রংপুরের মর্ণেয়া ইউনিয়নের আলাল গ্রামের মৃত আহম্মদ আলী ছেলে ৮ বছর বয়সে বাবার সাথে খাটের ধারার কাজ করতেন। বাবা মৃত্যুর পর তার বয়স হয়েছিল ২২ বছর। তিস্তার নদী ভাঙ্গনে বাপ-দাদার ভিটা মাটি নদীতে বিলীণ হয়ে যায়। তারপরেও ধারা তৈরি করে হাট-বাজারে বিক্রি করে সংসার চালান। তিনি আরাজিনিয়ামত গ্রামের মৃত ফজলুল হক নয়া মিয়ার বোন ফিরোজা বেগমকে বিয়ে করেন। ভিটে মাটি না থাকায় অন্যের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। সংসার জীবনে তার ৬ ছেলে মেয়ে জন্ম হয়। ৬ ছেলে মেয়ে তিনি বিয়ে দিয়েছেন। ধারা বিক্রির টাকা ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তিনি ৫ শতক জমি ক্রয় করে ঘর বাড়ি নির্মাণ করে নিজ ঘরে বাড়িতে বসবাস করেছেন। গঙ্গাচড়া বাজারে খাটের ধারা নিয়ে দাড়িয়ে থাকা মাহামুদার রহমান (৮০) সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, একটি ধারা তৈরি করতে ৪ দিন সময় লাগে। হাট-বাজারে ঘাড়ে নিয়ে বেড়াই। বিক্রি হয় ৪-৫শতক টাকা। তাছাড়া বাঁশের দামও বেশি অল্প আয়ে সংসার চলে না। কোন মতে সংসার চলে। কোন কোন দিন হাটে বা বাড়িতে ধারা বিক্রি হয় না। ধার দেনা করে চলতে হয়। বর্তমানে তিনি গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ নবনীদাস গ্রামে বসবাস করছেন। ছেলেরা আলাদা খান। বাবা-মায়ের খবর নিলেও তার কষ্টে দিনাদিপাত করছেন।