নিকলীতে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্যে হাওরের ফসলি জমির টপসয়েল মাটি কেটে ধ্বংস করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। গত ১মাস ধরে এভাবেই দিবারাত্রি কৃষি জমির উর্বর মাটি কেটে পরিবেশের ভারসাম্য ধ্বংস করে দিচ্ছে। এতে পাশে থাকা ফসলি জমিগুলো হুমকির মুখে পড়ছে। এ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনকে একাধিকবার মৌকিক অভিযোগ দিলেও কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এলাকাবাসীর। উপজেলার গুরই ইউনিয়নের ৪নং ছেত্রা এলাকায় রাত হলেই ভোর পর্যন্ত একাধিক ভেকু দিয়ে শতাধিক ট্রাক দিয়ে কৃষি জমির উর্বর মাটি কেটে ইটভাটায় নিয়ে যায়।এতে এলাকার পরিবেশ ও ফসলি জমিগুলো ধ্বংসে রুপান্তরিত হচ্ছে। প্রশাসনের নিরব ভুমিকা নিয়ে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করেন। পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে কাজল মিয়া নামের এক ব্যক্তি সহ ৩১জনের গণ সাক্ষরে দুটি ইটভার মালিকের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দেন। প্রকাশ্যে ফসলি জমির মাটি কাটা নিয়ে যদিও প্রশাসন নিরব ভূমিকা কেন জানতে চাইলে অভিযান পরিচালনা করবেন বলে দায়সারা বক্তব্য দেন ইউএনও।তবে শুকনো মৌসুম আসলে মাটি কাটা নিয়ে উপজেলার কয়েকটি স্থানে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করা হলেও হঠাৎ প্রশাসনের নিরব ভূমিকায় সচেতন মহল নানান প্রশ্ন তোলেন। এ বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে শুকনো মৌসুমে ইটভাটার মালিকরা জমি মালিকদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে ধ্বংস করে দিচ্ছে।এতে পাশে থাকা জমিগুলো হুমকিতে পড়ছে।প্রশাসনকে মৌখিক অভিযোগ দিলেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। উল্টো অভিযোগ কারীদের নামে মাটিখেকোরা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে বলেও অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা মজুমদার মুক্তি মুঠোফোন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক আসলাম মোল্লার মুঠোফোনে একাধিক কল দিলে রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। উল্লেখ্যঃ ফসলি জমির মাটি কাটা বাংলাদেশে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’ এবং ‘কৃষি জমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার আইন’-এর অধীনে দ-নীয় অপরাধ, যেখানে টপসয়েল কাটা হলে ২ বছর পর্যন্ত কারাদ- ও ২ লক্ষ টাকা জরিমানা হতে পারে, এবং দ্বিতীয়বার একই অপরাধ করলে ১০ বছর পর্যন্ত জেল ও ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা বা উভয় দ- উল্লেখ রয়েছে। যা মূলত উর্বর মাটি রক্ষা ও কৃষি উৎপাদনশীলতা বজায় রাখার জন্য প্রণীত হয়েছে। কিন্তু আইন থাকলেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা প্রশাসন এমনটাই অভিযোগ এলাকাবাসীর। দ্রুত ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধ না হলে হাওরের ঐতিহ্যে হারিয়ে যাবে। পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবে এলাকার কৃষক।