‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা, আমরা তোমাদের ভুলব না’- এই চিরন্তন চেতনা ও গভীর শ্রদ্ধায় বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট কলেজে উদযাপিত হলো মহান বিজয় দিবস-২০২৫। দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিজয়ের ৫৪ বছর ও বীর শহীদদের স্মরণ করা হয়। পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠ এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে। এরপরই শুরু হয় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কলেজের রেক্টর প্রফেসর তরুণ কান্তি বড়ুয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ ড. সঞ্জয় কুমার ধর। তিনি তাঁর বক্তব্যে ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ শোষণ, বঞ্চনা ও সংগ্রামের ধারাবাহিক ইতিহাস শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন শিক্ষক প্রতিনিধি মোস্তাকিয়া মাহমুদা পারভীন। তিনি শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস হৃদয়ে ধারণ করার আহ্বান জানান। শিক্ষক প্রতিনিধি জাকিদুল ইসলাম বাচ্চু তাঁর বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে এই বিজয় অর্জিত হয়েছে। তবে বিজয় অর্জনের চেয়ে
তা রক্ষা করা কঠিন। তাই স্বাধীনতা অক্ষুণœ রাখতে আমাদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর তরুণ কান্তি বড়ুয়া আবেগপ্রবণ কণ্ঠে ১৯৭১ সালে তাঁর পিতা হারানোর স্মৃতি চারণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধেই ছিল ১৯৭১ সালের মূল লড়াই। তিনি ১৬ ডিসেম্বর পরবর্তী বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ ও শিক্ষার্থীদের করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। আলোচনা শেষে শুরু হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে শিক্ষার্থী হৃদি সাহা ও সহকারী অধ্যাপক নাসির আফজালের আবৃত্তি দর্শকদের মুগ্ধ করে। শিক্ষার্থী অন্তর দেবনাথের একক ও দলীয় সংগীত অনুষ্ঠানটিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কলেজের সিনিয়র শিক্ষক তাহমিনা। জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক স্মৃতিময়ী বসাক উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।