রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত আত্রাই এলাকার উন্নয়নে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না-এমপি রেজু শেখ রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে অভিনেতা শামস সুমন ধামইরহাটে দল ও জনগণের সমর্থন পেলে পৌরবাসীর সেবা করতে চান আনোয়ারুল ইসলাম কয়রায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ তারাকান্দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেক অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছাল নিহত বিএনপি নেতা অলিউল্লাহ মোল্যার বাড়িতে নড়াইলের লোহাগড়ায় জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

গঙ্গাচড়ায় বাণিজ্যিক লেবু চাষে সাফল্য, বছরে বিক্রি ১৫ লাখ টাকা

আব্দুল আলীম প্রামানিক (গঙ্গাচড়া) রংপুর
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী নোহালী ইউনিয়ন কচুয়া গ্রাম এখন পরিচিত ‘লেবুর গ্রাম’ হিসেবে। পাশেই নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলা। মেঠোপথ ধরে একটু এগোলেই বাতাসে ভেসে আসে লেবু ফুলের ম-ম ঘ্রাণ। রাস্তার দুপাশজুড়ে সবুজে মোড়া বিশাল বাগান। গাছভর্তি লেবু আর নতুন ফুলে ছেয়ে থাকা ডালপালা যেন জানিয়ে দেয় এ গ্রাম এখন শুধু গ্রাম নয়, ‘লেবুর গ্রাম’। ২০১৮ সালে ৮ একর জমিজুড়ে গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক লেবু বাগান বদলে দিয়েছে এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র। উদ্যোক্তা কুমিল্লার বাসিন্দা লন্ডনপ্রবাসী ফজলে এলাহি বাবু। বর্তমানে বাগানে রয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৪০০টি লেবুগাছ। বাগান সংশ্লিষ্টরা জানান, বছরে অন্তত ১৫ লাখ টাকার লেবু বিক্রি হয় এখান থেকে। বাগানে নিয়মিত কাজ করেন ১০ জন শ্রমিক। প্রতিদিন ৬০০ টাকা হাজিরায় তারা নিড়ানি দেওয়া, সার প্রয়োগ, কীটনাশক স্প্রে ও সেচের কাজ করেন। শ্রমিক লুৎফর রহমান ও রাশেদ ইসলাম বলেন, কয়েক বছর ধরেই তারা এখানে কাজ করছেন। এই বাগানই তাদের আয়ের প্রধান ভরসা। সরেজমিনে দেখা যায়, গাছে গাছে ঝুলছে অসংখ্য লেবু। পুরো বাগানজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে সুগন্ধ। ইতোমধ্যে রমজান মাস শুরু হওয়ায় লেবু বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগান-সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতিটি লেবু ১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। রোজায় চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কচুয়া গ্রামের আকবর আলী বলেন, বাগান হওয়ার পর গ্রামটির পরিবেশই বদলে গেছে। পাশের দীঘলটারী ও কুমারপাড়া গ্রামের মানুষও এর সুফল পাচ্ছেন। বাগানের ধার দিয়ে চলাচল করলেই প্রশান্তি লাগে। মালিক প্রবাসে থাকায় বাগানটি লিজ নিয়ে দেখভাল করছেন নীলফামারীর রাসেল মিয়া ও রফিকুল ইসলাম। তারা জানান, ২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রথম এক বছরের জন্য ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকায় বাগানটি লিজ নেন। সে বছর ৯ লাখ টাকার লেবু বিক্রি হয়। ২০২৫ সালের অক্টোবরে আবারও তিন বছরের জন্য ৩০ লাখ টাকায় লিজ নেওয়া হয়েছে। গত চার মাসেই বিক্রি হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকার লেবু। তিন বছরে অন্তত ৫০ লাখ টাকার বিক্রির আশা করছেন তারা। এ বাগানের লেবু রংপুর ও নীলফামারীর বড় বাজার হয়ে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। ফলে কয়েক বছর ধরেই রংপুর অঞ্চলের লেবুর চাহিদার বড় অংশ পূরণ হচ্ছে কচুয়া থেকেই।
গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রুবেল হুসেন বলেন, রংপুর অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে লেবু চাষ খুব বেশি নেই। তবে গঙ্গাচড়ার এই বড় বাগানটি সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলেছে। কেউ লেবু চাষে আগ্রহী হলে কৃষি বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে, একসময়কার নিভৃত কচুয়া এখন লেবুর সুবাসে পরিচিত। সবুজ বাগান ঘিরে বদলে যাচ্ছে অর্থনীতি, তৈরি হচ্ছে কর্মসংস্থান আর গ্রামটি পেয়েছে নতুন পরিচয়, ‘লেবুর গ্রাম’।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com