বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত বিষয়গুলোর একটি হলো শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জ্ঞান নিয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইউটিউব প্ল্যাটফর্মে একশ্রেণির ভুঁইফোড় কনটেন্ট ক্রিয়েটর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করছেন যে, জিয়াউর রহমান না কি বাংলা পড়তে বা লিখতে পারতেন না। এই ধরনের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইতিহাসের সচেতন মহল ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক শহীদ জিয়ার অনুসারীরা।
দীর্ঘদিন ধরেই একটি বিশেষ মহল শহীদ জিয়ার ব্যক্তিত্ব ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করছে। অতীতে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও গাফফার চৌধুরীর মতো ব্যক্তিরাও দাবি করেছিলেন যে জিয়াউর রহমান বাংলা পড়তে ও লিখতে পারতেন না। পরবর্তীতে মেজর ডালিমও একই দাবি উত্থাপন করেছিলেন। সবশেষ আলোচিত ইউটিউবার পিনাকী ভট্টাচার্য তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে মশিউর রহমান যাদু মিয়ার বরাত দিয়ে দাবি করেন, “বীরগতিপ্রাপ্ত জিয়া নিজেই বাংলা লিখতে-পড়তে পারতেন না। বাংলা বক্তৃতা উর্দু হরফে লিখে তা দেখে দেখে পড়তেন।”
পিনাকীর এই দাবির পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক নেটিজেনই কমেন্ট সেকশনে এই দাবির অকাট্য প্রমাণের দাবি তুলেছেন। পিনাকী তার পোস্টে ছবি কমেন্টের সুযোগ বন্ধ রাখলেও, নেটিজেনদের একাংশ শহীদ জিয়ার ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন নথি ও প্রামাণ্য দলিল শেয়ার করছেন। এই অপপ্রচারের জবাব হিসেবে শহীদ জিয়ার নিজ হাতে লেখা একটি ব্যক্তিগত চিঠি এখন ভাইরাল। চিঠিতে তৎকালীন তরুণ জিয়াউর রহমানের বাংলা হাতের লেখা স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। একই সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি তার গভীর অনুরাগ ও আবেগের বহিঃপ্রকাশও চিঠির ভাষায় ফুটে উঠেছে। ঐতিহাসিকরা মনে করছেন, এই হস্তলিপি প্রমাণ করে যে, শহীদ জিয়া কেবল বাংলা পড়তেই পারতেন না, বরং সাবলীলভাবে নিজের মনের ভাব ব্যক্ত করতেও সক্ষম ছিলেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হারানো রাজনৈতিক অবস্থান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে একটি রাজনৈতিক দল ও তাদের পেইড ইউটিউবাররা এখন ইতিহাসের বিকৃতির আশ্রয় নিচ্ছে। তথ্য-প্রমাণের তোয়াক্কা না করে পরিকল্পিতভাবে একজন জাতীয় নেতার চরিত্র হননের চেষ্টা করা হচ্ছে।
ইতিহাস গবেষকদের মতে, এ ধরনের প্রোপাগান্ডা কেবল ব্যক্তির মানহানি নয়, বরং দেশের ইতিহাসের দলিলকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি ষড়যন্ত্র। প্রকৃত তথ্য ও নথিপত্র সংরক্ষণের মাধ্যমে এই ধরনের অপপ্রচারের সমুচিত জবাব দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
জিয়ার এই চিঠি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মন্তব্য, “যারা সত্য জানার সাহস রাখে না, তারা কেবল মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে নিজেদের দেউলিয়াত্বই প্রকাশ করে।”