গত ২৯ জানুয়ারী দৈনিক খবরপত্র পত্রিকায় ‘কৃষক কার্ড চালুর দাবি, গরুর পরিবর্তে কৃষক নিজেই টানছেন মই!’ শিরোনামে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামের দরিদ্র কৃষক সিরাজ মিয়ার একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদে দরিদ্র কৃষকদের কষ্টের চিত্র ফুটে উঠেছে। সংবাদ প্রকাশের পর সম্প্রতি বাতিসা ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জিয়াউল আলম সরেজমিন পরিদর্শন করে কৃষকের খোঁজখবর নিয়েছেন। এছাড়া আগামীতে কৃষি কাজে তাঁর প্রয়োজনীয় সরকারি সকল সুবিধা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এদিকে নতুন সরকার গঠনের ১০ দিনের মাথায় কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমন সিদ্ধান্ত দেন। এতে খুশি দরিদ্র কৃষক সিরাজ মিয়াসহ অন্যান্য কৃষকরা। দরিদ্র কৃষক সিরাজ মিয়া বলেন, নতুন সরকার গঠনের ১০ দিনের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দরিদ্র কৃষক ও কৃষিখাতের কথা চিন্তা করে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করেছেন। এটা আমার মতো কৃষকদের জন্য খুশির সংবাদ। কৃষকদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি পহেলা মে আন্তর্জাতিক শ্রম দিবসের আগেই কৃষকদের জন্য মাসিক বা মৌসুমী ভাতা হিসেবে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করার দাবি জানাচ্ছি। কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সাথে সাথে কৃষক কার্ড চালু করলে কৃষি পণ্য উৎপাদনে কৃষকরা আরও উৎসাহী হবে। জানা গেছে, বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে জনগণকে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু, ‘কৃষক কার্ড’ চালু, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ ইত্যাদি। এর মধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত হলো। ফ্যামিলি কার্ড চালুর প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত। পরীক্ষামূলকভাবে আগামী ১০ মার্চ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জিয়াউল আলম শনিবার বিকেলে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত দেয়ায় খুশি হয়েছেন দরিদ্র কৃষক সিরাজ মিয়াসহ অন্যান্য কৃষকরা। তারা বর্তমান সরকারকে কৃষিবান্ধব সরকার বলেও মন্তব্য করেন।