মানবিক ইউএনও মাখন চন্দ্র সূত্রধর—এই নামটি এখন কমলগঞ্জবাসীর কাছে এক আস্থার প্রতীক। কখনও সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে মানুষকে সচেতন করছেন, কখনও ছুটে যাচ্ছেন হতদরিদ্র সাধারণ মানুষের পাশে। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চারটি দপ্তরের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন নিরলসভাবে। তাঁর প্রথম পরিচয়—তিনি জনবান্ধব ও মানবিক একজন প্রশাসক। জনপ্রতিনিধি না হয়েও তিনি আজ জনপ্রতিনিধির মতোই জনপ্রিয়। উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি একাধারে উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার প্রশাসক এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কাজপাগল মানুষ বলতে যা বোঝায়, তিনি তার জীবন্ত উদাহরণ। সকাল নয়টা থেকে রাত বারোটা পর্যন্ত নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ করা তাঁর নিত্যদিনের রুটিন। অনেক সময় গভীর রাত পর্যন্তও অফিসে কাজ করতে দেখা যায় তাঁকে।তিন দপ্তরের কাজের পাশাপাশি উপজেলার হতদরিদ্র, প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া তাঁর প্রতিদিনের কাজের অংশ হয়ে উঠেছে। ২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি তিনি কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বল্প সময়েই প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন। দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে হয়ে ওঠেন একজন মানবিক ও দক্ষ কর্মকর্তা।দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও জনসেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করেন। গত এক বছরে উপজেলা ও পৌরসভায় কয়েক কোটির টাকার উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে তাঁর নেতৃত্বে। জানা গেছে, যোগদানের পর থেকেই তিনি উপজেলায় অবৈধ বালু উত্তোলন, ইভটিজিং, মাদক, নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারসহ নানা অপরাধ দমনে কঠোর নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছেন। দ্রুত সরকারি বরাদ্দ জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ায় তাঁর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বেড়েছে বহুগুণে।স্থানীয়রা জানান, জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, মসজিদ, মন্দির ও মাদরাসায় সরকারি সহায়তা প্রদানে তাঁর ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে। সেবা নিতে আসা মানুষের অভিযোগ ও পরামর্শ তিনি দ্রুত সময়ে সমাধান করেন। এতে যেমন জনগণের ভোগান্তি কমেছে, তেমনি বেড়েছে প্রশাসনের প্রতি আস্থা । জুলাই–আগস্ট মাসে ভূমি ব্যবস্থাপনা পারফরম্যান্সে তিনি জেলার শ্রেষ্ঠ এসিল্যান্ড নির্বাচিত হন। যোগদানের পর থেকে তিনি ১৮টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে প্রায় ১২ লক্ষ টাকার বেশি জরিমানা আদায় করেন, যা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে।প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেও কাজ করে যাচ্ছেন। অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের জন্য নিয়মিতভাবে সহায়তা প্রদান করেন। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে ১০০ শতাংশ অর্জনে কাজ করছেন তিনি। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত এক বছরে তাঁর উদ্যোগে ‘মিট দ্য স্টুডেন্টস’ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরঞ্জাম বিতরণ, পরীক্ষার সময় নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণসহ অসংখ্য মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে। এছাড়াও বৃক্ষরোপণ, ক্লাইমেট মেলা, কৃষি মেলা, প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ, গাভি পালনের প্রশিক্ষণ ও স্বল্পসুদে ঋণ বিতরণসহ বহু উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।কমলগঞ্জ পৌরসভায়ও তাঁর নেতৃত্বে চলছে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার, রাস্তাঘাট ও কালভার্ট নির্মাণ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযানসহ নানা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম। ইউএনও মাখন চন্দ্র সূত্রধর বলেন,“বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক সেবা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমার কাজ। জনগণের সেবক হিসেবে সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। জলাবদ্ধতা নিরসনের মাধ্যমে অনাবাদী জমি চাষের আওতায় আনা আমার অন্যতম সফলতা বলে মনে করি। শিক্ষা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কাজ করছি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও উন্নতির পথে। ভবিষ্যতেও উন্নয়ন ও জনসেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই।