রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট কলেজের ইতিহাসে যোগ হলো আরো একটি সফলতার পালক। ‘মাদার তেরেসা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ এ ভূষিত হয়েছেন বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট কলেজ এবং বনফুল আদিবাসী ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট এর মাননীয় চেয়ারম্যান ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো। শত সহস্র অনাথ অসহায় শিশুর জন্য সুশিক্ষা, মেধাবীদের উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা, মোনঘর এবং বনফুলের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ার মাধ্যমে সমাজ সেবায় বিশেষ অবদানের জন্য তাকে এ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এটা এমন এক স্বীকৃতি যা বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট কলেজ পরিবারকে করেছে গৌরবাম্বিত ও আনন্দিত।
বিশিষ্ট বৌদ্ধ সন্ন্যাসী ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরোর ‘মাদার তেরেসা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ প্রাপ্তি উপলক্ষে বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট কলেজ ও বনফুল আদিবাসী ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট পরিবার আয়োজন করে এক প্রীতিময় সংবর্ধনা সভার। গত ২ সেপ্টেম্বর, সকলের প্রিয় মানুষ ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরোর সংবর্ধনা আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ।
অনাড়ম্বর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, ত্রিপিটক, গীতা ও বাইবেল পাঠ করা হয়। এরপর সিনিয়র সহকারী শিক্ষক পলিনা চাকমার পরিচালনায় জাতীয় সংগীত ও বরণ সংগীত পরিবেশন করেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। কলেজের রেক্টর প্রফেসর তরুণ কান্তি বড়ুয়ার সভাপতিত্বে সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদার তেরেসা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড-২০২৫ এ ভূষিত ভিক্ষু ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো। সভায় তার কর্মকৃতিত্ব ও বর্ণাঢ্য সন্ন্যাস জীবনের সুমহান জীবন-বৃত্তান্ত নিয়ে সারগর্ভ বক্তব্য তুলে ধরেন বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট কলেজের গভর্নিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি মোস্তাকীয়া মাহমুদা পারভীন। স্বাগত ভাষণে অধ্যক্ষ ড. সঞ্জয় কুমার ধর মহান মানুষ ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরোর জীবন আলোচনা করে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরোর মতো আলোকিত জীবনের আদর্শ ও কীর্তিকে অনুকরণীয় ও অনুস্মরণীয় করে রাখার জন্য সকল শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
সভাপতির ভাষণে রেক্টর প্রফেসর তরুণ কান্তি বড়ুয়া বলেন, প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরোর মূল্যায়ন আজকের দিনে সঠিকভাবে নিরুপণ করা সম্ভব না হলেও আমি নিশ্চিত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তার জীবনের সফলতা আরো বেশি করে প্রশংসিত ও মূল্যায়িত হবে। তিনি বলেন, সতীর্থ ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরোকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করা অবস্থায় খুব কাছ থেকে দেখে বুঝতেই পারতাম যে তিনি ভবিষ্যৎ দিনগুলোতে নিশ্চয়ই একজন বড় মানুষ এবং সমাজ সেবক হবেন। আজকের প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো কেবলই একজন ব্যক্তি নন, তিনি একটি প্রতিষ্ঠান। এই মহান ব্যক্তিটি প্রচার বিমুুখ হওয়ার কারণে এধরনের স্বীকৃতি প্রাপ্তি বিলম্বে ঘটলো। ‘মাদার তেরেসা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ প্রাপ্তি যেন তার জীবদ্দশায় আরো বড় বড় পুরস্কার প্রাপ্তির দারোন্মোচন করে-এমনটাই প্রত্যাশা রাখি।
মাদার তেরেসা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো বলেন, পুরস্কার প্রাপ্তিতে আমার সফলতা কতটুকু সার্থক তার মূল্যায়ন করবেন আপনারা শিক্ষকমণ্ডলী এবং আমার প্রাণাধিক প্রিয় শিক্ষার্থীরা। তিনি আরো বলেন, শৈশবে দারিদ্র্যতার সাথে সংগ্রাম করে বেড়ে উঠতে গিয়ে ছিন্নমূল হতদরিদ্র শিশু-কিশোরদের খুব কাছে থেকে দেখেছি। সেই থেকে তাদের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য নিবেদিত ছিলাম। অদ্যবধি সকলের মঙ্গলের জন্য কাজ করছি এবং আমার সামনে বসা শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠা এবং সফলতা দেখতে আমার আরো অনেক দিন বেঁচে থাকার ইচ্ছা।
সিনিয়র সহকারী শিক্ষক তাহমিনার সঞ্চালনায় প্রাণবন্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের শেষান্তে বক্তব্য রাখেন গভর্নিং বডির অন্যতম শিক্ষক প্রতিনিধি মো. জাকিদুল ইসলাম। সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট কলেজ পরিবারের প্রাণপুরুষ ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরোর প্রতি অশেষ শ্রদ্ধা। মো. জাকিদুল ইসলাম সংবর্ধনা সভার আয়োজনে সম্পৃক্ত সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং শিক্ষার্থীদেরকে এ মহৎ ব্যক্তিটির জীবনাদর্শকে স্মরণে রেখে নিজেদের উজ্জ্বল জীবন বিনির্মাণে ব্রতী হতে পরামর্শ দেন।