শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
সিলেটে ১৭ ঘণ্টা পর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক পাইকগাছায় গণঅভ্যুত্থানে পালিয়ে যাওয়া দুই চেয়ারম্যানের প্রশাসনিক ক্ষমতা ফিরে পেতে আবেদন: ঝাড়ু মিছিল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মেয়ে ও শিশু সন্তানকে বাঁচাতে বাবা-মায়ের আকুতি জাতি হারাল আর ও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা মিরসরাইয়ে এমটি-ইপিআই কবির হোসেনের দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন লোহাগাড়ায় ইট ভাটায় অভিযান, ৩০ লাখ টাকা জরিমানা চৌদ্দগ্রামে পানি সেচ পাম্প নিয়ে দ্বন্দ্বের বলি কৃষকের সরিষা ক্ষেত ও বীজতলা! সরকারি জায়গায় হতে মাটি বিক্রির অভিযোগ কোম্পানীগঞ্জে জ্বালানি তেল সংকটে দীর্ঘ লাইনে চরম ভোগান্তিতে জনসাধারণ মৎস্য রক্ষায় কঠোর অভিযান: নাসিরনগরে ১০ লাখ টাকার জাল জব্দ, অতঃপর আগুনে ধ্বংস

মেয়ে ও শিশু সন্তানকে বাঁচাতে বাবা-মায়ের আকুতি

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬

কুড়িগ্রামে জন্ম থেকে হার্টের ফুটো ও ভাল্ব সমস্যায় আক্রান্ত মেয়েকে বাঁচাতে চিকিৎসার অর্থ সংগ্রহ করতে না পেরে এক বাবা-মায়ের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছে পরিবেশ। অসুস্থ্য মেয়ের দশ মাস বয়সী শিশু সন্তান মায়ের বুকের দুধ ঠিকমতো না পাওয়ায় সেও রয়েছে ঝুঁকিতে। ফলে সন্তান ও নাতীর ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে পরিবারটির। দিনমজুর পরিবারটির সম্বল বলতে মাথা গোঁজার ১৪ শতক জমি। সেই জমির দুই শতক বিক্রি করে এতদিন মেয়ের চিকিৎসা করা হয়েছে। এখন চিকিৎসকগণ মেয়ে ও তার সন্তানের নিরাপত্তার জন্য দ্রততম সময়ে অপারেশন করতে পরামর্শ দিয়েছেন। এতে তার খরচ পরবে প্রায় ৬ লাখ টাকা। এত টাকা পাবে কোথায় এই হতদরিদ্র পরিবারটি। টাকার অভাবে ভাঙ্গা টিনের চাল মেরামত করতে না পারায় বৃষ্টিতে ভিজে রাত কাটছে তাদের। ঘর মেরামত করতে যাদের হিমসীম অবস্থা, তারা মেয়ে সন্তানের চিকিৎসা করাবেন কিভাবে। এমন পরিস্থিতিতে সহ্নদয়বান ব্যাক্তিদের সহযোগিতা চেয়েছেন পরিবারটি। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ উমানন্দ জামিরবাড়ি আদর্শপাড়া গ্রামের দিনমজুর পরিবার রাজু মিয়া ও আমেনা বেগমের ৩য় সন্তান আখিমনি(১৮)। প্রায় আড়াই বছর পূর্বে পাশর্বর্তী কাসিমবাজার গ্রামে দর্জি সুজন মিয়ার সাথে বিয়ে হয় আখিমনির। বাল্যবিয়ের শিকার আখিমনি জন্মের পর থেকেই হার্টের ছিদ্র সমস্যায় ভুগছিল। এরপর সন্তান জন্ম নেয়ার পর তার হার্ট ও ভাল্বের সমস্যা আরও খারাপ দিকে মোড় নেয়। অসুস্থ্য মেয়েকে প্রথমে কুড়িগ্রামে পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর কিছুটা সুস্থ্য হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ঢাকার গ্রীন লাইফ মেডিকেল কলেজ ও হার্ট সেন্টারে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসকরা তার হার্টের অপারেশন দ্রুত করার জন্য পরামর্শ দেন। এজন্য চিকিৎসায় প্রায় ৬ লক্ষ টাকা। গত দেড় মাস পূর্বে এই পরামর্শ দেয়া হলেও টাকার অভাবে আখিমনির চিকিৎসা আটকে আছে। প্রতিবেশীরা জানান দিন যত যাচ্ছে শিশুটি মায়ের বুকের দুধ তত পাচ্ছে না। আমরা যতটুকু পেরেছি সহায়তা করেছি। এখন তার চিকিৎসায় অনেক অর্থের প্রয়োজন যা গ্রামবাসীর পক্ষে সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। এখন বিত্তবানরাই পারেন এই শিশু সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে তার মায়ের চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়াতে। রাজু মিয়ার ছোট ভাই মো. সাজু মিয়া জানান, আমার ভাইয়ের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। ভাঙ্গা টিনের ঘরে বৃষ্টিতে ভিজে রাত কাটাচ্ছে তারা। যাদের ঘর করার টাকা নেই, তারা কিভাবে মেয়ের চিকিৎসা করাবে। গ্রামবাসী কিছুটা সহযোগিতা করেছে। এখন অনেক টাকার দরকার যা গ্রামবাসীর পক্ষে সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। বর্তমানে তারা খুবই কষ্টে আছে। আখিমনির মা আমেনা বেগম কাঁদতে কাঁদতে জানান, আমার মেয়েটা খুবই অসুস্থ্য। খাবার খেতে পারে না। ঠিকমতো নি:শ^াস নিতে পারে না। প্রচন্ড বুকের ব্যাথায় যখন কুকড়ে যায়, তখন মেয়ের দিকে তাকাতে আমার আত্মা ফেঁটে যায়। আমাদের কোন কর্ম নাই যে মেয়ের চিকিৎসা করাবো। যা টাকা ছিল সব শেষ। এখন আপনারা সহযোগিতা না করলে মেয়েটাকে বাঁচাতে পারবে না। আখিমনির বাবা রাজু মিয়া বলেন, মেয়েকে নিয়ে আমি খুব টেনশনে আছি। বাড়িভিটার দুই শতক জমি বিক্রি করেছি। সেই টাকা দিয়ে চিকিৎসা করতে টাকা শেষ হয়ে গেছে। কামলা খাটা মানুষ। এখন অপারেশন করার টাকা পাচ্ছি না। ছোট্ট বাচ্চাটার ভবিষ্যতের জন্য আমার মেয়েটার সুস্থ্য হওয়া দরকার। কিন্তু এত টাকা কোথায় পাবো। আপনারা যদি সবাই মিলে সাহায্য করেন তাহলে মেয়েটা ও তার বাচ্চাটাকে বাঁচাতে পারবো। ক্লান্ত বিধ্বস্ত আখিমনি জানায়, আমার বাচ্চাটার জন্য আমি বাঁচতে চাই। আমি সম্পূর্ণভাবে সুস্থ্য হতে চাই। আমার বাবার সামর্থ নাই আমার চিকিৎসা করার। স্বামীরও আর্থিক সামর্থ নাই। সামর্থবান মানুষ যদি একটু সাহায্য করে তাহলে আমি বাচ্চাটার জন্য বাঁচতে পারবো।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com