যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আন্তর্জাতিক শান্তিতে সরাসরি হুমকি: জাতিসংঘ
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলায় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস কঠোর বিবৃতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন দেশের নেতারা। তারা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আরব নিউজ। জাতিসংঘ মহাসচিব বিবৃতিতে বলেছেন, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর বাস্তবতায় এক বিপজ্জনক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার ওপর সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই সংঘাত যে কোনো মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে— যার পরিণতি সাধারণ মানুষ, পুরো অঞ্চল ও বিশ্বের জন্য হবে ভয়াবহ। গুতেরেস জোর দিয়ে বলেন, এই সংকটময় সময়ে যুদ্ধ নয়, শান্তিই একমাত্র পথ। কূটনীতি ছাড়া কোনো সমাধান নেই।
নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স বলেন, এই সংকট আমার দেখা সবচেয়ে ভয়াবহ কূটনৈতিক পরিস্থিতিগুলোর একটি। এখন আলোচনায় ফিরে যাওয়াটাই একমাত্র টেকসই পথ। তিনি হামলার সরাসরি সমর্থন বা বিরোধিতা না করলেও কূটনৈতিক সমাধানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিজিটিএন মন্তব্য করেছে, যুক্তরাষ্ট্র কি আবার ইরাকে করা ভুল ইরানেও করছে? তারা ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ দীর্ঘস্থায়ী সংকট ও অস্থিতিশীলতা এনেছে— ইতিহাস তা বারবার প্রমাণ করেছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা রবিবার জরুরি মন্ত্রিসভা বৈঠক ডেকেছেন। দেশের শীর্ষ সংবাদপত্র ইওমিউরি শিমবুন এই হামলার ওপর একটি বিশেষ সংস্করণ প্রকাশ করেছে, যা সচরাচর যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেই দেখা যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, এই হামলার ফলে নিরাপত্তা ও অর্থনীতির উপর প্রভাব নিয়ে জরুরি আলোচনা চলছে। তেহরানে অবস্থিত নিজেদের দূতাবাস আগেই বন্ধ করা অস্ট্রেলিয়া সরকার বলেছে, আমরা শুরু থেকেই বলছি ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য হুমকি। তবে এই মুহূর্তে দরকার উত্তেজনা প্রশমন ও সংলাপ।