রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত আত্রাই এলাকার উন্নয়নে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না-এমপি রেজু শেখ রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে অভিনেতা শামস সুমন ধামইরহাটে দল ও জনগণের সমর্থন পেলে পৌরবাসীর সেবা করতে চান আনোয়ারুল ইসলাম কয়রায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ তারাকান্দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেক অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছাল নিহত বিএনপি নেতা অলিউল্লাহ মোল্যার বাড়িতে নড়াইলের লোহাগড়ায় জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

কাবার মাতাফে শীতল স্পর্শের রহস্য

মুফতি সাইফুল ইসলাম
  • আপডেট সময় রবিবার, ১০ আগস্ট, ২০২৫

পৃথিবীর সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও প্রশান্তিময় জায়গা পবিত্র কাবা। বহুকাল থেকে আল্লাহর মনোনীত বান্দাদের মিলনমেলা হয়ে আসছে এই প্রাঙ্গণ। কাবাঘরের যথাযথ বৈশিষ্ট্য এই ছোট প্রবন্ধতে শেষ করা সম্ভব নয়। তাই আমরা সেদিকে না গিয়ে আজ কথা বলব কাবার চারপাশের মেঝে তথা মাতাফ নিয়ে।
যাঁরা হজ বা ওমরাহে যাওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করতে পেরেছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই একটি ব্যাপার অনুধাবন করেছেন যে, কাঠফাটা রোদেও কাবার মাতাফ যেন শীতল গালিচা হয়ে থাকে। যখন অন্য জায়গায় রোদের তীব্রতায় পা রাখা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে, তখনো কাবার মাতাফে ঠা-া অনুভূত হয়। এমন কী রহস্য লুকিয়ে আছে এর পেছনে? আজ আমরা সেই রহস্যটিই জানার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।
যদিও কাবা তার আপন মহিমায় হাজার বছর ধরে মহান আল্লাহয় বিশ্বাসী বান্দাদের জন্য চূড়ান্ত সুখ আর অনাবিল প্রশান্তির জায়গা হিসেবে সর্বমহলে স্বীকৃত।
তথাপি খোদা প্রদত্ত বুদ্ধিমত্তা আর নিয়ামত কাজে লাগিয়ে সেই প্রশান্তিকে একদম চর্ম-ইন্দ্রিয় অনুভূতির প্রত্যক্ষ রূপদানের কারিগর একজন মিসরীয় প্রকৌশলী বা ইঞ্জিনিয়ার ড. কামাল ইসমাঈল। মিসরীয় ইতিহাসে তিনিই প্রথম সর্বকনিষ্ঠ ছাত্র ছিলেন, যিনি উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ শেষে ‘রয়াল স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং’-এ ভর্তি হয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন।
তিনি মক্কা-মদিনায় আধুনিক সম্প্রসারণের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ভাগ্যবান ব্যক্তিত্ব। হারামাইন সম্প্রসারণ প্রজেক্টের এই মহাপরিকল্পনার নকশা ও বাস্তবায়নের কাজ করে গিয়েছেন সম্পূর্ণ বিনা পারিশ্রমিকে। মাত্র ৪৪ বছর বয়সে স্ত্রী মারা যাওয়ার পরে আর বিয়ে না করে আমৃত্যু হারামাইনের খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন।
প্রিয় পাঠক! চলুন ফিরে যাই মূল আলোচনায়। বর্তমানের পরিলক্ষিত এই আধুনিক সম্প্রসারণের আগ পর্যন্ত মাতাফের ভূমি ছিল বর্তমান মুজদালিফার মতো কঙ্করময়। ড. কামাল ইসমাঈল তাওয়াফকারীদের আরামের জন্য সেটিকে মার্বেল পাথর দিয়ে আচ্ছাদিত করে দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। কিন্তু মার্বেল পাথর তো রোদের তাপে গরম হয়ে যাবে।
তিনি ভাবতে লাগলেন কী করা যায়। তিনি সন্ধানে ছিলেন এমন কোনো পাথরের, যার রয়েছে তাপ শোষণ ক্ষমতা। সারা পৃথিবী চষে বেড়িয়ে আবিষ্কার করলেন এ ধরনের মার্বেল, যা কঠিন রোদেও উত্তপ্ত হয় না। তবে বিরল প্রজাতির এই পাথর সংগ্রহ করা অনেক কঠিন ছিল। কারণ থাসোস মার্বেল নামের এই বিরল পাথর সারা পৃথিবীতে শুধু গ্রিসে অবস্থিত মাত্র একটি ছোট পাহাড়েই আছে। তিনি গ্রিস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিশদ আলোচনা শেষে সেই মার্বেল পাথর সংগ্রহের চুক্তি সম্পাদন করলেন। আর কাবার চারপাশ ঢাকতে ওই পাহাড়ের প্রায় অর্ধেক পাথরই তিনি সৌদি আরবে কিনে আনলেন। এই পাথরের বিশেষ গুণ হচ্ছে, তা সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে এর তাপও শুষে নিতে সক্ষম। এই বিস্ময়কর পাথরের কার্যকারিতাকে আরো বেশি প্রশান্তিময় করার জন্য তিনি পাথরের নিচে প্রবাহিত করে দিলেন পানির নালা, যা বালির মধ্য দিয়ে পানি প্রবাহিত করে পাথরের নিচটাকে সব সময় ভিজিয়ে রাখে। ফলে পাথরের ওপরে চলমান আল্লাহর মেহমানরা রোদ ও তীব্র গরমেও হিমশীতল প্রশান্তি অনুভব করেন।
মহান আল্লাহ সবাইকে তাঁর ঘর জিয়ারত করার তাওফিক দান করুন।
(আল-আরাবিয়া নিউজ অবলম্বনে),লেখক : প্রাবন্ধিক, অনুবাদক ও মুহাদ্দিস

ইমেইল saifpas352@gmail.com




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com