আগামী ২২ মে আসবে নওগাঁর আম। সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আম সংগ্রহের সময়সূচি নির্ধারন সংক্রান্ত এক সভা শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল এই সময়সূচি ঘোষনা করেন। বৈঠকে আম চাষি, ব্যবসায়ী, কৃষি কর্মকর্তা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ওইদিন থেকে কেবল গুটি বা স্থানীয় জাতের আম সংগ্রহ করা যাবে। তবে সুস্বাদু আম খেতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন। নওগাঁয় সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হয় আম রুপালি। তা আসবে ১৮জুন। আর জিআই স্বীকৃতি পাওয়া নওগাঁর নাক ফজলি আম পাওয়া যাবে ৫জুন থেকে। প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী চলতি মাসের ২২মে থেকে গুটি বা স্থানীয় জাতের আম, ২৮মে থেকে গোপালভোগ, ২জুন ক্ষীরসাপাত ও হিমসাগর, ৫জুন নাক ফজলি, ১০জুন ল্যাংড়া ও হাঁড়িভাঙা, ২৫জুন ফজলি, ১৮জুন আম রুপালি, ২৫জুন ব্যানানা ম্যাংগো এবং আগামী ১০জুলাই থেকে আর্শ্বিনা, বারি-৪, গৌড়মতি ও কাটিমন আম সংগ্রহ করা যাবে। এছাড়া নাক ফজলি, বারি-৪, গৌড়মতি, ব্যানানা ম্যাংগো ব্যাপক পরিমানে চাষ হয়ে থাকে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আউয়ালের সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদসহ জেলা সকল উপজেলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সকল উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও আম চাষী। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল বলেন, নওগাঁয় চাষ হওয়া আমের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ আম রুপালি। সারাদেশে নওগাঁয় উৎপাদিত আম রুপালি আমের ব্যাপক সুখ্যাতি রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগে কোনোভাবেই অপরিপক্ক আম সংগ্রহ কিংবা বাজারে তোলা যাবে না। তবে সময়ের আগে আবহাওয়ার কারনে আম পরিপক্ক হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী আম চাষিরা তারিখ পুনর্নিধারন করে সময়ের আগে আম সংগ্রহ করতে পারবেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তারিখ অনুযায়ী আম সংগ্রহ করতে জেলাজুড়ে ব্যাপক প্রচারনা চালানো হবে। মূলত ভোক্তাদের পরিপক্ক ও ক্ষতিকারক রাসায়নিক দ্রব্যমুক্ত আম খাওয়াতে জাতভেদে আম সংগ্রহের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ভোক্তাদের ভেজালমুক্ত আম খাওয়ানো নিশ্চিতের পাশাপাশি বিদেশে আম রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি কৃষি বিভাগ তৎপর রয়েছে। তিনি আরো বলেন, জেলায় এ বছর ৩০ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। যা থেকে ৩ লাখ ৬৬ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর আম বিক্রির আশা করা হচ্ছে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার কোটি টাকার।