প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ‘নির্বাচনের ট্রেনে উঠে গেছি আমরা।’ গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
সিইসি বলেন, ‘উনি (প্রধান বিচারপতি) আর তো থাকছেন না, এই মাসে উনি চলে (অবসরে) যাবেন। উই হ্যাভ ওয়াক টুগেদার, একসাথে কাজ করেছি।
শুধু উনার সাথে একটা ফেয়ারওয়েল কলের মতো, একটা কার্টেসি কল আছে না একটা? একটা ফেয়ারওয়েল কলটা করতে আসলাম উনার সাথে। অন্য কোনো বিষয় নেই।’
নির্বাচনের জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে ম্যাজিস্ট্রেট চেয়েছেন কি না, সহযোগিতা চেয়েছেন কি না?-এমন প্রশ্নের জবাবে নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি, যাতে উনারা (বিচারিক হাকিম) ডেপ্লয় করবেন—আমাদের শিডিউল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে, এই কাজটা যাতে ত্বরান্বিত করেন উনি; সেটা উনাকে রিকোয়েস্ট করেছি।’
সিইসি বলেন, ‘উনি জাস্ট ওই ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটিতে যে লোকজন দেয়ার কথা আছে, ডেপ্লয়মেন্ট আছে, ব্যবস্থা নিচ্ছেন এবং নেবেন। কোনো অসুবিধা হবে না—এইটা অ্যাশিউর করেছেন।’
তফসিল ঘোষণা: বুধবার বিটিভি ও বেতারকে ডেকেছে ইসি
এদিকে রেকর্ডের জন্য ১০ তারিখে ডাকা হয়েছে, তবে কোন সময় রেকর্ড হবে তা কমিশন জানিয়ে দেবেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা ও প্রচারের জন্য বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বেতারকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভাষণ রেকর্ড করতে ডাকছে নির্বাচন কমিশন। এ ভাষণ বুধবার রেকর্ড করা হবে বলে জানিয়েছে ইসি। সোমবার বিটিভি ও বেতারকে এ সংক্রান্ত চিঠি দেওয়া হচ্ছে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের ভাষণ রেকর্ডের জন্য বিটিভি ও বেতারকে ১০ তারিখে ডাকা হয়েছে। তবে কোন সময় রেকর্ড হবে তা কমিশন জানিয়ে দেবেন।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “বিটিভি ও বেতারকে চিঠি দিচ্ছে ইসি সচিবালয়। ভাষণের মাধ্যমে তফসিল হবে। ১০ ডিসেম্বর হতে পারে। আর তো সময় নেই, ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে তফসিল দিতে হবে। ভাষণ রেকর্ডের দিন দুপুরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও ইসির সাক্ষাতের সূচি রয়েছে।
সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন হওয়ার পর পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করতে পারবেন।
তিনি বলেন, আগামী ১০ ডিসেম্বরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বাংলাদেশ বেতারে একটা ভাষণ রেকর্ড করবেন। এখন রেকর্ডের বিষয়বস্তুটা এবং সময়টা এটা স্যার নির্ধারণ করবেন। কিন্তু একটা রেকর্ডিং হবে এটুকু আমার জানা আছে এবং সেটা আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।আর আরো দুটো বিষয় আছে। সেটা হচ্ছে যে আপনার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর যারা দেশের অভ্যন্তরে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। তারা তফসিল ঘোষণার থেকে ১৫ দিনের ভিতরে নিবন্ধন করবেন, যেন তারা তাদের নির্ধারিত ঠিকানায় আপনার পোস্টাল ব্যালটটা পেতে পারেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনের কার্যক্রমের সাথে সরাসরি যুক্ত হবেন যাদের ডেপ্লয়মেন্টটা পরে হবে। যেমন আপনার পাঁচ দিন অথবা সাত দিনের জন্য যাদের ডেপ্লয়মেন্ট তাদের নিবন্ধনটা পরবর্তীতে থাকবে। কিন্তু সরকারি চাকরিজীবী এবং যারা আইনি হেফাজতে আছেন তাদেরটা তফসিল ঘোষণার দিন থেকে ১৫ দিনের ভিতরে কমপ্লিট করতে হবে।
সাধারণত যেদিন রেকর্ড হয় ওই দিনই তফসিল ঘোষণা হয়- এমন বিষয় সামনে আনলে তিনি বলেন, আমি আপনাদেরকে বলেছি যে রেকর্ডিং এর বিষয়বস্তু এবং কখন করবেন এ সম্পর্কে আমার ধারণা নেই। আমি যখনই দেখুন আপনারা আমাকে জিজ্ঞাসা করেছেন ১০ তারিখে রেকর্ড করা হবে কিনা আমি বললাম যে হ্যাঁ হবে। রাষ্ট্রপতির কাছে সাক্ষাতের সময়টা জানানো হয়নি, আমি আশা করছি যে কালকে নাগাত জানানো যাবে।
সিভিল সার্ভিস এসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সাক্ষাতের বিষয়ে জানতে চাইলে-তিনি বলেন, তারা এসে আমাদেরকে জানিয়ে গেছে যে সিভিল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন থেকে যত টুকু সহযোগিতা প্রয়োজন তার থেকে বেশি ছাড়া কম করা হবে না।
নির্বাচনি পরিচালনা ম্যানুয়াল ছাপানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ম্যানুয়াল প্রিন্টিং এখনো হয়নি, তার কারণ হচ্ছে যে আমরা এখনো তিনটা বিষয় আইন মন্ত্রণলায়ের লেজিসলেটিভ ডিভিশন থেকে এখনো পাইনি। আরপিও লাস্ট অ্যামেন্ডমেন্ট যেটা নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা এবং রাজনৈতিক দল প্রার্থীর আচরণ বিধিমালার সংশোধনী এই তিনটা এখন আমরা হাতে পাইনি। এটা তিনটা পেলেই ম্যানুয়াল গুলো প্রিন্টিংয়ে দেওয়া যাবে।
নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের অবস্থানগতভাবে যে প্রস্তুতিটা ছিল তা চূড়ান্ত এবং আপনারা জানেন যে ভোটার তালিকা আমরা চূড়ান্ত করে লিংক দেওয়া হয়েছে উপজেলা পর্যন্ত, এখন সেই লিংক অনুযায়ী তারা কাজ করছেন। আর বাকিটুকু তো আরো কিছু কাজ আছে যেমন রেজিস্ট্রেশনের পরবর্তীতে আইসিপিভি (ইন কান্ট্রি ভোটিং) এবং আপনার ওসিভি (আউট কান্ট্রি ভোটিং) ওয়াটারমার্ক করে ভোটার তালিকাগুলোকে চূড়ান্ত করার এ কাজটা আরো পরে হবে।