বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম ::
খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত আত্রাই এলাকার উন্নয়নে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না-এমপি রেজু শেখ রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে অভিনেতা শামস সুমন ধামইরহাটে দল ও জনগণের সমর্থন পেলে পৌরবাসীর সেবা করতে চান আনোয়ারুল ইসলাম কয়রায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ তারাকান্দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেক অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছাল নিহত বিএনপি নেতা অলিউল্লাহ মোল্যার বাড়িতে নড়াইলের লোহাগড়ায় জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

পিরোজপুর-২ আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হোসেন এগিয়ে রয়েছে

নিয়াজ মোর্শেদ (স্বরূপকাঠি) পিরোজপুর
  • আপডেট সময় সোমবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২৬

রাজনীতির মাঠে কঠিন সমীকরণ শুরু হয়ে গেছে পিরোজপুর-২ আসনে। যদিও জাতীয় পার্টি জেপির চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নির্বাচন থেকে সরে দাড়িয়েছেন। ফলে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর ভোটের চাপ কিছুটা কমেছে। তারপরও বিএনপির মনোনীত চূড়ান্ত প্রার্থী আলহাজ্ব আহমেদ সোহেল মনজুর সুমন দারুণ বেকায়দায় পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও গত ০৩ জানুয়ারীর যাছাই বাছাইতে প্রাথমিক ভাবে বাদ পড়েন বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পাওয়া মাহমুদ হোসেন। সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ক্রয় করেন জননন্দিত নেতা কর্মী বান্ধব মাহমুদ হোসেন।বিএনপির কঠিন দুঃসময়ে দলে যোগ দিয়ে দারুণ প্রশংসা পেয়েছে মাহমুদ হোসেন। চমৎকার ইমেজ রয়েছে নেছারাবাদ সহ কাউখালি ও ভান্ডারিয়া উপজেলার মধ্যে। আর সেই কারনে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব আহমেদ সোহেল মনজুর সুমনের ভয় কাজ করে। নইলে মনোনয়ন বাদ হওয়ার সাথে সাথে দারুণ খোশমেজাজে ছিল বিএনপির প্রার্থী সুমন মনজুর। পিরোজপুর জেলা ডিসি অফিস কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময়ে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব আহমেদ সোহেল মনজুর সুমন ভদ্রতার পরিচয় দেয়নি। সকল প্রার্থীর সাথে কুশল বিনিময় করলেও ইচ্ছে করে অহমিকা ও কঠিন দাম্ভিকতা দেখিয়ে সুকৌশলে এড়িয়ে চলে যায়। সান্ত¡না না দিক কিন্তু আলাপ চারিতা না হোক কিন্তু সামাল হাতও মেলায়নি সুমন মনজুর। আসলে বিএনপির প্রার্থীর মনে ভয় ধরেছিল কিন্তু সতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হোসেনের মনোনয়ন বাদ হওয়ার সাথে সাথে দেমাগ বেড়ে যায় বিএনপির প্রার্থীর। উপস্থিতি সকলের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ভদ্রতার পরিচয় দিতে শতভাগ ব্যার্থ বিএনপির প্রার্থী সুমন মনজুর। আর সেই ঘটনা নিয়ে সমগ্র জেলা সহ সমগ্র বাংলাদেশের মধ্যে নানান প্রশ্ন উঁকি ঝুঁকি দিচ্ছে সর্ব মহলে। ক্ষমতায় আসেনি অথচ মনোনয়ন যাচাই বাছাইর সময়ে এত কিছু !! এদিকে মনোনয়ন পাওয়ার আগে ভাগেই বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়া সহ ইলেকট্রনিকস মিডিয়া কর্মীরা নির্বাচনী মাঠ জরিপে অংশ নেয়। গত এক সপ্তাহ ধরে নেছারাবাদ উপজেলায় স্বরূপকাঠি পৌরসভার পাশাপাশি দশটি ইউনিয়নের সাধারণ ভোটারদের সাথে জরিপে অংশ নেয়। জরিপে প্রায় উনত্রিশ হাজার নয়শো পুরুষ মহিলারা সক্রিয় ভাবে অংশ নেয়। অবশ্য জরিপে কলেজ পড়ুয়া ছেলে মেয়েরা বেশি সক্রিয় ছিল। অপরদিকে মহিলা ভোটাররা সতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ শামীম সাঈদীর পক্ষে বেশি রায় দেয়। জরিপ পরিচালনা করার সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারাও অংশ নেয় বলে জানান। দলমত নির্বিশেষে সকলকেই সহমত পোষণ করেন, পিরোজপুর-২ আসনে কঠিন নির্বাচন হবে। যদিও মাহমুদ হোসেনের মনোনয়ন প্রাথমিক ভাবে বাদ পড়েছে। অবশ্য আপিল করার সুযোগ রয়েছে বলে সতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হোসেন গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন। আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে বরিশাল বিভাগের প্রতিটি উপজেলা ও জেলায় নির্বাচনী মাঠ জরিপ পরিচালনা করবেন দলমতের উর্ধ্বে থেকে। যদিও এবারের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশ গ্রহণের যোগ্যতা না হওয়ার কারনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে স্নায়ু যুদ্ধ শুরু হয়েছে ইতিমধ্যে। অবশ্য বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে জামায়াতে ইসলামী দল একক ভাবে জয়ী হওয়ার প্লাটফর্ম তৈরী করতে সক্ষম হয়নি এখনো । বরং বিগত ১৯৯১ সালে বিএনপির সাথে জোট করে ক্ষমতার স্বাদ গ্রহণ করেন। সেই সময়ে জামায়াতে ইসলামীর ১৮ আসন নিয়ে বিএনপির সাথে সম্পৃক্ত ছিল। মন্ত্রীও পেয়েছিল জামায়াতে ইসলামী দল। কিন্তু সাবেক বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার কূটকৌশলী রাজনীতির ফাঁদে পড়ে জামায়াতে ইসলামী দল বিএনপি থেকে ছিটকে পড়েন। রাজনৈতিক লোভে পড়ে হুটহাট করে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত শুরু করেন ধর্মের লেবাসে। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের সাথে জোট বেঁধে নির্বাচনে অংশ নেয়। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে ভোটাররা দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয় ভোটের মাধ্যমে। শোচনীয় ভাবে পরাজিত হয় জামায়াতে ইসলামীর। সেই সময়ে বিএনপির সরকার গঠন করেন দ্বিতীয় বারের মতো। আর সেই কারনে বিএনপির সাথে জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে রাজনৈতিক বৈরিতা শুরু। যদিও জামায়াতে ইসলামী বরাবরই বিএনপির মতো খাঁটি দেশপ্রেমিক দলের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধির মধ্যে ছিল। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের গড়া দল বিএনপি। বরাবরই বিএনপির প্রধান উক্তি ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ। ভারত আমাদের বন্ধু হতে পারে কিন্তু প্রভু নয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়োপযোগী বক্তব্য দেশপ্রেমের পরিচয় দেয়। আর সেই কারনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে রাজনৈতিক বিচার বিশ্লেষণের মধ্যে বহুত তফাত রয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য প্রতিবেশী দেশ ভারতের দালালি সহ তোষামোদি রাজনীতির পক্ষে। কিন্তু বিএনপির রাজনীতির ধরণ পুরো উল্টো ধারায় প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে এতোকিছুর পরেও এবারের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হবে কঠিন এবং ইতিহাস সাক্ষী রেখে। আর সেই সূত্র ধরেই বরিশাল বিভাগের মধ্যে পিরোজপুর-২ আসনের নির্বাচনে বদলে যেতে পারে তিনটি আসনের। যদিও পিরোজপুর-২ আসনের জনমত জরিপে ৫৬% ভোটারদের মতামত হলো সতন্ত্র প্রার্থী কিংবা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় নিশ্চিত হতে পারে। ৫২% ভোটাররা সরাসরি জরিপে অংশ নেয় এবং স্পষ্ট মন্তব্য করার সাহস দেখাতে সক্ষম হয়েছে। বিএনপি বিপুল ভোটের মাধ্যমে বিজয় নিশ্চিত হবে। এদিকে ৩৭% ভোটাররা সরাসরি মতামত জামায়েতে ইসলামির পক্ষে। মজার বিষয় জনমত জরিপে উড়তি বয়সের তরুণ প্রজন্মের ভোটাররা জমজমাট নির্বাচন চায়। আর সেই সূত্র ধরেই জরিপে তরুণ ভোটাররা বলেন, বি এন পির প্রার্থী আলহাজ্ব আহমেদ সোহেল মনজুর সুমন বিগত সময়ে নেছারাবাদ উপজেলায় আহমরি জনপ্রিয় ছিল না। এমনকি নিজ এলাকা ভান্ডারিয়াও ইমেজ সংকট রয়েছে। তবে সতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হোসেন বিএনপির কঠিন দুঃসময়ে দলের কান্ডারী হিসেবে উপস্থিত হয়েছে। দলের নির্দেশনা অনুযায়ী সমগ্র ভান্ডারিয়া সহ নেছারাবাদ ও কাউখালি উপজেলাকে মডেল হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। জরিপে বলদিয়া ইউনিয়ন সহ সোহাগদল ইউনিয়নের ৫৬% ভোটাররা সতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হোসেনের পক্ষে মতামত প্রকাশ করেন। যদিও ৪০% ভোটাররা জরিপে বলেন দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। যদিও প্রার্থী শতভাগ যোগ্য নয়। বরং মতামতে বলেন, বিএনপির প্রার্থী কর্মী বান্ধব নয় বরং রাজনৈতিক ব্যাবসায়ী। অবশ্য ৩১% ভোটাররা বলেন শতভাগ নিশ্চিত বিএনপি পিরোজপুর-আসন থেকে পরাজিত হবে। ১৩৩% ভোটাররা জরিপে বলেন স্থানীয় কোন্দলের কারণে বিএনপি প্রার্থী শতভাগ হারার মুখে পড়ার সম্ভাবনা। স্বরূপকাঠি পৌরসভার মধ্যে ৪৯% ভোটাররা বিএনপির প্রার্থী সুমন মনজুরকে নিয়ে দারুণ খোশমেজাজে। এদিকে স্বরূপকাঠি সদর ইউনিয়ন সহ সুটিয়াকাঠী ইউনিয়ন, সারেংকাঠী ইউনিয়ন, সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের ৫৫% ভোটাররা জরিপে বলেন কঠিন নির্বাচন হবে। কে জিতবে কিংবা হারবে তাও বলা মুসকিল। অবশ্য ৫১% ভোটাররা বলেন জামায়াতে ইসলামী দল ও সতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হোসেনের কারনে নিশ্চিত পরাজয়ের স্বাদ গ্রহণ করবে। এদিকে মাদ্রাসার ছাত্র সহ মসজিদের এমাম-মোয়াজ্জেমরা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে মতামত প্রকাশ করেন। প্রাইমারি স্কুল শিক্ষক সহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ও কলেজ শিক্ষকরা জরিপ এড়িয়ে চলেন। নাম মাত্র বলেন, পিরোজপুর-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী কিংবা সতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হোসেনের বিজয় হওয়ার সম্ভাবনা। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী প্রাথমিক জনমত জরিপে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়েছে ভোটারদের মতামতে। বেশির ভাগ ভোটাররা বলেন সতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হোসেন যদি নির্বাচন করতে সক্ষম হয় তাহলে জয়ের পালা মাহমুদ হোসেনের পক্ষে। দলমত নির্বিশেষে যদিও প্রাথমিক ভাবে মনোনয়ন বাতিল হয়েছে মাহমুদ হোসেনের। যদিও আপিলে সতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হোসেন চূড়ান্ত ভাবে টিকে যাওয়ার পক্ষে ৭৪% ভোটাররা মতামত প্রকাশ করেন। আজকের নিউজ প্রকাশ হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে সর্বশেষ তথ্য সতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হোসেনের আপিলে চূড়ান্ত ভাবে টিকে রয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-২ আসনে সতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হোসেন নির্বাচনী মাঠে রয়েছে।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com