নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরপার্বতী ইউনিয়নে পৈত্রিক সম্পত্তি জবরদখল ও পরিবারকে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রাখার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। শনিবার এক লিখিত বক্তব্যে অভিযোগকারী মোশারফ হোসেন মিলন বলেন, তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরপার্বতী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং তার পিতা আবু তাহের একজন বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তি। কয়েক বছর আগে তিনি স্ট্রোক করলে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন আছেন এবং বর্তমানে অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। অভিযোগে তিনি জানান, তার আপন জ্যেঠা অজিউল্লাহ মিয়া(৭০), জ্যেঠি গোল নাহার বেগম(৬০), তাদের ছেলে কাওছার উল্লাহ(৩৪) এবং সহযোগী মেরিনা আক্তার(৪৪)সহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছেন। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরপার্বতী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত চরর্বাতী মৌজার সিএস ১১১০ এবং এসএ ১১৫৭ নম্বর খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত প্রায় ৪৬ শতাংশ জমিতে তাদের বসতভিটা ও পুকুর রয়েছে। তবে এখনো ওই সম্পত্তির কোনো আনুষ্ঠানিক ভাগ-বাটোয়ারা হয়নি। অভিযোগকারী আরও জানান, তার পিতা অসুস্থ থাকার সুযোগে প্রভাবশালী আত্মীয় ও তৎকালীন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইস্কান্দার হায়দার চৌধুরী বাবুল দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তাদের বাড়ির মাঝখান দিয়ে একটি বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করেন। এতে তাদের চলাচলে বিঘœ ঘটে এবং পুকুরে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি বসতঘরের এক-তৃতীয়াংশের ভেতর দিয়েও দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে, যার ফলে তাদের স্বাভাবিক বসবাস কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে ইতোমধ্যে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কোম্পানীগঞ্জ থানা এবং চরপার্বতী ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মোশারফ হোসেন মিলন। তবে এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের পরিবারকে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।