মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:১৪ অপরাহ্ন

ভোলা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী দৌলতখান-বোরহানউদ্দিনের প্রিয়নেতা  হাফিজ ইব্রাহিমের প্রার্থিতা বৈধ

ইকবাল হোসেন:
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬
ভোলা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী দৌলতখান-বোরহানউদ্দিনের প্রিয়নেতা  হাফিজ ইব্রাহিম

 

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ফজলুল হকের আবেদন খারিজ 

ভোলা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিমের প্রার্থিতা বৈধ নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে তার নির্বাচন করতে আর কোন বাধা নেই। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ফজলুল হকের আবেদন খারিজ। ১০ জানুয়ারি শুরু হওয়া আপিল শুনানির শেষ দিন ছিল গত ১৯ জানুয়ারি। এদিন ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি ও রায়ের দিন ধার্য ছিল। শেষ দিন আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন ২১ জন। আর প্রার্থিতা হারিয়েছেন বিএনপির দুজন। এর মধ্যে ঋণখেলাপি হওয়ায় চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির সারোয়ার আলমগীর এবং দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করে ইসি। এর আগে গত শনিবার কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিল করেছিল ইসি। রিটার্নিং কর্মকর্তার বাছাইয়ে তাঁদের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছিল।
এর বাইরে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে বেশ কয়েকজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপিল হলেও সবার মনোনয়নপত্র বহাল রেখেছে ইসি। আপিল শুনানি শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেছেন, ইসি কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব করে সিদ্ধান্ত দেয়নি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এবার মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এর মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার বাছাইয়ে ৭২৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের (মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের) বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করার সুযোগ ছিল। নির্ধারিত সময়ে মোট ৬৪৫টি আপিল ইসিতে জমা পড়ে।
ইসিতে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন মোট ৪১৭ জন। আর রিটার্নিং কর্মকর্তার বাছাইয়ে বৈধ হলেও আপিলে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ৬ জনের। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হবে।
দৌলতখান-বোরহানউদ্দিনের প্রিয়নেতা হাফিজ ইব্রাহিম
পরীক্ষিত জননেতা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক এমপি আলহাজ মোঃ হাফিজ ইব্রাহিমের পক্ষে দৌলতখান-রোবহানউদ্দিনে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি এরআগে বিপুল ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য থাকাকালে এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেছেন। দল-মত,ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার কল্যাণে আত্মনিবেদিত জননেতা আলহাজ মোঃ হাফিজ ইব্রাহিমের সেই অবদান এলাকার আপামর জনগণ ভুলে যায়নি, তারই প্রমাণ এবারের ভোটের মাঠে দেখা যাচ্ছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোলা-২ (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন) আসনে এবারের নির্বাচনে ৫ জন প্রার্থী থাকলেও এবারে ভোটের মাঠে আলোচনায় রয়েছে বিএনপি ও জামায়াত। এ আসনে লড়বেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ মোঃ হাফিজ ইব্রাহিম ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা ফজলুল করিম। নির্বাচনী ব্যালট ভোটে লড়াই হতে পারে এই দুই প্রার্থীর মধ্যে।
গত ১৭ বছর এক দলীয় শাসন ব্যবস্থার অধিনে অনুষ্ঠিত সবকয়টি জাতীয় নির্বাচনে অধিকাংশ ভোটার ভোট দিতে পারে নাই। ফলে সাধারণ ভোটাররা তাদের পছন্দ মত প্রার্থী বেছে নিতে পারেনি।
যতই দিন যাচ্ছে সরগরম হয়ে উঠছে ভোলা-২ আসনের ভোটের মাঠ। ভোটের সমীকরণে এখনও শক্ত অবস্থানে বিএনপির হেভিয়েট প্রার্থী বিএনপি’র ধানের শীষ প্রতীকের আলহাজ্ব হাফিজ ইব্রাহিম। তার উপরেই আস্থা রাখতে চায় সাধারণ ভোটাররা। মাঠ পর্যায়ে ভোটারদের সাথে আলোচনা ও স্থানীয় জনমতে বিশ্লেষণে ভোটের হিসাব নিকাশে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিম এগিয়ে রয়েছেন বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, দীর্ঘ ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকারের মামলা হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েও জনগণ ও নেতাকর্মীদের ছেড়ে যায়নি হাফিজ ইব্রাহিম। নেতাকর্মীদের দুর্দিনে জেলে বসেও এলাকার খোঁজ খবর রেখেছেন তিনি। আওয়ামী ফ্যাসিবাদীদের মামলা হামলা আর অত্যাচারে নেতাকর্মীরা যখন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন, তখনও তাদের পরিবারগুলোর খোঁজ খবর রেখেছেন তিনি। এলাকায় সক্রিয় রাজনৈতিক ভূমিকা, দৌলতখান-বোরহাউদ্দিন এ তার উন্নয়নের ভূমিকা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং অতীত সংসদীয় অভিজ্ঞতার কারণে হাফিজ ইব্রাহিমের প্রতি ভোটারদের একটি শক্ত সমর্থন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা তুলনামূলকভাবে বেশি।
বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান উপজেলার একাধিক এলাকায় বিএনপির কর্মীসভা, গণসংযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতায় উল্লেখযোগ্য জনসমাগম দেখা গেছে। এতে করে ভোটের মাঠে হাফিজ ইব্রাহিমের অবস্থান আরও শক্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক আব্দুল মালেক মাষ্টার বলেন, ভোলা-২ আসনে ভোটাররা এবার অভিজ্ঞ ও মাঠে সক্রিয় নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। সে বিবেচনায় ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক এমপি হাফিজ ইব্রাহিম জনমতের দিক থেকে অন্যদের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছেন।
অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় রয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা ফজলুল করিম। এ আসনে সাংগঠনিক দিক থেকে জামায়াতের অবস্থান ততএকটা মজবুত না থাকলেও ভোটের মাঠে মহিলা ভোটারদের ও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ভোটব্যাংকের উপর টার্গেট করেই নির্বাচনের মাঠে প্রচার প্রচারণায় রয়েছেন তারা। শেষ মুহূর্তে ভোটের মাঠে বিএনপির তৃণমূলের ভোটাররা ধানের শীষের পক্ষে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব হাফিজ ইব্রাহিমকে বিজয়ী করতে আটঘাট বেধেই নামবেন বলে জানিয়েছেন এ রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, উন্নয়নপ্রত্যাশী ভোলা-২ আসনের জনগণ ভোটের মাঠের হিসাব নিকাশ ভাল করেই বুঝে। আর এ কারণেই ভোটের লড়াইয়ে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেন বিএনপি’র প্রার্থী আলহাজ্ব হাফিজ ইব্রাহিম।
দৌলতখান উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোঃ মশিউর রহমান লিটন বলেন, আলহাজ্ব হাফিজ ইব্রাহিম ২০০১ সালে এমপি নির্বাচিত হয়ে প্রথমে শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে তার নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এ আসনের প্রধান সমস্যা নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে শহর রক্ষা বাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে বিশাল জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এছাড়াও যোগাযোগ ক্ষেত্রে রাস্তাঘাট উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে তার। দিনমজুর থেকে শুরু করে সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষ তাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক সমস্যা নিয়ে সরাসরি তার সাথে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন এবং এখনও পাচ্ছেন। এসকল বিষয় বিবেচনায় রেখেই এই নির্বাচনে তার উপর আস্থা রাখতে চান সাধারণ ভোটাররা।
বোরহানউদ্দিন উপজেলার নাজমুল হোসাইন তালুকদার নামের এক সাধারণ ভোটার ভোটের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, এলাকার উন্নয়নের জন্য জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে জোর গলায় কথা বলার মতো হাফিজ ইব্রাহিমই একমাত্র যোগ্য প্রার্থী। সুতরাং এই আসন থেকে তাকেই আমাদের বিজয়ী করা প্রয়োজন।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com