বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে খুলনার রূপসা উপজেলার পিঠাভোগ রবীন্দ্র স্মৃতি সংগ্রহশালা ও ফুলতলার দক্ষিনডিহিতে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। ফুলতলা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মোঃ ফিরোজ শাহ। মূখ্য আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সিরাজ সালেকীন। স্বাগত বক্তৃতা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসনীম জাহান। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলাম। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও খুলনা জেলা প্রশাসন যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) পাপিয়া সুলতানা, আইসিটি কর্মকর্তা অজয় কুমার পাল, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা বেগম, সমাজসেবা কর্মকর্তা শাহীন আলম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রীনা মজুমদার, বীজ কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মুক্তরায় চৌধুরী, ফুলতলা থানার ওসি মোঃ জিল্লাল হোসেন, উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি শামসুল আলম খোকন, প্রেসক্লাব ফুলতলা সভাপতি তাপস কুমার বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক শেখ মনিরুজ্জামান, সহ সম্পাদক কবি আনন্দ কুমার স্বর, সহকারী অধ্যাপক মো মাজহারুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন, বিশ^কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বংশধারা সূচিত হয়েছিল খুলনার রূপসার পিঠাভোগে। তাই কবির সাহিত্যের সাথে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবনধারা ও প্রকৃতির সাথে গভীর মিল পাওয়া যায়। তিনি কবির সাহিত্য ও কৃষিচিন্তার উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, খুলনাসহ দেশের উন্নয়নে কবিগুরুর কৃষি ও অর্থনীতির চিন্তা অনুসরনীয়। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। উল্লেখ্য, লোকমেলায় বিপুল পরিমান দর্শনার্থী উপ¯ি’ত ছিলেন। খুলনার রূপসা উপজেলার পিঠাভোগ রবীন্দ্র স্মৃতি সংগ্রহশালা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (শিক্ষা ও আইসিটি) দেবপ্রসাদ পাল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, মানব সম্পর্কিত সমস্ত কল্যাণকর ভাবনা ও প্রজ্ঞার সবকিছুই মানবতার সঙ্গে জড়িত। এমনকি আমাদের এই পৃথিবী, সমাজ, রাষ্ট্র এসব কিছুর কল্যাণ এবং সমৃদ্ধি পরোক্ষভাবে মানবতার সাথে সম্পৃক্ত। রবীন্দ্রনাথের জীবন, কর্ম এবং সাহিত্য সমস্ত কিছুর কেন্দ্রবিন্দু ছিল মানুষ। তিনি ঠাকুর পরিবারের জমিদার ভাবনার মধ্যে বড় হলেও সমাজের নির্যাতিত মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বিশ^মানবতার কবি। তাই তো তিনি অসহায় কৃষকদের ঋণের কবলে পড়ে যাতে সর্বশান্ত হতে না হয় সে জন্য কৃষকদের নিয়ে সমবায় ব্যাংক স্থাপন করেন। তিনি স্কুল প্রতিষ্ঠা করে সাধারণ মানুষের সন্তানদের জন্য লেখাপড়ার সুযোগ তৈরি করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর খ্যাতির শীর্ষে থেকে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনি নোবেল পুরস্কার থেকে পাওয়া সমস্ত অর্থই সাধারণ মানুষের জন্য ব্যয় করেন। আমরা যদি রবীন্দ্রনাথের আদর্শকে ধারণ করতে পারি তাহলে আজকের অনুষ্ঠানের আয়োজনটি স্বার্থক হবে। রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকাশ কুমার কুন্ডু এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) অপ্রতিম কুমার চক্রবর্তী। ‘রবীন্দ্রনাথ ও মানবতা’ বিষয়ে মূখ্য আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হোসনে আরা। খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মৌমিতা রায় অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও খুলনা জেলা প্রশাসন যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।