শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ০১:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত আত্রাই এলাকার উন্নয়নে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না-এমপি রেজু শেখ রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে অভিনেতা শামস সুমন ধামইরহাটে দল ও জনগণের সমর্থন পেলে পৌরবাসীর সেবা করতে চান আনোয়ারুল ইসলাম কয়রায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ তারাকান্দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেক অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছাল নিহত বিএনপি নেতা অলিউল্লাহ মোল্যার বাড়িতে নড়াইলের লোহাগড়ায় জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

ফরিদগঞ্জে ৬৩ লক্ষ টাকার খাল খনন কাজ ৬ লক্ষ টাকায় প্রকল্প শেষ! বাস্তবায়নে এলজিইডি

এমরান হোসেন লিটন (ফরিদগঞ্জ) চাঁদপুর
  • আপডেট সময় রবিবার, ২৫ মে, ২০২৫

ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৩ নং সুবিদপুর ইউনিয়নের ৩টি খাল পুনঃ খনন ও ১টি ড্রেন মেরামত প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে আইচারবাগ খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিঃ, মনতলা চালিয়াপাড়া খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিঃ, চৌধুরী মিজি খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যাপক অনিয়ম, অর্থ লুটপাট, স্বজনপ্রীতি ও কৃষি জমি ক্ষতি সাধনের ব্যাপক অভিযোগ করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। তারা এই কাজের অর্থ বরাদ্দের কথা শুনে সবাই চমকে যান। কারণ অর্থ বরাদ্দের সাথে কাজের কোন মিলই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আর এ কাজে ৬৩ লক্ষ টাকা প্রকল্প খরচ ধরা হলেও ৬ লক্ষ টাকায় প্রকল্প শেষ! বাস্তবায়নে ছিলো ফরিদগঞ্জ এলজিইডি অফিস। এলজিইডি ফরিদগঞ্জ অফিস সূত্রে জানা যায় ২৪-২৫ অর্থবছরে ৩ নং সুবিদপুর ইউনিয়নের ৩ টি খালে মোট ২৮০০ শত মিটার খাল পুনঃ খনন করা হচ্ছে। আর এই কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯ লাখ টাকা। যার মধ্যে ইউনিয়নের আইচার বাঘ খালে ১৩০০ মিটার খননে ২৭ লাখ টাকা। তেলি শাইর খালে ৯০০ মিটার খননে ১৯ লাখ টাকা। এছাড়া দিকদাইর- মনতলা খালে ৬০০ মিটার খননে ১৩ লাখ টাকা এবং একটি পুরনো ড্রেন সংস্কার করতে চার লক্ষ টাকা প্রকল্প বাজেট ধরা হয়। আর যে সমিতি গুলোর নামে উল্লেখিত ৬৩ লাখ টাকা লেনদেন হয় সেগুলো হল আইচার বাগ খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিঃ, মনতলা চালিয়াপাড়া খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিঃ, চৌধুরী মিজি খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড। এই সমিতি গুলোর সন্ধান পেতে ৩ নং সুবিদপুর ইউনিয়নের প্রত্যেকটি গ্রামের আনাছে-কানাচে, বিভিন্ন বাজার ও মিনি মার্কেটে খবর নিলেও সমিতি গুলোর কোন হদিস না পাওয়ায় সমিতির কোন সদস্য এবং কমিটির কোন লোকের সাথে কথা বলা যায় না। তবে এলাকার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন বেকু দিয়ে খাল খনন করা হয়েছে ঠিক। তবে তারা বলেন, তিনটি খাল মিলিয়ে সর্বসাকুল্যে বেকু চলেছে ২৮ থেকে ৩০ দিন হবে। এতে করে হয়তো বেকুবাড়া প্রতিদিন ২০ হাজার টাকা করে দিলে মোট সাড়ে পাঁচ লাখ বা ছয় লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে তারা জানান। এলাকাবাসী সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের তথ্য অনুযায়ী এই কাজে ৬৩ লক্ষ টাকা বাজেট হলে ৫/৬ লাখ টাকার কাজ করে বাকি টাকা স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সমবায় অফিস ও এলজিইডি লুটপাট করেছে। আইচার বাঘ খালপাড়ের একাধিক কৃষকের সাথে (নিরাপত্তা জনিত কারণে নাম দেওয়া হলো না, ভিডিও ফুটেজও আছে) কথা হলে তারা বলেন এই খাল খননে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নাম করে খালের মাটি অযতœ অবহেলা করে ধানের ভরা মৌসুমে ধানের উপর মাটি ফেলেছে। পরে আর ক্ষতিপূরণ না দিয়ে কর্তৃপক্ষ চলে যায়। এছাড়া এই খালে ১৩০০শ মিটার খাল খনন করার কথা থাকলেও সে পরিমাণ করে না। তারা বলেন, এই খালে গড়ে প্রতিদিন ৯/১০ ঘণ্টা করে ১৩/১৪ দিন কাজ করে বেকু চলে যায়। এছাড়া দিকদাইর ও মনতলা খালপাড়ের একাধিক কৃষক ও এলাকাবাসী বলেন, (নিরাপত্তা জনিত কারণে নাম দেওয়া হলো না, ভিডিও ফুটেজও আছে) এইখালেও গড়ে প্রতিদিন ৯-১০ ঘণ্টা করে ১৪-১৫ দিন বেকু চলেছে। এবং কাজ সম্পূর্ণ না করে বেকু চলে যায়। অন্যদিকে তেলিশাইর খালপাড়ের একাধিক কৃষক ও এলাকাবাসী বলেন, (নিরাপত্তা জনিত কারণে নাম দেওয়া হলো না, ভিডিও ফুটেজও আছে) তাদের এলাকার এই খাল খননে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে তারা বলেন। তাদের খাল খননের কথা ৯০০শ মিটার। কিন্তু তা না করেই মাত্র একদিন বিকেলে কয়েক ঘন্টা এবং পরের দিন সকালে কয়েক ঘণ্টা বেকু চালিয়ে তারা বেকু নিয়ে চলে যায়। এবং মানুষের ফশলি জমির ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা থাকলেও পরে আর তারা কোন যোগাযোগই করে না বলে জানান। এলাকার একাধিক কৃষক ও সুধী মহলের সাথে কথা হলে তারা বলেন, কৃষকদের জন্য সমিতি থাকলেও আমরা এর কিছুই জানিনা। স্থানীয় দুলাল মেম্বার ও তার পরিবারের সদস্যদের দিয়ে এই সমিতি করা হয়েছে। আমরা মাঝেমধ্যেই শুনি এলাকার কৃষকদের উপকারের জন্য সমিতির নামে লাখ লাখ টাকা আসে। এবং কোন কোন বছর কোটি টাকার উপরেও আসে। কিন্তু আমরা কোন মান-সম্মত কাজ দেখিনা। এবং যে সমিতির নামে টাকা আসে সেই সমিতির অফিস কোথায় সেগুলোও আমরা জানিনা। শুনেছি এবছরও নাকি ড্রেন এবং খাল খননের জন্য ৬৩ লাখ টাকা এসেছে। কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম এই এলাকার তিন জায়গায় গড়ে ২৭-২৮ দিন বেকু চলেছে। কিন্তু ড্রেন কোথায় করেছে তা আমরা বলতে পারব না। পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি, কাজ পরিচালনাকারী দুলাল মেম্বারের সাথে একাধিকবার দেখা করার চেষ্টা করলেও তিনি সাংবাদিকদের কথা শুনলে বাড়ি থেকে অথবা এলাকা থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে যান। অন্যদিকে আরেক সমিতির সভাপতি সৈয়দের সাথে কথা হলে, তিনি বলেন, যেটুকু সম্ভব কাজ করিয়েছি। তিনি আরও বলেন, আমরা শুধু নামেই আছি, যা কিছু করার সব এলজিইডি অফিস থেকেই করা হয়। একাধিক বেকুর মালিকের সাথে কথা হলে তারা বলেন, একটা বেকু ভাড়া দিলে দিন এবং রাত মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা নেওয়া হয়। তাহলে উপরোক্ত খাল খননে ৩০ দিন গেলে বেকুবাড়া সর্বোচ্চ ৬ লক্ষ টাকা যেতে পারে বলে তারা জানান। উপরোক্ত বিষয় নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, দুলাল মেম্বার প্রতি বছর খাল খননের নামে সরকারি অর্থ এনে হরিলুট করছেন। এবং খাল খননের নামে তিনি সাগর চুরি করছেন। উপজেলা প্রকৌশলী আবরার আহমেদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, কাজ এখনও চলমান রয়েছে। কিন্তু কাজের তত্ত্বাবধানকারীরা বলছেন এই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে গেছে।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com