বাংলাদেশের “সোনালী আঁশ বা স্বর্ণসূত্র” পাট- এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষ হয় এই দেশেই। আর বাংলাদেশের মধ্যে পাট উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে ফরিদপুর জেলা, বিশেষ করে নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা। চলতি মৌসুমে এ দুই উপজেলায় পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজ আগেই শেষ করেছেন কৃষকরা। এখন চলছে বিক্রি ও বাজারে সরবরাহের ব্যস্ততা। কৃষকরা জানাচ্ছেন, এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে, দামও বেশ সন্তোষজনক -ফলে তারা লাভবান হয়েছেন। একই সঙ্গে পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ানোর দাবি তুলেছেন তারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাটচাষ ও পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি করলে পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব এবং পলিথিনজনিত দূষণও অনেকাংশে কমে আসবে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা ইতোমধ্যেই পাট শুকিয়ে বিক্রির জন্য স্থানীয় হাটবাজারে নসিমন ও ভ্যানে করে পাট নিয়ে যাচ্ছেন। ভালো দাম পাওয়ায় তারা বেশ আনন্দিত। নগরকান্দা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলার মাটি পাট চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা দিন দিন এ চাষে আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। শহীদনগর ইউনিয়নের ঈশ্বরদী গ্রামের পাটচাষি মাওলানা আব্দুল মান্নান বলেন, এই বছর পাঁচ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার টাকা। বিঘা প্রতি ফলন পেয়েছি ১২ থেকে ১৪ মণ। বিক্রি করেছি প্রায় ৪,২০০ টাকা দরে।
খরচ বাদে আয় হয়েছে প্রায় তিন লাখ টাকা। পাটকাঠিও পেয়েছি ১৪০ মণ, বিক্রি হচ্ছে মণ প্রতি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়। আগামী বছর আরও বেশি জমিতে পাট চাষের পরিকল্পনা করছি। একই গ্রামের রানা মাতুব্বর বলেন, ছয় বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি, সেই জমিতেই ধানও বুনেছি। ধানের ফলনও ভালো হয়েছেÍএ যেন বাড়তি পাওয়া। সালথা উপজেলার ইউনিয়নের মাঝারদিয়া গ্রামের পাটচাষী ছলে মান মাতুব্বর ছবু বলেন, এবছর আমি চার বিঘা জমিতে পাট করেছি, তাতে খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। ফলন পেয়েছি প্রায় ৩৫ মণ, বিক্রি করেছি মণ প্রতি প্রায় ৪ হাজার টাকা। পাটকাঠি পেয়েছি প্রায় ৪০ মণ। আগামী বছর আরও বেশি চাষের ইচ্ছা আছে। নগরকান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তিলোক কুমার ঘোষ বলেন, এ বছর নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় কৃষকেরা ‘রবি-১ মহারাষ্ট্র’ ও ‘জেআরও-২৪’ জাতের পাট চাষ করেছেন মোট ২৩ হাজার ৭৩৬ হেক্টর জমিতে। ফলন ও বাজারমূল্যÍদুই-ই সন্তোষজনক। পাটের এই সাফল্যে ফরিদপুরের কৃষক সমাজে বইছে সোনালী আশার হাওয়া।