চিহ্নিত একটি কুচক্রী মহলের অপপ্রচার, গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্ন ঘটানোর মতো গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট কলেজের শিক্ষক শিক্ষিকাগণ। এক প্রতিবাদ লিপিতে তারা জানান, চিহ্নিত একটি কুচক্রী মহল গত কয়েক বছর থেকেই অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সমূহ ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। তারা কলেজের বিরাজমান শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার হীন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ঐ সকল কুচক্রীরা কলেজ গভর্নিং বডিতে অনৈতিকভাবে প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা করে এবং ব্যর্থ হয়। হীন উদ্দেশ্য সাধনে কোথাও সফল হতে না পেরে বর্তমানে তারা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি, রেক্টর ও অধ্যক্ষের নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে অপপ্রচার চালায়। এছাড়াও প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে হয়রানিমূলক চিঠি প্রদানের মাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার চালাচ্ছে।
প্রতিবাদ লিপির মতে, গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করা এবং মানহানিকর অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ইতঃপূর্বে অধিকাংশ শিক্ষকের স্বাক্ষরিত আবেদনের প্রেক্ষিতে এই চিহ্নিত মহলের বিরুদ্ধে কাফরুল থানায় দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। বর্তমানে যখন ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম চলছে ঠিক এমন সময় অর্থাৎ গত ২০ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে তারা কলেজের সীমানা দেয়াল এবং আশেপাশে কিছু আপত্তিকর পোস্টার সেঁটে দেয়। নৈতিকতার বিচারে যা অত্যন্ত হীন এবং বর্বরোচিত কাজ।
বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট কলেজের শিক্ষক শিক্ষিকাদের পক্ষ থেকে প্রেরিত প্রতিবাদ লিপিতে বলা হয়, ‘বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট কলেজ ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত একটি অত্যন্ত স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এবং শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে স্বীকৃত ও অনুমোদিত। ‘বনফুল আদিবাসী ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট’ এর উদ্যোগে এই কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৪ সালে। প্রতিষ্ঠানের স্বপ্নদ্রষ্টা প্রজ্ঞাবান বৌদ্ধ ভিক্ষু ও পঞ্চম সংঘরাজ ভদন্ত প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো; যার অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে ওঠা অনেক জনহিতকর প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এটি অন্যতম। কলেজের নামের সাথে ‘আদিবাসী’ শব্দটি যুক্ত থাকলেও জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে রাজধানীবাসী বিশেষত: মিরপুরবাসী মানুষের কাছে এটি একটি জনপ্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে অত্র এলাকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরাই এখানে বেশি পড়াশোনা করে এবং প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ শিক্ষক-কর্মচারীও মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত। কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, গভর্নিং বডির সদস্যবৃন্দ এবং আদিবাসী নেতৃবৃন্দ সবসময়ই কৃতজ্ঞ যে, স্থানীয় মুসলিম ভাইদের সার্বিক সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি সগৌরবে ও শৃঙ্খলার সাথে পরিচালিত হয়ে আসছে। ইতোমধ্যে এ বিদ্যায়তনটি শিক্ষা দীক্ষায় প্রাগ্রসর বহু সহস্র বাঙালি জনগোষ্ঠির মাঝে অবদান, অর্জন ও স্বীকৃতির সংশ্লেষণে পরম নির্ভরতার জায়গা সগৌরবে দখল করে নিয়েছে।’
প্রতিবাদ লিপিটিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট কলেজে কর্মরত সকল শিক্ষক এবং শিক্ষিকা এ ধরনের কাপুরুষোচিত ও হীন চক্রান্তের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা ও ধিক্কার জানাচ্ছি। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। আমাদের আশা, সুপ্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট কলেজের সুনাম রক্ষায় সম্মানিত অভিভাবকগণ, স্থানীয় সচেতন জনগণ যথাযথ ভূমিকা রাখবেন। সেই সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।’