ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় চিহ্নিত প্রায় ৪০০টি খাল পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত নদী, নালা ও খাল-বিল পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে উৎপাদন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পরিবেশ-প্রকৃতি রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার বোয়ালিয়া খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদী-নালা, খাল ও বিল দেশের পরিবেশ ও মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর সঙ্গে কৃষি উৎপাদন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই যারা নদী-নালা ও খাল দখল বা দূষণ করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে এসব জলাশয় দখলমুক্ত ও পুনরুজ্জীবিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, খাল খননের মাধ্যমে একদিকে যেমন উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়বে, অন্যদিকে পরিবেশ ও প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষাও নিশ্চিত হবে। এই দুইয়ের সমন্বয়ে টেকসই উন্নয়নের যে দৃষ্টিভঙ্গি সরকার গ্রহণ করেছে, তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, বোয়ালিয়া খালের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৬ কিলোমিটার এবং এটি দুই প্রান্তেই তিতাস নদীর সঙ্গে যুক্ত। এর আগে খালের ৪ কিলোমিটার অংশ খনন করা হয়। সোমবার অবশিষ্ট ২ কিলোমিটার অংশ এবং একটি শাখা খালের ১ দশমিক ৮০ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়। এ কাজে প্রায় ৩১ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য এম. এ. হান্নান, পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আলী আজমসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।