শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ০৫:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম ::
খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত আত্রাই এলাকার উন্নয়নে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না-এমপি রেজু শেখ রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে অভিনেতা শামস সুমন ধামইরহাটে দল ও জনগণের সমর্থন পেলে পৌরবাসীর সেবা করতে চান আনোয়ারুল ইসলাম কয়রায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ তারাকান্দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেক অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছাল নিহত বিএনপি নেতা অলিউল্লাহ মোল্যার বাড়িতে নড়াইলের লোহাগড়ায় জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

ব্যায়াম যখন মৃত্যুর কারণ

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট, ২০২৫

কিছু রোগ খুব নীরবে আসে। কিন্তু আঘাত করে প্রাণঘাতীভাবে। Arrhythmogenic Right Ventricular Cardiomyopathy (ARVC)—এমনই এক দুর্লভ হৃদরোগ, যা আমাদের অনেকের অজানাই থেকে যায়। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে যারা শরীরচর্চায় আগ্রহী। অনিয়ন্ত্রিত সহ্য ক্ষমতার অধিক ভারী ব্যায়াম ধীরে ধীরে হৃৎপিণ্ডের ডান পাশের পেশিগুলো চর্বি ও আঁশে রূপান্তর করে। যার ফলে হৃৎস্পন্দনের স্বাভাবিক ছন্দ বিঘ্নিত হয়। এর পরিণতি হতে পারে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু। আর যারা নিয়মিত ভারী ব্যায়াম বা সহ্য ক্ষমতার অধিক ভারী ব্যায়াম করেন, তাদের জন্য ঝুঁকিটা আরো বেড়ে যায় বা বিদ্যমান সমস্যাকে জটিল করে তুলতে পারে। সম্প্রতি বাংলাদেশের সংগীত ও বিনোদন অঞ্চলে এক মর্মান্তিক খবর আমাদের নাড়া দিয়েছে। জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘Owned’-এর ভোকাল এবং কিংবদন্তি অভিনেতা জসিমের ছেলে এ কে এ রাতুল অল্প বয়সেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। ওনার বয়স তখন ছিল মাত্র ৩০-এর ঘরে। ঘটনাটি ঘটেছিল ঢাকার উত্তরা এলাকার একটি জিমে। ব্যায়ামের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। প্রথমে তাকে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতাল, পরে লুবানা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে কোনো বিদ্যমান শারীরিক অসুস্থতার খবর জানা যায়নি। তবে এর পেছনে দীর্ঘমেয়াদি সহ্য ক্ষমতার অধিক ভারী ব্যায়াম এবং ARVC-এর মতো একটি লুকায়িত হৃদরোগ ভূমিকা রাখতেই পারে। নিচে endurance exercise (দীর্ঘস্থায়ী ভারী ব্যায়াম) এবং ARVC-এর মধ্যে সম্পর্কটি নিয়ে আলোচনা করা হলো।

Endurance Exercise ও ARVC-এর সম্পর্ক 

যাদের মধ্যে জেনেটিক মিউটেশন (যেমন : PKP2, DSG2 ইত্যাদি desmosomal জিনে) থাকে, তাদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে দীর্ঘস্থায়ী ভারী ব্যায়ামের প্রভাব যেমন হতে পারে—

  • রোগের উদ্ভব ত্বরান্বিত করে।
  • অ্যারিদমিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
  • Right ventricle (RV)-এর কার্যক্ষমতা হ্রাস করে

কারণ ব্যায়ামের সময় RV-তে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। কোষ নষ্ট হয়ে চর্বি ও আঁশ (fibrofatty) জমে ইলেকট্রিক অস্থিরতা ventricular arrhythmia সৃষ্টি করে।

ব্যায়ামজনিত ARVC

কিছু অ্যাথলেটের মধ্যে জেনেটিক সমস্যা না থাকলেও, দীর্ঘকালীন ভারী ব্যায়ামের ফলে দেখা যায় RV বড় হয়ে যায় (dilation) । কর্মক্ষমতা কমে যায়। PVC, VT-এর মতো ভেন্ট্রিকুলার অ্যারিদমিয়া হয়।

এটিকে Exercise-induced ARVC বা ARVC-এর মতো ছদ্মরোগ (Phenocopy ARVC) বলা হয়।

কীভাবে ব্যায়াম RV-কে ক্ষতিগ্রস্ত করে?

Right ventricle-এর প্রাচীর পাতলা, তাই endurance ব্যায়ামে বেশি wall stress পড়ে। বারবার প্রেশার ও ভলিউম ওভারলোড হয়। এতে fibrosis হয়, কোষ নষ্ট হয় এবং arrhythmia হয়।

গবেষণার ফল

অনেক elite endurance অ্যাথলেটের মধ্যে দেখা গেছে, বেশি PVC বা VT হয়। MRI-তে RV enlargement, fibrosis এবং Late Gadolinium Enhancement (LGE) পাওয়া যায়। যেসব রোগীর ARVC আছে, তাদের ক্ষেত্রে ব্যায়াম কমিয়ে দিলে রোগের অগ্রগতি ধীর হয়।

চিকিৎসা ও সচেতনতা

জেনেটিক ARVC ব্যায়ামে রোগের তীব্রতা বাড়ে। জেনেটিক না থাকলেও দীর্ঘ ব্যায়ামে ARVC-এর মতো উপসর্গ তৈরি হতে পারে। Athlete’s heart vs ARVC রোগ নির্ণয়ে ভিন্নতা বোঝা জরুরি। চিকিৎসার প্রয়োজনে ব্যায়াম সীমিত করা দরকার। ঝুঁকি হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট (VT/VF) হতে পারে ব্যায়ামের সময়।

সারসংক্ষেপ

দীর্ঘদিন ধরে ভারী ব্যায়াম genetic ARVC রোগীদের মধ্যে রোগের অগ্রগতি বাড়াতে পারে এবং স্বাভাবিক ব্যক্তিদের মধ্যেও ARVC-এর মতো পরিবর্তন আনতে পারে। Right ventricle অতিরিক্ত স্ট্রেসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে arrhythmia ও cardiac death পর্যন্ত হতে পারে। তাই ঝুঁকি নিরূপণ ও ব্যায়াম নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাতুলের ঘটনাটি আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। আমাদের প্রত্যেকের উচিত ভারী ব্যায়াম করার আগে একজন ভালো হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া। স্বাস্থ্যের যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো, বিশেষ করে যদি পরিবারের মধ্যে হৃদরোগের হিস্ট্রি থাকে। সচেতনতা ও সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমেই এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুঝুঁকি কমানো সম্ভব। লেখক : অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, কার্ডিওলজি বিভাগ সাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com