শিল্প ও পর্যটনের অভয়ারণ্য সীতাকু-ের অধিবাসীদের মাঝে হঠাৎ করেই যেন উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। গত মাসাধিকাল ধরে বেশ কয়েকটি ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় এই উদ্বেগ। জানা যায়, ২৪ ডিসেম্বর গভীর রাতে বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড নুনাবিল এলাকায় ডাকাত দল হানা দেয় প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা হাজী জালাল আহম্মেদের বাড়িতে। এ সময় মুখোশধারী ডাকাতরা জালাল আহম্মেদসহ ঘরের অন্যান্য সদস্যদের হাত-পা বেঁধে, গলায় ছুরি ঠেকিয়ে নগদ টাকা ও ২০ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। ঘটনার পরদিন সীতাকুন্ড থানায় অভিযোগ দায়ের করেন জালাল আহম্মদের পুত্র আব্দুল আল হুমায়ুন। জালাল আহম্মদ জানান, আমার বাড়ির গোপন দরজা দিয়ে রাত ২টার সময় ডজন খানেক লোক দরজা ভেঙে ঢুকে পড়ে। এসময় তারা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপর থানায় অভিযোগ করলেও তেমন কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। অপরদিকে গত ৪ জানুয়ারি সীতাকুন্ডের মুরাদপুর ইউনিয়নের গোলাবাড়িয়া গ্রামের খলিল ভূঁইয়া বাড়ির প্রবাসী হেলাল ও আরাফাতের বাড়িতে পরিবারের সবাইকে রাতের খাবারের সাথে চেতনানাশক ঔষধ মিশিয়ে দূধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই দুই পরিবারের ১৬ সদস্য অজ্ঞান হয়ে পড়লে চোরের দল স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ও মূল্যবান সরঞ্জাম লুটে নেয়। পরে স্থানীয়রা তাদের সীতাকুন্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করালে কয়েকদিন চিকিৎসার পর তারা সুস্থ্ হয়ে ওঠে। তবে সীতাকুন্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নুর উদ্দিন রাশেদ জানান, হাসপাতালে আনতে দেরী করলে অথবা চেতনানাশক ঔষধের পরিমাণ বেশী হলে রোগীরা মারাও যেতে পারতো। এদিকে ডাকাত দলের হাত থেকে রেহাই পায়নি জননিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরাও। ২৬ ডিসেম্বর শনিবার সীতাকু- মডেল থানার এস.আই হারুনুর রশিদ ও এস.আই সাজিব একটি প্রাইভেটকার যোগে বড় দারোগাহাট স্কেলের দিকে যাওয়ার পথে নুনাছড়া এলাকায় ডাকাত দলের কবলে পড়েন। এসময় ডাকাতদল সাধারণ মানুষ মনে করে গাড়িতে লোহার টুকরো ছুঁড়ে মারলেও পরে পুলিশ দেখে পালাতে চেষ্টা করে। কিন্তু সুদক্ষ এস.আই হারুন ও সাজিব দৌড়ে এক ডাকাতকে ধরে ফেলেন। অন্যরা মোটরসাইকেল রেখে পালিয়ে যায়। ডাকাতির ঘটনা ছাড়াও সীতাকুন্ডে বেড়েছে ছিনতাইয়ের ঘটনাও। ২৬ ডিসেম্বর সীতাকুন্ড পৌরসভার এয়াকুব নগর গ্রামের মসজিদের ইমাম তার স্মার্টফোন চুরি হওয়ার বিষয়ে সীতাকুন্ড থানায় একটি ডায়েরী করেন। অপরদিকে সীতাকুন্ড পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড সোবহানবাগ গ্রামে একটি বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে নাহিদা আক্তার নামে এক মহিলা সীতাকুন্ড মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। নাহিদা আক্তার বলেন, ৩১ ডিসেম্বর ভোর রাতে আমাদের বাড়িতে চুরি হয়। এ ঘটনায় আমাদের বাসার দুটি স্মার্টফোন ও নগদ ১৪ হাজার টাকা চুরি হয়। একইভাবে গত ৬ জানুয়ারি সীতাকুন্ড পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডে মহিলা মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে এলাকাবাসী একদল ডাকাতকে ধাওয়া করে। তাছাড়া চলতি মাসে বাসে ছিনতাইয়ের অভিযোগে আইয়ুব নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে জনতা। অন্য এক ঘটনায় ২৯ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সীতাকুন্ডের ভাটিয়ারীতে জসিম উদ্দিন(৬০) নামে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয় দুস্কৃতিকারী একটি চক্র। পরে ওই দিন রাতে অপহৃত ব্যবসায়ী সহ তার সহকারী ইলেকট্রিক মিস্ত্রি রমজান আলীকে অচেতন অবস্থায় হাফিজ জুট মিল গেইট এলাকা থেকে পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করে। অপহৃত ব্যবসায়ীর ছেলে ইসলাম শাহরিয়ার জানান, ‘আমার বাবা ইলেকট্রিক মেশিন কিনতে মিস্ত্রিকে নিয়ে ভাটিয়ারী যাওয়ার পথে অপহৃত হন। পরে অচেতন অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।’ এসব বিষয়ে সীতাকুন্ড মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন বণিক খবরপত্রকে বলেন, চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধে আমরা খুব হার্ডলাইনে রয়েছি। ইতিমধ্যে চিহ্নিত ডাকাত ও অপহরণ মামলার আসামী কাজল ডাকাতসহ ১২ জন ডাকাতকে আটক করা হয়েছে। থানায় দুটি মামলা হয়েছে, এসব মামলায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পেশাদার পলাতক ডাকাতদের অভিযানের মাধ্যমে গ্রেফতার করা হচ্ছে। পুলিশের তল্লাশী ও টহল বাড়ানো হয়েছে। কঠোর নজরদারির মাধ্যমে চুরি-ডাকাতি ঠেকানো হবে। আমরা একনিষ্ঠভাবে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।