চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তির চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে আর কোনো আইনি বাধা থাকলো না। বৃহস্পতিবার বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত রুলে বিভক্ত রায় দেন হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা নজীব এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়াকে অবৈধ ঘোষণা করেন। অপরদিকে বেঞ্চের জুনিয়র বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রিট খারিজ করে চুক্তি প্রক্রিয়াকে বৈধ বলে মত দেন। পরবর্তীতে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য একক বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লাভ চট্টগ্রাম বন্দরের
চট্টগ্রাম বন্দর ২০২৫ সালে সব খরচ বাদ দিয়ে ৩ হাজার ১৪২কোটি ৬৮ লাখ টাকা লাভ করেছে; যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
ভ্যাট ও কর-বহির্ভূত আয় হিসেবে সরকারের কোষাগারে ১ হাজার ৮০৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা জমা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ; এটাও গত পাঁচ বছরের হিসেবে সর্বোচ্চ।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক প্রশাসন মো. ওমর ফারুক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “২০২১ সাল থেকে রাজস্ব আয় ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। সেবার মান অক্ষুণ্ন রেখে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে আনার কারণে ২০২৪ সাল থেকে উদ্ধৃত্তের পরিমাণ বাড়তে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে উদ্বৃত্ত রাজস্বের পরিমাণ গত পাঁচ বছরের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।”
চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বন্দর কর্তৃপক্ষ আয় করেছে ৫ হাজার ৪৬০ কোটি ১৮ লাখ টাকা। একই সময়ে ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৩১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। সেই হিসাবে এক পঞ্জিকা বছরে লাভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৪২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।
আয়ে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি, বেড়েছে ব্যয়ও
২০২১ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ পঞ্জিকাবর্ষে বন্দরের রাজস্ব আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে গড়ে ১৩ দশমিক ০৮ শতাংশ।
এ বিবেচনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের জন্য সবচেয়ে ভালো সময় ছিল ২০২৪ সাল। ওই বছর প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২১ দশমিক ৮৮ শতাংশ। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যয় গড়ে ৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ হারে বেড়েছে। এই সময়ে বন্দরের লাভ বেড়েছে গড়ে ১৮ দশমিক ৪২ শতাংশ হারে।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক প্রশাসন মো. ওমর ফারুক বলেন, “বন্দর কর্তৃপক্ষ অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বন্ধের নীতি কঠোরভাবে পরিপালন করায় গত দুই বছর ধরে রাজস্ব ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি এক অঙ্কের ঘরে রাখা সম্ভব হয়েছে।”
৫ বছরে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ৭৫৮০ কোটি টাকা
প্রতি বছর রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বড় অঙ্কের অর্থ জমা দেয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ভ্যাট, ট্যাক্স ও কর-বহির্ভূত আয় হিসেবে এই অর্থ জমা দেয় তারা।
২০২৫ পঞ্জিকাবর্ষে কর, ভ্যাট ও কর-বহির্ভূত আয় হিসেবে সরকারের কোষাগারে ১ হাজার ৮০৪ কোটি ৪৭ কোটি টাকা জমা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ; যা আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ বেশি।
এর আগে ২০২৪ সালে ১ হাজার ৭১১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, ২০২৩ সালে ১ হাজার ৫১৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, ২০২২ সালে ১ হাজার ৩৫৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা এবং ২০২১ সালে ১ হাজার ১৮৫ কোটি ৪ লাখ টাকা সরকারের কোষগারে জমা দেয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
এই পাঁচ বছরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছে মোট ৭ হাজার ৫৮০ কোটি ২০ লাখ টাকা।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩ হাজার ৫৫৩ কোটি ৮ লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়েছে হিসেবে। আর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বাবদ জমা দেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৪২৭ কোটি ১২ লাখ টাকা।
এর বাইরে কর-বহির্ভূত আয় (এনটিআর) হিসেবে গত পাঁচ বছরে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে মোট ৬০০ কোটি টাকা জমা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।