গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান যেটি ইসলামের আদর্শ ও মূল্যবোধ প্রচার করে এবং সে সম্পর্কিত কার্যক্রম পরিচালনা করে। ফাউন্ডেশনটির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় অবস্থিত, যেটি ৭টি বিভাগীয় কার্যালয়, ৬৪টি জেলা কার্যালয়, ৭টি ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ২৯টি ইসলামিক প্রচারণা কেন্দ্রের সহায়তায় কার্যক্রমসমূহ বাস্তবায়ন করে। ফাউন্ডেশনটির মহাপরিচালক হলেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী। ১৯৫৯ সালে বাংলাদেশের ঢাকায় ইসলামের শিক্ষার প্রচার ও প্রসারে দুটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয়। বায়তুল মোকাররম সোসাইটি নির্মাণ করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ (আরবি) এবং ওলামাগণ, ইসলামি দর্শন, সংস্কৃতি ও জীবন ব্যবস্থাকে মানুষের কাছে সহজে পৌছে দেওয়ার জন্য এবং তা নিয়ে গবেষণার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করেন দারুল উলুম। ১৯৬০ সালে দারুল উলুমকে পূর্ব পাকিস্তান ইসলামী একাডেমী নামে নামকরণ করা হয়, যার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আবুল হাশিম এবং একে করাচি ভিত্তিক সেন্ট্রাল ইন্সটিটিউট অব ইসলামিক রিসার্চ এর একটি শাখা হিসেবে রুপান্তর করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে স্বঘোষিত সমর্থন ও সহায়তার জন্য নিষিদ্ধ করা হয় ইসলামিক একাডেমীকে।একাডেমীটিকে সে সময় রাজনীতিক ইসলামিকরণের জন্য দোষারোপ করা হয়েছিল। বর্তমান সংস্থাটি ১৯৭৪ সালে কার্যকর হয়েছিল, যখন শেখ মুজিবুর রহমান একে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন হিসাবে উদ্বোধন করেন। ১৯৭৮ সালের ২০-২২শে মার্চ ফাউন্ডেশনটি ও.আই.সি.’র সৌজন্যে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করে, যেখানে বাংলাদেশসহ ১৬টি দেশের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। ১৯৭৯৮০ সালে ফাউন্ডেশনটির উন্নয়ন নতুন করে গতিবেগ লাভ করে। গত ৫ আগস্ট ২০২৪ ইং বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ঘোষণা দিয়েছিল ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানি দেওয়া যায় কিনা, ঘোষণা হওয়ার পর পরোই ইসলামিক ফাউন্ডেশন একটি জরিপ চালায়। যে জরিপগুলো করার কথা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মীবৃন্দদের, সে জরিপ গুলোই ইমাম মোয়াজ্জিনদেরকে দিয়ে করাইয়ে শেষে তাদেরকে বলা হয় এটা ভাতা দেওয়ার জন্য নয় শুধু জরিপ করার জন্য। বাংলাদেশে ৬৪ হাজার গ্রামে প্রায় ৬৮ হাজার ই মসজিদ আছে। এ মসজিদগুলোর ইমাম এবং মোয়াজ্জিনদের বেতন একদম সীমিত, তারপরেও আল্লাহর রহমতে তারা হাতে গোনা অন্যান্য শ্রেণীর পেশাজীবীদের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে। এটা শুধু একমাত্র আল্লাহর রহমত ছাড়া আর কিছু নয়।
আমরা গভীর ভাবে লক্ষ্য করছি এ বছর নতুন সরকার অর্থাৎ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বিএনপি সরকার গঠন করার সাথে সাথে আবারো সেই গ্রামের সহজ-সরল হুজুর শ্রেণির লোকদের নিয়ে যাস্ট একটা ইতরামি করল ইসলামি ফাউন্ডেশন! মূলত কিছুদিন পরপরই ইসলামি ফাউন্ডেশন মসজিদের জরিপ চালায়। এবারও সেই জরিপ চালাচ্ছে। জরিপ করার দায়িত্ব ফাউন্ডেশনের। এ জন্য তারা বরাদ্দও পায়। কিন্তু এবার ফাউন্ডেশন জরিপ কার্যক্রমে প্রতারণার পথ বেছে নিয়েছে। প্রতারণাটা হলো ফাউন্ডেশন সরাসরি বেতন-ভাতার কথা না বললেও এমন একটা ভাব দেখাচ্ছে, যেন এবারই সব ইমাম-মুয়াজ্জিন ভাতা পাবেন। আর ফাউন্ডেশনের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা প্রচার করছে আজকের মধ্যেই ফরম জমা দিতে হবে, নইলে ভাতা পাওয়া যাবে না এইসব হাবিজাবি কথা! ফলে যে জরিপ ফরম পূরণ করার কথা ইসলামি ফাউন্ডেশনের। সেটাই ইমাম মোয়াজ্জিনরা পূরণ করে দৌড়াচ্ছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর আঞ্চলিক অফিসগুলোতে। তার ওপর অনেক বাটপার নিরীহ ইমাম মোয়াজ্জিনদের নিকট থেকে ভাতা এনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে টাকাও হাতিয়ে নিচ্ছে। গতকাল ফাউন্ডেশন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছে মসজিদ জরিপ এবং ভাতার সাথে কোন কালেকশন নেই। কেন এই ঘোষণা এখন? শুরুতেই এই ঘোষণা দিলে তো গ্রামের সহজ সরল ইমাম মোয়াজ্জিনরা এত হয়রানির শিকার হতো না। ছবিতে দেখা যাচ্ছে ইমাম মুয়াজ্জিন রা মসজিদের সভাপতি সেক্রেটারির নামে শিল মারার জন্য শিল তৈরির দোকানগুলোতে ভীড় জমাচ্ছেন।