রংপুরের গঙ্গাচড়ায় জমির মালিকানা জটিলতা ও বরাদ্দ না থাকার কারণে মানস নদের খননকাজ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় লোকজন নদের জমি দখল করে চাষাবাদ করছে। ফলে নদ খননের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মানুষ। জানা গেছে, রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন ‘৬৪ জেলার অভ্যন্তরস্থ ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখনন’ প্রকল্পের আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৫ কিলোমিটার খননকাজ শুরু করা হয়। বরাদ্দ ধরা হয় প্রায় ৪ কোটি টাকা। দুই অর্থবছরে খননকাজ শেষ করার কথা। কিন্তু খননকাজ শুরু হওয়ার পর মর্ণেয়া ইউনিয়নের কিছু অংশে খনন করা হয়। এরপর নদীর জমির মালিকানা জটিলতায় খননকাজ বন্ধ হয়ে যায়। যা খনন করা হয়েছে তাও ভরাট হওয়ার পথে। মানস নদ উপজেলার লক্ষ্মীটারী, গজঘণ্টা ও মর্ণেয়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ বন্দরের পশ্চিম দিক দিয়ে পীরগাছা উপজেলায় প্রবেশ করেছে। এরপর আলাইকুড়ি নদীর সঙ্গে মিশে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ভেতর দিয়ে যমুনায় পড়েছে। মানস নদের দৈর্ঘ্য ৮৮ কিলোমিটার। পানিশূন্য হয়ে পড়ায় নদীর বুকে আবাদ হচ্ছে বিভিন্ন ফসল। লাগানো হয়েছে গাছ। কয়েক বছরের মধ্যে নদটি হারিয়ে যাবে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা। তারা নদটি দখলমুক্ত করে খননের দাবি জানিয়েছেন। লক্ষ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, তার ইউনিয়নের দুই কিলোমিটার অংশ খনন করার কথা ছিল। কিন্তু জমির মালিকানা জটিলতার কারণে খনন করা যাচ্ছে না। একই কথা বললেন, গজঘণ্টা ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান বকুল মিয়া। তিনি আরো বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে সরকার নদীটি খনন করলে কৃষকরা কৃষিকাজে ব্যাপক সুবিধা পাবে। সেই সঙ্গে মৎস্য চাষ করা যাবে। তবে মর্নেয়া ইউনিয়নে সাড়ে ৯ কিলোমিটার অংশ খনন করা হয়েছে। ধীরে ধীরে তা ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এখানকার মানুষ খুব খুশি। আর স্থানীয় লোকজন মাছ খেয়ে শান্তিতে আছে। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, জমির মালিকানা জটিলতার কারণে মানস নদীর খননকাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি ডিসি অফিসে জানানো হয়েছে। নদের জমি মূলত খাস। স্থানীয় লোকজন জমি তাদের নামে রেকর্ড করে নিয়েছে। ফলে কাজ করতে গেলে তারা বাধা দেয়। ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড করা জমি থাকায় রেকর্ড সংশোধনপূর্বক তা অধিগ্রহণ করা যেতে পারে। এতে হয়তো একটু সময় লাগবে। বিষয়টি আইন-আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। তাছাড়া আপাতত বরাদ্দও নেই। রেকর্ড সংশোধন হলে প্রকল্প তৈরি করে খনন করা যেত। তিনি আরো বলেন, নদীটি খনন করা হলে কৃষকরা সেচসুবিধা পেত। সেই সঙ্গে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেত।