শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত আত্রাই এলাকার উন্নয়নে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না-এমপি রেজু শেখ রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে অভিনেতা শামস সুমন ধামইরহাটে দল ও জনগণের সমর্থন পেলে পৌরবাসীর সেবা করতে চান আনোয়ারুল ইসলাম কয়রায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ তারাকান্দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেক অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছাল নিহত বিএনপি নেতা অলিউল্লাহ মোল্যার বাড়িতে নড়াইলের লোহাগড়ায় জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

প্রকৃতির ভারসাম্যের নীরব প্রহরী সাইবেরিয়ান স্টোনচ্যাট

সেলিম হোসেন (গোপালপুর) টাঙ্গাইল
  • আপডেট সময় সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

প্রকৃতির বিস্তৃত অঙ্গনে আকারে ক্ষুদ্র হলেও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অনন্য ভূমিকা পালন করে সাইবেরিয়ান স্টোনচ্যাট। বৈজ্ঞানিক নাম স্যাক্সিকোলা মরুহ-প্যাসেরিন গোত্রের এই পরিযায়ী পাখিটি মূলত উত্তর ও মধ্য এশিয়ার সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, চীন ও রাশিয়ার বিস্তীর্ণ তৃণভূমি, ঝোপঝাড় ও পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করে। শীত মৌসুমে খাদ্যের সন্ধানে এটি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অভিবাসী হিসেবে আসে। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও ফারসি উপসাগরীয় অঞ্চল এই পাখির শীতকালীন আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশে সাধারণত অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত খোলা মাঠ, চরাঞ্চল, ফসলি জমি ও ঝোপঝাড়ে এদের উপস্থিতি চোখে পড়ে। সাইবেরিয়ান স্টোনচ্যাটের দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ থেকে ১৪ সেন্টিমিটার এবং ওজন ১২ থেকে ২০ গ্রাম। পুরুষ পাখির মাথা ও পিঠ কালচে-বাদামি, বুক উজ্জ্বল কমলা রঙের এবং গলায় সাদা ছোপ স্পষ্ট। স্ত্রী পাখি তুলনামূলক হালকা ধূসর-বাদামি রঙের হয়। চোখ বড় ও চকচকে কালো, ঠোঁট সরু ও ধারালোÑযা শিকার ধরতে সহায়ক। এই পাখি প্রধানত কীটপতঙ্গভোজী। পঙ্গপাল, ঘাসফড়িং, মাছি, মথ, গুবরে পোকা, ছোট শুঁড়ি ও মাঝে মাঝে বীজ খেয়ে জীবনধারণ করে। উঁচু ডাল, বৈদ্যুতিক তার বা পাথরের ওপর বসে শিকারের জন্য অপেক্ষা করে এবং মুহূর্তেই নিচে ঝাঁপিয়ে শিকার ধরে। এ কারণে কৃষিজমিতে এটি প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রজনন মৌসুমে সাধারণত বসন্ত বা গ্রীষ্মের শুরুতে ঝোপঝাড়ের ভেতর কিংবা মাটির কাছাকাছি ছোট নীড় তৈরি করে। স্ত্রী পাখি ৪ থেকে ৬টি হালকা নীল বা সবুজাভ রঙের ডিম পাড়ে, যেগুলোতে বাদামি ছোপ থাকে। ডিম ফোটার পর পুরুষ ও স্ত্রী উভয়েই ছানাদের লালন-পালনে সক্রিয় থাকে। একটি স্টোনচ্যাটের গড় আয়ুষ্কাল প্রায় ৫Ñ৭ বছর। এই পাখির ডাক সংক্ষিপ্ত ও ধাতব শব্দের মতো-দুটি পাথর ঠুকলে যেমন শব্দ হয়, ঠিক তেমন। এই বৈশিষ্ট্য থেকেই এর নামকরণ হয়েছে স্টোনচ্যাট। স্বভাবগতভাবে এটি সতর্ক, চঞ্চল ও একাকী বা ছোট দলে চলাচল করে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থার (আইইউসিএন) লাল তালিকা অনুযায়ী সাইবেরিয়ান স্টোনচ্যাট বর্তমানে ‘বিলুপ্তির ঝুঁকিমুক্ত’ শ্রেণিভুক্ত। তবে অপরিকল্পিত কৃষিকাজ, অতিরিক্ত রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার, ঝোপঝাড় ধ্বংস ও জলবায়ু পরিবর্তন ভবিষ্যতে এই পাখির জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইবেরিয়ান স্টোনচ্যাট কেবল সৌন্দর্যের প্রতীক নয়Ñএটি পরিবেশের স্বাস্থ্য নির্দেশক একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতি। প্রাকৃতিক ঝোপঝাড় সংরক্ষণ, কীটনাশকের সীমিত ব্যবহার এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতনতা বাড়ালে এই রঙিন পরিযায়ী অতিথিকে দীর্ঘদিন আমাদের প্রকৃতিতে টিকিয়ে রাখা সম্ভব।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com