাশের ১০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে। ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পর আমরা চাঁদা তুলে সুপারিগাছ ও কলাগাছ দিয়ে ব্রিজটির নিচ দিয়ে কোনোমতে পারাপার হয়েছি। কিন্তু দুই মাস ধরে সেটাও ভেঙে যাওয়ায় নৌকা ছাড়া বিকল্প কয়েক কিলোমিটার পথ দিয়ে স্কুলে যাতায়াত করছি। এলাকার মনির মিয়া বলেন নিহারি খালের উপর ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে পড়ে আছে। বিষয়টি ৫ বছর আগেই চেয়ারম্যান, ইউএনওসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে জানিয়েছি। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। এলাকার স্কুল, কমিউনিটি মেডিকেল সেন্টার ও কৃষি ফসলের সুবিধার্থে ব্রিজটি নির্মাণ করে ১০ গ্রামের মানুষের চলাচলে সহযোগীতা করার জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সদয় দৃষ্টি কামনার জন্য সহযোগীতা চেয়েছে এলাকাবাসী। এবং দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে আইনের আওতায় এনে বিচার করার দাবি জানান তারা। নেত্রকোণা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, ব্রিজটির সম্পর্কে আমার কোনো কিছু জানা নেই, সরজমিনে গিয়ে দেখে শুনে বলতে পারবেন বলে তিনি জানান।