শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
সিলেটে ১৭ ঘণ্টা পর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক পাইকগাছায় গণঅভ্যুত্থানে পালিয়ে যাওয়া দুই চেয়ারম্যানের প্রশাসনিক ক্ষমতা ফিরে পেতে আবেদন: ঝাড়ু মিছিল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মেয়ে ও শিশু সন্তানকে বাঁচাতে বাবা-মায়ের আকুতি জাতি হারাল আর ও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা মিরসরাইয়ে এমটি-ইপিআই কবির হোসেনের দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন লোহাগাড়ায় ইট ভাটায় অভিযান, ৩০ লাখ টাকা জরিমানা চৌদ্দগ্রামে পানি সেচ পাম্প নিয়ে দ্বন্দ্বের বলি কৃষকের সরিষা ক্ষেত ও বীজতলা! সরকারি জায়গায় হতে মাটি বিক্রির অভিযোগ কোম্পানীগঞ্জে জ্বালানি তেল সংকটে দীর্ঘ লাইনে চরম ভোগান্তিতে জনসাধারণ মৎস্য রক্ষায় কঠোর অভিযান: নাসিরনগরে ১০ লাখ টাকার জাল জব্দ, অতঃপর আগুনে ধ্বংস

বাইপোলার ডিসঅর্ডার

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬

এটা সাময়িক – ভেবে এড়িয়ে না গিয়ে পরিবর্তনগুলো খেয়াল করুন। ছবি/সংগৃহীত
কখনো খুব ভালো লাগা, হঠাৎ আবার অকারণে মন খারাপ – এমন ওঠানামা আমাদের অনেকের জীবনেই থাকে। ব্যস্ততা, কাজের চাপ, সম্পর্ক – সব মিলিয়ে মুড বদলানো অস্বাভাবিক কিছু নয়।
কিন্তু যদি এই পরিবর্তনগুলো খুব বেশি তীব্র হয়, আচরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে বা দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করে, তখন বিষয়টি শুধু মুড সুইং নয়, এর পেছনে থাকতে পারে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত গুরুতর সমস্যা – যেমন বাইপোলার ডিসঅর্ডার।
বাইপোলার ডিসঅর্ডার এমন একটি অবস্থা, যেখানে একজন মানুষ চরম দুই ধরনের মুডের মধ্যে ওঠানামা করেন – একদিকে অস্বাভাবিক উচ্ছ্বাস বা অতিরিক্ত শক্তি (ম্যানিয়া), অন্যদিকে গভীর বিষণ্ণতা (ডিপ্রেশন)। এই ওঠানামা কখনো ধীরে, কখনো হঠাৎ করেই হতে পারে।
আজ বিশ্ব বাইপোলার ডিসঅর্ডার দিবসে জেনে নিন এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো কী কী?
১. অস্বাভাবিকভাবে বেশি ভালো লাগা বা উত্তেজনা
হঠাৎ করেই নিজেকে খুব শক্তিশালী, আত্মবিশ্বাসী বা অস্বাভাবিকভাবে আনন্দিত মনে হতে পারে। অনেক সময় নিজের ক্ষমতা নিয়ে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়, যা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।
২. ঘুমের প্রয়োজন কমে যাওয়া
স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম ঘুমিয়েও ক্লান্ত না লাগা – এটি ম্যানিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
৩. অতিরিক্ত কথা বলা বা দ্রুত চিন্তা চলা
মাথায় একসঙ্গে অনেক চিন্তা আসা, দ্রুত কথা বলা বা কথার মধ্যে লাফিয়ে লাফিয়ে যাওয়া – এগুলোও ইঙ্গিত হতে পারে।
৪. ঝুঁকিপূর্ণ আচরণে জড়িয়ে পড়া
হঠাৎ বেশি খরচ করা, বেপরোয়া সিদ্ধান্ত নেওয়া বা এমন কিছু করা যা পরে ক্ষতির কারণ হতে পারে – এগুলো মুডের অস্বাভাবিক পরিবর্তনের অংশ হতে পারে।
৫. গভীর মন খারাপ বা আগ্রহ হারিয়ে ফেলা
কিছুদিন পরেই আবার সবকিছুতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা, ক্লান্তি, আশাহীনতা বা একাকীত্ব অনুভব করা – এগুলো ডিপ্রেশনের দিক নির্দেশ করে।
৬. কাজ বা সম্পর্কের ওপর প্রভাব পড়া
এই ওঠানামার কারণে কাজের পারফরম্যান্স কমে যাওয়া বা সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হওয়া। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত।
কখন বুঝবেন, বিষয়টি সিরিয়াস?
মুড সুইং সাধারণত স্বল্প সময়ের জন্য হয় এবং খুব বেশি আচরণগত পরিবর্তন আনে না। কিন্তু যদি –
>> মুড পরিবর্তন দীর্ঘদিন থাকে
>> আচরণে স্পষ্ট পরিবর্তন আসে
>> নিজের বা অন্যের জন্য ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত নেওয়া শুরু হয়
তাহলে এটি অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কী করবেন?
প্রথমত, নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন। এটা সাময়িক – ভেবে এড়িয়ে না গিয়ে পরিবর্তনগুলো খেয়াল করুন। প্রয়োজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলুন। পরিবার বা কাছের মানুষদের বিষয়টি জানানোও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অনেক সময় অন্যরাই পরিবর্তনটা আগে বুঝতে পারেন।
মনে রাখা দরকার, মানসিক সমস্যাগুলোও শারীরিক অসুস্থতার মতোই বাস্তব। সময়মতো শনাক্ত করা গেলে এবং সঠিক চিকিৎসা নিলে বাইপোলার ডিসঅর্ডার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনও করা যায়।
সূত্র: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, মায়ো ক্লিনিক, এনএইচএস, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com