কাল থেকে কয়েক বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করি। প্রত্যেকেরই মন খারাপ। কারণ একটাই- ওসমান হাদি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। সর্বশেষ কবে একজন রাজনৈতিক যুবা যোদ্ধার জন্য আমাদের মন এরকম খারাপ হয়েছিল, তা মনে পড়ে না। ওসমান হাদি অনন্ত অসীমের পথে যাত্রা করেছেন। তিনি জান্নাতের সুবাতাস গায়ে মেখেছেন। এমন বিদায় বড় ঈর্ষণীয়।
ইসলামের দৃষ্টিতে এমন বিদায় কোনো সাধারণ বিদায় নয়। এটি সেই বিদায়, যা দুনিয়ার সীমা পেরিয়ে আখিরাতের চিরস্থায়ী জীবনের সূচনা করে। কুরআন ও হাদিসে যাদের ‘শহীদ’ বলা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা সম্পর্কে আমাদের সুস্পষ্ট ধারণা দিয়েছেন।
শহীদরা মৃত নন- কুরআনের ঘোষণা
কুরআনের একটি আয়াত আমাদের শোকের ভাষাকে বদলে দেয়। আমরা যাকে হারানো বলি, আল্লাহ তাকে বলেন জীবিত। আল্লাহ তাআলা শহীদদের অবস্থান সম্পর্কে বলেন—‘যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তাদের কখনো মৃত মনে করো না বরং তারা জীবিত, তাদের রবের কাছে রিজিক প্রাপ্ত হয়।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ১৬৯)
শহীদদের বিশেষ জীবন ও আনন্দ
শহীদের জীবন দুঃখের নয় বরং আনন্দের। তারা দুনিয়ার সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হয়ে রবের সান্নিধ্যে পৌঁছে যান। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন—
‘আল্লাহ তাদের নিজ অনুগ্রহে যা দিয়েছেন, তাতে তারা আনন্দিত।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ১৭০)
শহীদের মর্যাদা এমন, যা জান্নাতের নেয়ামত দেখেও তাকে আবার কুরবানির পথে ডাক দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—
‘জান্নাতে প্রবেশকারী কেউই দুনিয়ায় ফিরে আসতে চাইবে না— যদিও পৃথিবীর সবকিছু তাকে দেওয়া হয়— শুধু শাহাদাত ছাড়া। শহীদ আবার দুনিয়ায় ফিরে এসে আল্লাহর পথে শহীদ হতে চায়।’ (বুখারি ২৮১৭, মুসলিম ১৮৭৭, মিশকাত ৩৮০৩)
শহীদের প্রথম পুরস্কার
শহীদের প্রথম পুরস্কার এমন ক্ষমা; যা বহু বছরের ইবাদতেও অনেকের নসিব হয় না। নবী (সা.) বলেন- শহীদের জন্য আল্লাহর কাছে ছয়টি পুরস্কার সুরক্ষিত রয়েছে—
১. যুদ্ধরত অবস্থায় তার রক্তের ফোঁটা মাটিতে ঝরা মাত্রই তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয় এবং তাকে জান্নাতের আবাসস্থল দেখানো হয়।
২. তাকে কবরের আজাব থেকে নিষ্কৃতি দেওয়া হয়।
৩. হাশরের ময়দানের মহাভীতি থেকে দূরে রাখা হয়।
৪. কেয়ামতের দিন) সম্মানজনকভাবে তার মাথায় ইয়াকুতের মুকুট পরানো হবে, যার মধ্যে খচিত একটি ইয়াকুত দুনিয়া ও তার সমস্ত ধন-সম্পদ থেকে উত্তম।
৫. সুন্দর বড় বড় চক্ষুবিশিষ্ট বাহাত্তর জন হুরকে তার সঙ্গিনীরূপে দেওয়া হবে।
৬. তার নিকটাত্মীয়দের মধ্যে সত্তরজনের সুপারিশ কবুল করা হবে। (তিরমিজি ১৬৬৩, ইবনু মাজাহ ২৭৯৯, মিশকাত ৩৮৩৪)
আমাদের করণীয়
ওসমান হাদির বিদায়ে আমাদের চোখ ভিজে আসে ঠিকই কিন্তু একজন মুমিন হিসেবে আমাদের হৃদয় আশাবাদী। আমরা জানি—
‘নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহরই এবং তার কাছেই আমরা ফিরে যাব।’ (সুরা বাকারা: আয়াত ১৫৬)
সুতরাং আমাদের দায়িত্ব হলো-
> শহীদদের জন্য দোয়া করা
> তাদের আদর্শ ও সাহস থেকে শিক্ষা নেওয়া
> ইনসাফ, সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকা
মনে রাখতে হবে, শহীদ চলে যান না- তারা কেবল দুনিয়ার ঠিকানা বদলান। ওসমান হাদি আমাদের মাঝে নেই কিন্তু তিনি হারিয়ে যাননি। তিনি আছেন সেই জীবনে- যেখানে মৃত্যু নেই, ক্লান্তি নেই, আছে শুধু রবের সন্তুষ্টি। আল্লাহ তাআলা তাকে শহীদদের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন এবং আমাদেরও সত্যের পথে অবিচল রাখুন। আমিন।