শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ০১:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত আত্রাই এলাকার উন্নয়নে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না-এমপি রেজু শেখ রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে অভিনেতা শামস সুমন ধামইরহাটে দল ও জনগণের সমর্থন পেলে পৌরবাসীর সেবা করতে চান আনোয়ারুল ইসলাম কয়রায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ তারাকান্দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেক অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছাল নিহত বিএনপি নেতা অলিউল্লাহ মোল্যার বাড়িতে নড়াইলের লোহাগড়ায় জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

ফুড পয়জনিং নাকি ডায়রিয়া? লক্ষণ মিললেও দুটো এক নয়

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬

হঠাৎ পেট ব্যথা, বমি আর পাতলা পায়খানা – এমন হলেই অনেকে বলেন, ফুড পয়জনিং হয়েছে। আবার কেউ বলেন – ডায়রিয়া। বাস্তবে এই দুই অবস্থার লক্ষণ অনেক সময় একরকম হলেও দুটি এক সমস্যা না।
ফুড পয়জনিং কী?
ফুড পয়জনিং সাধারণত দূষিত খাবার বা পানীয় খাওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়াকে বোঝায়। খাবারে থাকা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, পরজীবী বা তাদের তৈরি টক্সিনের কারণে এটি হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, অপরিষ্কারভাবে সংরক্ষণ করা বা রান্না করা খাবার ফুড পয়জনিংয়ের প্রধান কারণ।
ফুড পয়জনিংয়ের সাধারণ লক্ষণ –
>> হঠাৎ বমি
>> তীব্র পেট ব্যথা বা ক্র্যাম্প
>> পাতলা পায়খানা
>> জ্বর
>> দুর্বলতা
লক্ষণ সাধারণত দূষিত খাবার খাওয়ার কয়েক ঘণ্টা থেকে একদিনের মধ্যেই শুরু হয়।
ডায়রিয়া কী?
ডায়রিয়া মানে হলো দিনে তিনবার বা তার বেশি পাতলা বা তরল পায়খানা হওয়া। এটি নিজে কোনো নির্দিষ্ট রোগ নয়; বরং একটি উপসর্গ। ভাইরাল সংক্রমণ, ব্যাকটেরিয়া, দূষিত পানি, হজমের সমস্যা – সবকিছু থেকেই ডায়রিয়া হতে পারে। সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) অনুযায়ী, ভাইরাল গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস ডায়রিয়ার অন্যতম সাধারণ কারণ।
ডায়রিয়ার সাধারণ লক্ষণ –
>> বারবার পাতলা পায়খানা
>>হালকা পেট ব্যথা
>> বমি থাকতে বা না-ও থাকতে পারে
>> পানিশূন্যতার লক্ষণ – শুকনো মুখ, কম প্রস্রাব, মাথা ঘোরা
তাহলে পার্থক্য কোথায়?
ফুড পয়জনিং মূলত নির্দিষ্ট দূষিত খাবার খাওয়ার পর হঠাৎ শুরু হয় এবং বমি বেশি প্রাধান্য পায়। ডায়রিয়া অনেক কারণেই হতে পারে এবং তা কয়েকদিন স্থায়ীও হতে পারে। ফুড পয়জনিং ডায়রিয়ার একটি কারণ হতে পারে, কিন্তু সব ডায়রিয়া ফুড পয়জনিং নয় – এটাই মূল পার্থক্য।
কোন ক্ষেত্রে কী করবেন?
হালকা উপসর্গে
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন। অল্প অল্প করে পানি পান করুন। পানিশূন্যতা রোধে ওরস্যালাইন সবচেয়ে কার্যকর উপায়। ভাত, কলা, স্যুপের মতো হালকা খাবার বেছে নিন। ভাজাপোড়া, দুধ জাতীয় ও অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
বমি বেশি হলে
অল্প পরিমাণে কিন্তু ঘন ঘন তরল গ্রহণ করুন। শরীর তরল রাখতে পারছে কি না, খেয়াল করুন।
যে লক্ষণে দ্রুত চিকিৎসক দেখাবেন
>> ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি জ্বর
>> রক্তমিশ্রিত পায়খানা
>> ২৪ ঘণ্টার বেশি তীব্র বমি
>> তীব্র দুর্বলতা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ভাব
>> শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী বা দীর্ঘমেয়াদি রোগীর ক্ষেত্রে দ্রুত অবনতি
আইইডিসিআর-এর পরামর্শ অনুযায়ী, ডায়রিয়ায় সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো পানিশূন্যতা। তাই তরল গ্রহণ অবহেলা করা যাবে না।
প্রতিরোধে যা করবেন
খাবার ভালোভাবে রান্না করুন। রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় খোলা রাখবেন না। ফল ও সবজি পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে খান। হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন – বিশেষ করে টয়লেট ব্যবহারের পর ও খাবার ধরার আগে।
পেটের সমস্যায় আতঙ্ক নয়, সচেতনতা দরকার। লক্ষণ মিললেই নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া ঠিক নয়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ দ্রুত সঠিক পদক্ষেপই জটিলতা এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি), আইইডিসিআর বাংলাদেশ




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com