জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৭৬ সালের আজকের এই দিনে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (তৎকালীন পিজি হাসপাতাল) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসাবে সমধিক পরিচিত হলেও তিনি ছিলেন একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা। তিনি বৈচিত্র্যময় অসংখ্য রাগ-রাগিনী সৃষ্টি করে বাংলা সংগীত জগৎকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন।
কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে নানান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, দোয়া মাহফিল এবং আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বাংলাদেশ বেতার, টেলিভিশন ও বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে।
মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিও ভাই/যেন গোর থেকে মুয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাই’ মৃত্যুর পর কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়। তার রচিত ‘চল্ চল্ চল্’ গানটি আমাদের রণসংগীত। জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সকালে বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে জাতীয় কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।
জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কুমিল্লায় নানা কর্মসূচি: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ কবির স্মৃতিবিজড়িত কুমিল্লায় নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আজ বুধবার কবি নজরুল ইনস্টিটিউট, কুমিল্লা কেন্দ্রের উদ্যোগে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, হামদ-নাত পরিবেশনা, আবৃত্তি অনুষ্ঠান সহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
কবি নজরুল ইনস্টিটিউট, কুমিল্লা কেন্দ্র আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসাবে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. আমিরুল কায়ছার -এর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন কবি নজরুল ইনস্টিটিউট, কুমিল্লা কেন্দ্রের ইনস্টিটিউটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আল-আমিন।
কবি নজরুল ইনস্টিটিউট, কুমিল্লা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আল আমিন জানান, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার আলোচনা সভা, হামদ-নাত ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
এসব আয়োজনে স্থানীয় শিল্পীরা হামদ-নাত এবং ইনস্টিটিউটের আবৃত্তি বিভাগের প্রশিক্ষণার্থীরা আবৃত্তি পরিবেশন করবেন।