বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আগামী নির্বাচনে খুনী, চাঁদাবাজ ও মাস্তানদের সঙ্গে নতুন ভোটারদের লড়াই হবে। সুতরাং যে তরুণরা ফ্যাসিবাদকে বিদায় করেছে সেই তরুণরাই আগামীতেও দেশ পরিচালনার দায়িত্ব সঠিক হাতে দিতে ভুল করবে না। আগামী নির্বাচনে ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে তরুণরাই মানবিক ও সাম্যের নতুন বাংলাদেশ গড়বে। তিনি আরও বলেন, জামায়াত দেশ সেবার সুযোগ পেলে বেকারদের নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকার সমস্যার সমাধান করা হবে। আমাদের আমীরে জামায়াত মানবিক নেতা ডাঃ শফিকুর রহমান বলেছেন জামায়াত রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে আমরা শাসক নয় সেবক হক। এতদিন আমরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, সামনে আমাদের লড়াই হবে দূর্নীতির বিরুদ্ভে। একটি সুখী সমৃদ্ধ মানবিক বাংলাদেশ গড়তে যা করার সেই পরিকল্পনাই করবে। ডুমুরিয়া-ফুলতলার মূল সমস্যা জলাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এর মূল কারণ হলো বিল ডাকাতিয়া। সেই বিল ডাকাতিয়াকে নিয়ে মহাপরিকল্পনা করা হবে। শিক্ষার্থীরা পাশ করে বের হওয়ার সাথে সাথেই তাদের চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। যাদেরকে চাকরি দেওয়া যাবে না তাদেরকে বেকার ভাতা দেওয়া হবে। কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করা হবে। শুক্রবার বিকাল ৩টায় ফুলতলার স্বাধীনতা চত্বরে উপজেলা জামায়াত আয়োজিত ছাত্র ও যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। উপজেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল আলীম মোল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারি সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁন, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ জাহিদুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, খুলনা অঞ্চলের সহকারি পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, খুলনা মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন। উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন খানজাহান আলী থানা জামায়াতের আমীর ডাঃ সৈয়দ হাসান মাহমুদ টিটো। ফুলতলা উপজেলা সেক্রেটারী মাওলানা সাইফুল হাসান খাঁন ও খানজাহান আলী থানা সেক্রেটারী গাজী মোর্শেদ মামুনের পরিচালনায় সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মুন্সী মিজানুর রহমান, ডুমুরিয়া সনাতনী শাখার সভাপতি কৃষ্ণ পদ নন্দী, জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারী মুন্সী মঈনুল ইসলাম, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, প্রিন্সিপাল গাওসুল আযম হাদী, খুলনা মহানগরী জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারী অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ আজিজুল ইসলাম ফারাজী, জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি মোঃ ইউসুফ ফকির, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাষ্টার শেখ সিরাজুল ইসলাম, হাফেজ আমিনুল ইসলাম, এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্যা, যুব বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা আল মুজাহিদ, উপজেলা নায়েবে আমীর অধ্যাপক মাওলানা শেখ ওবায়দুল্লাহ, মাওলানা জুবায়ের হোসেন ফাহাদ প্রমুখ। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেন, জামায়াত দেশ শাসনের দায়িত্ব পেলে শুধু মুসলিম নয়, সকল ধর্মের মানুষ এমনকি নারীরাও সবচেয়ে বেশি মর্যাদাবান হবেন ইনশাআল্লাহ। ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, চব্বিশের জুলাই আমাদেরকে ফ্যাসিস্টমুক্ত, দুর্নীতি-চাঁদাবাজমুক্ত দেশ গড়ার স্বপ্ন শেখাতে পারেনি, কিন্তু কিভাবে আগামীর একটি নতুন বাংলাদেশ গড়া যায় সেটি শিখিয়েছে। সুতরাং তরুণ প্রজন্ম আগামী নির্বাচনে অন্তত: পূর্বের ভুল আর করবে না, যাতে আবারো কোন ফ্যাসিবাদের জন্ম বাংলাদেশে হয়। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, জামায়াতের আমীর ডাঃ শফিকুর রহমানের সবচেয়ে শক্তিশালী হাত মিয়া গোলাম পরোয়ারকে আমরা শুধু ডুমুরিয়া-ফুলতলার নয়, বরং দেশের একটি মডেল হিসেবে দেখতে চাই। তিনি বলেন, দেশ স্বাধীনের দীর্ঘ ৫৪ বছরেও জামায়াতের বিরুদ্ধে হিন্দুসহ অন্য সম্প্রদায়ের লোকদের ওপর নির্যাতন, বাড়ি দখলের কোন প্রমাণ কেউ দিতে পারেনি। কিন্তু আওয়ামীলীগ বিগত দেড় দশকে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে নানা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে। আজ তারা দেশছাড়া। এখনও যারা নানাভাবে জামায়াতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে আগামী নির্বাচনে দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতা তাদেরকে উচিত শিক্ষা দেবে ইনশাআল্লাহ।