মধ্যপ্রাচ্যে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর এই পদক্ষেপকে “অবৈধ ও বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি” বলে আখ্যা দিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ঢ-এ দেওয়া এক পোস্টে মামদানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করছে। শহরে বোমাবর্ষণ এবং বেসামরিক মানুষের মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।
তিনি লিখেছেন, ইরানে চালানো এই হামলা একটি বেআইনি আগ্রাসী যুদ্ধের উত্তেজনাকে আরও ভয়াবহভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। নতুন যুদ্ধমঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে, যা মার্কিন জনগণ চায় না।
৩৪ বছর বয়সী এই ডেমোক্রেটিক সোশালিস্ট নেতা আরও বলেন, এমন সামরিক পদক্ষেপ কেবল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই মন্তব্যের মাত্র দুই দিন আগে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক করেছিলেন মামদানি। তবে বৈঠকের পরপরই তিনি প্রকাশ্যে প্রেসিডেন্টের মধ্যপ্রাচ্য নীতির সমালোচনা করেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো-কে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় মামদানি বলেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার সম্পর্ক সবসময়ই খোলামেলা ও সরাসরি। “আমরা প্রকাশ্যে এবং ব্যক্তিগতভাবে নীতিগত মতভেদ স্পষ্টভাবে তুলে ধরি। এই মুহূর্তে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে কথা বলা জরুরি।
এদিকে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিউইয়র্ক সিটিতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানান মামদানি। তিনি বলেন, সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় শহরে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হচ্ছে।
একই সঙ্গে নিউইয়র্কে বসবাসরত ইরানি-আমেরিকানদের উদ্দেশ্যে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, আপনারা এই শহরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখানে আপনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
উল্লেখ্য, গত নভেম্বরে নির্বাচনের আগে ট্রাম্প ও মামদানির মধ্যে একাধিকবার তীব্র বাকযুদ্ধ হয়। সে সময় মামদানি ট্রাম্পকে “ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরশাসক” বলে আখ্যা দেন। পাল্টা জবাবে ট্রাম্প তাকে “শতভাগ কমিউনিস্ট পাগল” বলে মন্তব্য করেছিলেন। ইরান ইস্যুতে মামদানির সাম্প্রতিক এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।