বিদেশি জাতের কুল চাষ করে চমক দেখিয়েছেন নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার এক তরুণ উদ্যোক্তা। কৃষক পরিবারে বেড়ে ওঠা কলেজ ছাত্র ফরহাদ আহমেদ অলভি মাত্র ৫০ শতাংশ জমিতে বিদেশি জাতের কুল চাষ করে প্রথম বছরেই প্রায় ৩ লাখ টাকা লাভের মুখ দেখেছেন। গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের বিলহরিবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা অলভি ছোটবেলা থেকেই কৃষিকাজের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। সেই আগ্রহ থেকেই ২০২৫ সালে পাশ্ববর্তী নাজিরপুর ইউনিয়নের জুমাইনগর গ্রাম থেকে সংগ্রহ করা বল সুন্দরী ও আপেল কুলের চারা রোপণ করেন। সরে জমিনে কুল বাগানে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে বল সুন্দরী ও কাশ্মীরি জাতের পাকা কুল। কুলের ভারে অনেক গাছের ডাল মাটির দিকে নুয়ে পড়েছে। আপেলের মতো সবুজ, হালকা হলুদ আর লালচে রঙের কুল বাগানজুড়ে চোখে পড়ার মতো দৃশ্য তৈরি করেছে। ফরহাদ আহমেদ অলভি জানান, এক বছরে প্রায় ১ লাখ টাকা খরচ করে ইতোমধ্যে ৩ লাখ টাকার কুল বিক্রি করেছেন। বাগানে এখনও আরও এক লাখ টাকার বেশি কুল রয়েছে। খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় এবার মোট লাভ ৩ লাখ টাকারও বেশি হবে বলে আশা করছেন তিনি। আগামী মৌসুমে আরও ১০০ শতাংশ জমিতে ‘ভারত সুন্দরী’ জাতের কুল চাষের পরিকল্পনা রয়েছে তার। অলভি আরও বলেন, তিনি নাটোর টিএমএসএস পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজে কিছু করার চিন্তা থেকেই কুল চাষে হাত দেন। প্রথম বছরেই সফলতা পাওয়ায় গ্রামের অনেক যুবক তার কাছ থেকে পরামর্শ নিতে আসছেন। অলভির বাবা আজিজুল হক জানান, মৌসুমের শুরুতে প্রতি কেজি কুল ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে পাইকারি বাজারে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাহিদা বেশি থাকায় খুচরা বাজারেও ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। ভবিষ্যতে বড় পরিসরে বাগান করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। স্থানীয় বাসিন্দা করিম, নুরুল, নাফিজ, নাইম, আকবর, নায়েব ও জসিমসহ কয়েকজন জানান, অলভির সফলতা দেখে এলাকার অনেক বেকার যুবক কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন এবং কুল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম রাফিউল ইসলাম জানান, উপজেলায় চলতি বছর ৪৫ হেক্টর জমিতে বিদেশি জাতের কুল চাষ হয়েছে। অধিকাংশ চাষিই অল্প সময়ে লাভবান হয়েছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।