শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত আত্রাই এলাকার উন্নয়নে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না-এমপি রেজু শেখ রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে অভিনেতা শামস সুমন ধামইরহাটে দল ও জনগণের সমর্থন পেলে পৌরবাসীর সেবা করতে চান আনোয়ারুল ইসলাম কয়রায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ তারাকান্দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেক অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছাল নিহত বিএনপি নেতা অলিউল্লাহ মোল্যার বাড়িতে নড়াইলের লোহাগড়ায় জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

ওয়েবপোর্টাল থেকে তথ্য নেয়া কি চুরি?

মুফতি আবদুল্লাহ নুর
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই, ২০২৫

অবাধ তথ্য-প্রবাহের এই যুগে মানুষ অনেক কাজেই অনলাইনে প্রাপ্ত তথ্যের সহযোগিতা গ্রহণ করে। যার কিছু সংরক্ষিত এবং কিছু উন্মুক্ত। প্রশ্ন হলো, ওয়েবসাইট থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য গ্রহণ করা, তা কপি করা কি জায়েজ? এটা ইসলামী শরিয়তে বর্ণিত চুরির অন্তর্ভুক্ত হবে? হলে তার শাস্তি কিভাবে প্রয়োগ করা হবে? প্রাজ্ঞ আলেমরা বলেন, ওয়েবসাইট সাধারণ দুই ধরনের হয় : ১. যা সংরক্ষিত, যেখান থেকে তথ্য গ্রহণের জন্য সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয় বা মূল্য পরিশোধ করতে হয়, ২. যা উন্মুক্ত, যেখান থেকে যে কেউ ইচ্ছা করলে তথ্য গ্রহণ করতে পারে। দ্বিতীয় প্রকারের ওয়েবসাইট থেকে তথ্য গ্রহণ করা দোষের নয়।
যেহেতু এসব ওয়েবসাইটের তথ্য সংরক্ষণ করা হয়নি, তাই ধরে নেওয়া যায় এটা ব্যবহারের সাধারণ অনুমতি আছে। তবে এমন ওয়েবসাইট থেকেও কোনো তথ্য উদ্ধৃত করা হলে সূত্র উল্লেখ করা প্রয়োজন।
আর প্রথম প্রকারের ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে আলেমদের বক্তব্য হলো, এসব ওয়েবসাইট থেকে হ্যাকিংয়ের মতো অসৎ উপায়ে তথ্য সংগ্রহ করা অনৈতিক ও অন্যায়। যেহেতু এর পেছনে মানুষের মেধা ও শ্রম ব্যয় হয় এবং বর্তমান যুগে তথ্য-উপাত্ত মানুষের উপার্জনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম, তাই রাষ্ট্র প্রয়োজন বোধ করলে এমন অসৎ উপায় প্রতিরোধে শাস্তির বিধান করতে পারবে।
তবে এটা শরিয়ত ঘোষিত চুরি সংজ্ঞার মধ্যে পড়বে না এবং এর জন্য শরিয়ত ঘোষিত চুরির শাস্তিও প্রয়োগ করা হবে না।
পূর্বসূরি ফকিহ আলেমরা চুরির সংজ্ঞা নির্ধারণ করে বলেছেন, ‘চুরি হলো অন্যের সম্পদ গোপনে হস্তগত করা। শর্ত হলো তা নিসাব পরিমাণ হবে এবং তা প্রমাণের ক্ষেত্রে হদ রহিত করে এমন কোনো সংশয় থাকবে না।’ এই সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করলে চুরি শাস্তি প্রমাণের জন্য কয়েকটি শর্ত পাওয়া আবশ্যক।
তা হলো—
১. চুরি করা জিনিসটি সম্পদ হওয়া। ২. তা নিসাব পরিমাণ হওয়া। ৩. তা গোপনে গ্রহণ করা। ৪. চুরি করা জিনিসটি মালিকের কবজা থেকে চোরের কবজায় চলে আসা।
৫. চুরির বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়া।
উল্লিখিত পাঁচ শর্তের বেশির ভাগই তথ্য চুরির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না। যেমন—তথ্য মূল্যবান হলেও শরিয়তের দৃষ্টিতে তা সম্পদ নয়। কেননা সম্পদ হওয়ার শর্ত হলো তা দৃশ্যমান, স্থিতিশীল ও হস্তান্তরযোগ্য হওয়া। এ ছাড়া তথ্য চুরি করার পরও তা মালিকের কবজায় থেকে যায়, চোরের কবজায় পুরোপুরি চলে আসে না। আর তথ্য যেহেতু ইন্টারনেটের মাধ্যমে চুরি হয়, তাই শরিয়ত অপরাধ প্রমাণের যে পদ্ধতি ঘোষণা করেছে সে পদ্ধতিতে সন্দেহাতীতভাবে তা প্রমাণ করাও সম্ভব নয়। তাই বিনা অনুমতিতে সংরক্ষিত ওয়েবসাইট থেকে তথ্য গ্রহণ করা অনৈতিক ও অনুচিত হলেও তা সেই চুরির অন্তর্ভুক্ত নয়, যার বিপরীতে শরিয়ত হদ বা শাস্তি ঘোষণা করেছে। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সবচেয়ে ভালো জানেন।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com