ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টগবী ইউনিয়নে নির্বাচনী বিরোধের জেরে নিরপরাধ ব্যক্তিদের মামলায় জড়ানোর ঘটনায় খোদ জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। আল্লাহ ও রাসুলের স্পষ্ট নির্দেশনা অমান্য করে মিথ্যা মামলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের আসামি করায় ক্ষুব্ধ কর্মীরা এখন দলত্যাগের ঘোষণা দিচ্ছেন। মামলার বাদী ও টগবী ইউনিয়ন ৪নং ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি ফয়েজউল্লাহ জানান, গত ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, শনিবার সকাল ৮টায় বোরহানউদ্দিন থানাধীন টগবী ৭নং ওয়ার্ডের চকিদার বাড়িতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে গেলে কহেনুর, ইউসুফ, আইয়ুব, সোহাগ ও শামীম নামে ৫ ব্যক্তি তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে জামায়াতের ৭-৮ জন কর্মী আহত হন। ঘটনার সময় ৫ জন থাকলেও একদিন পর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আব্দুল হালিমকে ১নং সাক্ষী করে মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ফয়েজউল্লাহ। এতে নতুন করে আসামি করা হয় টগবী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাহার, নেতা জামাল হাওলাদার ও সৌরভ মিয়াকে। অভিযুক্ত এই তিন নেতা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে জানিয়েছেন, তারা ঘটনার সময় উপস্থিতই ছিলেন না। স্থানীয়রাও জানিয়েছেন যে, বিএনপির উক্ত ৩ নেতা ঘটনাস্থলে ছিলেন না। এমনকি মামলার বাদী নিজেও ঘটনার দিন সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া বক্তব্যে বারবার ৫ জন আসামির নামই উল্লেখ করেছিলেন। বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, বিএনপি উক্ত ৩ নেতা ছিলো না বলে মনে হচ্ছে,তদন্ত চলছে নির্দোষ কাউকে আমরা তদন্ত প্রতিবেদনে দিবো না। মিথ্যা ও অতিরিক্ত আসামি দেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে নিজ দলের সাধারণ কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ফেটে পড়ে। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আল্লাহর দল মনে করে আমরা কষ্টার্জিত অর্থ ও সময় দেই, অথচ তারা ভোট ও ক্ষমতার লোভে মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে। জামায়াতের এই কর্মকা-কে তারা কোরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থী বলে দাবি করেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা মিথ্যা কথা ও মিথ্যা সাক্ষ্য থেকে দূরে থাকো। (সূরা হাজ্জ, আয়াত ৩০)। এছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সবচেয়ে বড় গুনাহ হলো আল্লাহর সাথে শিরক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া। (সহিহ বুখারি: ২৬৫৪, ৫৯৭৬)। আবু দাউদ (৩৫৯৮) উল্লেখ আছে, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জেনে-শুনে মিথ্যা মামলা দেয়, সে আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধের সমান অপরাধ করে। এই প্রেক্ষাপটে স্থানীয় কর্মীদের মনে প্রশ্ন উঠেছে, জামায়াত কি তবে এখন সরাসরি আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে এমপি হতে চাচ্ছে? জামায়াতের বিষয়ে শায়খ মতিউর রহমান মাদানি বলেন, জামায়াত ‘গণতান্ত্রিক কুফরি জিহাদ’ এবং ‘ধর্মব্যবসা’ করছে। তারা সৌদি প্রবাসীদের কষ্টের টাকা চাঁদা হিসেবে নিয়ে মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা করে। তিনি এই বিদাতি পথ পরিহারের পরামর্শ দেন। নেতৃত্বের এমন অনৈতিক ও আদর্শিক বিচ্যুতি সহ্য করতে না পেরে টগবীর অসংখ্য জামায়াত কর্মী এখন সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে দলত্যাগের ঘোষণা দিচ্ছেন। সচেতন মহলের দাবি, ইসলাম ও মুসলমান সবার সম্পদ, কোনো নির্দিষ্ট পক্ষ যেন ধর্মকে ব্যবহারের অপচেষ্টা করতে না পারে, সেজন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।