শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম ::
খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত আত্রাই এলাকার উন্নয়নে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না-এমপি রেজু শেখ রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে অভিনেতা শামস সুমন ধামইরহাটে দল ও জনগণের সমর্থন পেলে পৌরবাসীর সেবা করতে চান আনোয়ারুল ইসলাম কয়রায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ তারাকান্দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেক অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছাল নিহত বিএনপি নেতা অলিউল্লাহ মোল্যার বাড়িতে নড়াইলের লোহাগড়ায় জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

বিএনপি সরকারে আসলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে : তারেক রহমান

শাহজাহান সাজু:
  • আপডেট সময় সোমবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬
বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি : বাসস

আগামীতে বিএনপির সরকারে আসলে যে কোনো মূল্যে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে বলে ঘোষণা করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, অতীতে প্রমাণ হয়েছে বিএনপির পক্ষেই একমাত্র সফলভাবে যে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, সেটি হলো দুর্নীতি। এ দেশের মানুষের কাছে দুটি বিষয়ই হচ্ছে বিএনপির কমিটমেন্ট। একটা হচ্ছে দূর্নীতি প্রতিরোধ আরেকটা হচ্ছে মানুষের নিরাপত্তা।তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা হবে- আইন সবার জন্য সমান। অপরাধের পরিচয় কোনো দল নয়, অপরাধীই অপরাধী। দুর্নীতি যে করুক, যারাই করুক, তাদের বিরুদ্ধে দেশের আইন একইভাবে প্রযোজ্য হবে।
গতকাল রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, যত পরিকল্পনা গ্রহণ করি, এগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে দুটি বিষয় কড়াকড়িভাবে নজর দিতে হবে। একটি হলো, মানুষের নিরাপত্তা। যাতে করে মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে। অতীতে বিএনপি যখন দেশ পরিচালনা করেছে, আমাদের কেউ অন্যায় করলেও, আমরা ছাড় দিইনি। আগামীতে সরকারে গেলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
আরেকটি বিষয়টি হচ্ছে দুর্নীতি। এটা যদি আমরা নিয়ন্ত্রণ না করি, তাহলে আমাদের কোনো পরিকল্পনাই সফল হবে না। অতীতে প্রমাণ হয়েছে, একমাত্র যে বিষয়টি বিএনপির পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, সেটি হলো দুর্নীতি। যে কোনো মূল্যে আগামীতে বিএনপির সরকার দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে। অতীতে বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি দমন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এ দেশের মানুষের কাছে এই দুটি বিষয়ই আমাদের কমিটমেন্ট- বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, এই দুটি বিষয়ে কঠোরভাবে নজর দিতে হবে। এই দুটি বিষয় বাংলাদেশের মানুষকে বহু কিছু থেকে বঞ্চিত করেছে। এই দুটি বিষয় নিয়ন্ত্রণে একমাত্র বিএনপিই যে সফলভাবে পারে, তা বিএনপি অতীতে প্রমাণ করে দেখিয়েছে।
তিনি বলেন, মানুষ যাতে নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে চাকরি-বাকরি সব কিছু নির্বিঘেœ করতে পারে সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। বিগত সময়ে বেগম খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনা করেছিলেন, তখন আপনারা দেখেছেন- আমাদের দলের অনেক লোক যদি কোনো অনৈতিক কাজে জড়িত থেকেছে, আমরা তাদেরও ছাড় দিইনি।
তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণ যদি বিএনপির পাশে থাকে, ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে আমরা একইভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলাকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করব। যাতে করে দেশের সাধারণ মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ নির্বিঘেœ জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।
বিএনপি সরকারে আসলে চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী করার উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে জানিয়ে বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, এ অঞ্চলে মানুষের একটি বড় দাবি আছে, যেটির উদ্যোগ বিএনপি সরকার গ্রহণ করেছিল, কিন্তু সময়ের অভাবে সম্পূর্ণ করে দিতে পারেনি। আমরা দেখেছি গত ১৫ বছর এই উদ্যোগ নিয়ে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। এই উদ্যোগ নেওয়া হলে শুধু চট্টগ্রাম নয়, সারা দেশের মানুষের কর্মসংস্থান গড়ে উঠবে। সেই উদ্যোগটি হচ্ছে ‘বাণিজ্যিক রাজধানী’।
ইনশাআল্লাহ আগামী নির্বাচনে আপনাদের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হলে বেগম খালেদা জিয়ার সেই ‘বাণিজ্যিক রাজধানী’ করার উদ্যোগ যত দ্রুত সম্ভব বিএনপি বাস্তবায়ন করবে।
চট্টগ্রামসহ সারা দেশের জলাবদ্ধতার সমস্যা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে সমগ্র বাংলাদেশের খালকাটা কর্মসূচি চালু করতে চাই। ইনশাআল্লাহ আমরা দু’হাতে কোদাল দিয়ে খাল খনন শুরু করব, যাতে করে জলাবদ্ধতার বড় সমস্যা দূর করা যায়।
তিনি বলেন, এই চট্টগ্রামে ইপিজেড আছে, যেখানে মানুষ চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। এখানে লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা রয়েছে। আপনাদের জানা আছে, এই ইপিজেডগুলো বিএনপির আমলেই হয়েছিল। আগামীতে যদি আমরা সরকার গঠন করি, তাহলে এরকম আরও অনেক ইপিজেড গড়ে তুলবো।
চট্টগ্রামের সঙ্গে গভীর আবেগের সম্পর্ক রয়েছে জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, চট্টগ্রাম থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, আবার এই মাটিতেই তিনি শহীদ হয়েছেন। এই চট্টগ্রামেই খালেদা জিয়াকে ‘দেশনেত্রী’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। তাই চট্টগ্রামের সঙ্গে আমার এবং আমার পরিবারের এক গভীর আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা যে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম, ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলন সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে। বাংলাদেশের মানুষ এখন এমন একটি অর্থবহ পরিবর্তন চায়, যার মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিক উন্নত শিক্ষা ও সুচিকিৎসার সুনিশ্চিত সুযোগ পাবে।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আজ সময় এসেছে- অর্থবহ পরিবর্তনের জন্য। এই পরিবর্তনের জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এখানে অনেক নতুন ভোটার রয়েছেন, যারা বিগত ১৫-১৬ বছর ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি।
তারেক রহমান বলেন, আমরা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বি দলের অনেক সমালোচনা করতে পারি। কিন্তু তাতে কারও পেট ভরবে না। কারও লাভ হবে না। বিএনপি একমাত্র দল যারা যতবার ক্ষমতায় গিয়েছে, ততবার মানুষের জন্য কাজ করেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে উৎপাদন বাড়াতে হবে। তাই আমরা কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। যাতে করে তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পায়।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন আপনাদের কাছে আমার প্রত্যাশা- কখন যাবেন ভোট দিতে? এবার ফজরে গেলে হবে না। এবার তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ার জন্য উঠতে হবে। তাহাজ্জুদ নামাজ পড়বেন এবং যার যে ভোট কেন্দ্র, ভোট কেন্দ্রের সামনে গিয়ে ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করবেন। তারপর লাইন দিয়ে ভোট দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে যাবেন, যখনই ভোট কেন্দ্র খুলবে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক এরশাদ উল্লাহ’র সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাউদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, আসলাম চৌধুরী এফসিএ, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, এসএম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন, সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, সরওয়ার জামাল নিজাম, সাঈদ আল নোমান প্রমুখ।
ধানের শীষের ভোট দিয়ে বিএনপির ওপর আস্থা রাখুন: ধানের শীষের ভোট দিয়ে ‘বিএনপির ওপর আস্থা রাখতে জনগনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারেক রহমান।
গতকাল রবিবার এক নির্বাচনী সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য জেলার দলীয় প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয় এই আহ্বান জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, আমরা চাই, সকলকে নিয়ে আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য। সেই পাহাড়ের মানুষ হোক, সেই সমতলের মানুষ হোক, সে ইসলাম ধর্মের মানুষ হোক বা অন্য কোনো ধর্মের মানুষ হোক আমরা সকলকে নিয়ে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। সেই বাংলাদেশ যদি গড়ে তুলতে হয় আজকে এখানে যে লাখো মানুষ আছেন আপনাদের মাধ্যমে আপনাদের এলাকার লক্ষ কোটি মানুষের কাছে আহ্বান রাখবো, গণতন্ত্রে যারা বিশ্বাস করেন, মানুষের বাক স্বাধীনতায় যারা বিশ্বাস করেন, গণতন্ত্রের স্বাধীনতায় যারা বিশ্বাস করেন সকলকে আহ্বান জানাব, ধানের শীষ তথা বিএনপির ওপর আস্থা রাখুন।
‘‘ইনশাল্লাহ ধানের শীষ এবং বিএনপি নির্বাচিত হলে আপনাদেরকে সাথে নিয়ে এদেশের খেটে খাওয়া মানুষকে সাথে নিয়ে বিএনপি তাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজে হাত দেবে অতীতের মতো। সেই আমি একটি কথা বলে থাকি , কবর কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।” তিনি ‘করব কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগেস বাংলাদেশ’ শ্লোগান ধরে বলেন, ‘‘ যদি বাংলাদেশকে গণতন্ত্রের মতো গড়ে তুলৎে হয় আমাদের সকল রাজনৈতিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যেই কারণে ওয়াসিম আকরামসহ বহু মানুষ তাদের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন। তাদের জীবনের মূল্যকে যদি আজ সন্মান দিতেস হয় তাহলে আমাদেরকে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে কাজ করতে হবে।”
গত ২২ জানুয়ারি সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এটি রাজধানীর বাইরে তার দ্বিতীয় প্রচারাভিযান।
চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডের ময়দানে ২০১২ সালে বিএনপির সর্বশেষ সমাবেশে এসেছেন বেগম খালেদা জিয়া। এরপর এটিই বিএনপির সর্ববৃহৎ সমাবেশ চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড ময়দানে।
বেলা সাড়ে ১২টায় পলোগ্রাউন্ড মাঠের সমাবেশ মঞ্চে উঠেন তারেক রহমান। বক্তব্য শেষ করে ১টা ৪০ মিনিটে তারেক রহমানের গাড়িবহর হয় ফেনী হাইস্কুল মাঠের উদ্দেশ্যে। সেখানে নির্বাচনী সমাবেশের পর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, সুয়াগাজী ও দাউদকান্দি এবং নারায়নগঞ্জের কাঁচপুর বালুর মাঠে নির্বাচনী সমাবেশের বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান।
গত শনিবার রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে নামেন। রাত্রি যাপন করেন হোটেল রেডিসন ব্লুতে।
‘দেশে ষড়যন্ত্র চলছে’
তারেক রহমান বলেন,‘‘বিগত ১৫ বছর যেমন আপনাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিলো সেই রকম একটি ষড়যন্ত্র আবারো শুরু হয়েছে। আপনাদের প্রতিস আমার আহ্বান, এই ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সকলে সজাগ থাকবেন, সর্তক থাকবেন।”
‘‘যাতে আবার আপনাদের অধিকার, আপনাদের ভোটের অধিকার, আপনাদের কথা বলার অধিকার, আপনাদের বেঁচে থাকার অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে যেতে কেউ না পারে।” তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে ভোট দেয়ার প্রস্তুতি চাই’।
তারেক রহমান বলেন, ‘ ১২ তারিখ কখন যাবে ভোট দিতে?’’
এই সময়ে নেতা-কর্মীরা সমস্বরে বলে ‘‘ফজরের নামাজ পড়ে।”
তারেক রহমান বলেন, ‘‘না না ফজরের নামাজের পরে নয়। এবার তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তে উঠতে হবে। তাহাজ্জুদের নামাজ পড়বেন।”
‘‘এবং যার যার এলাকায় ভোট কেন্দ্রের সামনে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করবেন। তারপরে লাইন ধরে ভোটের জন্য দাঁড়িয়ে যাবেন যখন ভোট গ্রহণ শুরু হবে। পারবেন তো?”
এসময়ে নেতা-কর্মীরা বলতে থাকে ‘পারব’। তারেক জবাব দেন, ‘ইনশাল্লাহ।”
নেতা-কর্মীরা ধানের শীষ হাতে এই সময়ে শ্লোগান দিতে থাকে।
‘দুর্নীতি করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না’
‘আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি রোধ দলের কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘‘আইন সবার জন্য সমান। অপরাধের পরিচয় কোনো দল দিয়ে নয়, অপরাধের পরিচয় সে আইনের দৃষ্টিতে অপরাধী এবং অপরাধী যেই হোক তার বিরুদ্ধে দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে। “ ‘‘কাজে দুর্নীতি যেই করুক, দুর্নীতি যারাই করুক তাদের বিরুদ্ধে দেশের আইন একইভাবে প্রযোজ্য হবে। কাজেই আমি এখানে লক্ষ মানুষের সামনে পরিস্কারভাবে বলে দিতে চাই আমরা যেসব পরিকল্পনা গ্রহন করেছি সেই সব পরিকল্পনার মধ্যে কেউ যদি আইনশৃঙ্খলা বন্ধ করে দুর্নীতির মাধ্যমে সেগুলো বাধাগ্রস্থ করেন তাদেরকে ছাড় আমরা দেবো না।”
পরিবর্তনের সময় এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘ এ পরিবর্তনকে যদি সত্যিকার অর্থে অর্থবহ পরিবর্তন করতে হয়, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হয় তাহলে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।” তারেক রহমান তার বক্তব্যের শুরুতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ডসহ তার পরিকল্পনাসমূহ তুলে ধরে ধানের শীষের প্রার্থীদের জন্য ভোট চান।
চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র সাহাদাত হোসেনের সভাপত্বি সমাবেশে চট্টগ্রাম আসনের প্রার্থীদের মধ্যে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী,আসলাম চৌধুরী, আবু সুফিয়ান, মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ, সারোয়ার নিজাম,সাঈদ নোমান, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, এনামুল হক, নাজমুল মোস্তফা আমিন, মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, মোহাম্মদ নুরুল আমিন,মোস্তফা কামালি, কক্সবাজার আসনের প্রার্থীদের মধ্যে সালাহ উদ্দিন আহমদ, শাহজাহান চৌধুরী, লুৎফুর রহমান কাজল, আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ, খাগড়াছড়ির আবদুল ওয়াদুদ ভুঁইয়া, বান্দরবানের জেরি প্রো চৌধুরী, রাঙ্গামাটির দ্বীপন দেওয়ান তালুকদার বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সুকোমল বড়ুয়া, গোলাম আকবর খন্দকার, এসএম ফজলুল হক, চট্টগ্রামের সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা ম্যামাসিং, নুরে আরা সাফা, হারুনুর রশীদ, এম নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রামে হাশেম বক্কর, মোহাম্মদ নাজিমুর রহমান, ইদ্রিস মিয়া, উদয় কুমার বড়ুয়া প্রমূখ বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com