সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় পুলিশের অভিযানে ৩১টি ভারতীয় গরু,একটি ষ্টিল বডি নৌকাসহ ২ জনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে সুনামগঞ্জ সদর থানাধীন সুরমা নদী দিয়ে পাচারকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের অভিযানে জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে আসা অবৈধ গরুর চালানের ৩১টি ভারতীয় গরু এবং বহনকারী একটি ষ্টিল বডি নৌকাসহ ২ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হচ্ছেন জেলার দোয়ারাবাজার থানার নরসিংহপুর ইউনিয়নের নরসিংহপুর গ্রামের ছেরাগ আলীর ছেলে আনছার আলী(৩০) ও তার সহোদর আশিক মিয়া(২০)। জানা যায়, দেশের ভেতরে নিয়ে আসার পর চোরাকারবারীরা অবৈধ ৩১টি গরুর চালান নৌকাযোগে সুরমা নদী দিয়ে সুনামগঞ্জ হয়ে জামালগঞ্জের জয়নগর বাজার দিয়ে যাওয়ার পথে চোরাই গরুসহ নৌকাটি আটক করে সদর থানা পুলিশের একটি টহল দল। আটককৃত গরুগুলো পরে সন্ধা ৭ টায় স্থানীয় লঞ্চঘাট পুলিশ ফাড়িঁতে নিয়ে আসা হয়। সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি তদন্ত মোঃ আরিফ উল্লাহ, এসআই মাহমুদুল হাসান, এএসআই মোঃ খাদেমুল ইসলাম (খাদেম) সহ পুলিশ সদস্যরা এই অভিযানে অংশ গ্রহন করেন। আটককৃত গরুগুলো সনাক্ত করার জন্য কাস্টম অফিসার এবং প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের অবগত করে তাদের সমন্বয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান সদর মডেল থানার ওসি রতন শেখ। একই দিনে অপর এক অভিযানে সদর থানাধীন ১নং রঙ্গারচর ইউনিয়নের বল্লভপুর গ্রাম সংলঘœ ইট ভাটার পাশে ধান ক্ষেত হতে পরিত্যক্ত অবস্থায় ২ হাজার ৩০০পিছ ভারতীয় কাস্মীরি শাল চাদর, ১ শত ৩১ পিছ ইন্ডিয়ান শেরওয়ানি, ১০টি ওয়ানপিছ মেয়েদের ইন্ডিয়ান জামাসহ বিপুল পরিমান ভারতীয় পণ্য উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা জানান, জেলার সীমান্তবর্তী দোয়ারাবাজার উপজেলায় আইন শৃংখলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিনিয়ত ভারত থেকে অবৈধভাবে আমদানী করা গরু, মাদক ও কসমেটিকসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য দেশের ভেতরে নিয়ে আসে চোরাকারবারী সিন্ডিকেট। এসব তথ্য জানার পর অবৈধ চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আটককৃত মালামালসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে বলেও জানান সদর থানার ওসি মোহাম্মদ রতন শেখ।