রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ০২:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম ::
খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত আত্রাই এলাকার উন্নয়নে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না-এমপি রেজু শেখ রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে অভিনেতা শামস সুমন ধামইরহাটে দল ও জনগণের সমর্থন পেলে পৌরবাসীর সেবা করতে চান আনোয়ারুল ইসলাম কয়রায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ তারাকান্দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেক অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছাল নিহত বিএনপি নেতা অলিউল্লাহ মোল্যার বাড়িতে নড়াইলের লোহাগড়ায় জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

পবিত্র কুরআনে শিল্পকর্ম

হাশিম আবদুল হাকিম
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২১

ব্যবসাবাণিজ্যের পাশাপাশি শিল্পকর্মও মানুষের অন্যতম পেশা। এ মহতী পেশায় জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নিয়োজিত রয়েছে। এ কর্মটি সম্পর্কে ইসলাম যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করেছে। যুগে যুগে পাঠানো নবী-রাসূলরা শুধু উৎসাহের বাণী দিয়েই ক্ষান্ত হননি; বরং শিল্প ও ব্যবসার ময়দানে তাদের বিশাল অবদান রয়েছে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে- ‘আমি তাঁকে (দাউদ আ:) বর্ম নির্মাণ শিক্ষা দিয়েছিলাম যাতে তা যুদ্ধে তোমাদের রক্ষা করে’ (সূরা আম্বিয়া-৮০)। কাতাদাহ রহ: বলেন, দাউদ আ:-এর আগে বর্ম তৈরি হতো; কিন্তু তা হতো স্বাভাবিক পাতের, কড়া ও শিকলহীন। দাউদ আ: সর্বপ্রথম কড়া ও শিকলবিশিষ্ট বর্ম তৈরি করেন’ (ইবনে কাসির)।
এরপর সূরা সাবাতে মহান আল্লাহ কারিগরি শিক্ষা দিয়ে বলেন, ‘আমি তার জন্য লোহাকে নরম করে দিয়েছিলাম এবং তাকে বলেছিলাম, তুমি পূর্ণ মাপের বর্ম তৈরি করো, ওগুলোর কড়াসমূহ যথাযথভাবে সংযুক্ত করো (বুননে পরিমাণ রক্ষা করো) এবং তোমরা সৎ কাজ করো। তোমরা যা কিছু করো নিশ্চয় আমি তার সম্যক দ্রষ্টা’ (সূরা সাবা : ১০-১১)।
তাফসির আহসানুল বায়ানে এ আয়াতের শাব্দিক ব্যাখ্যায় বলা হয়েছেÑ পূর্ণ মাপের লম্বা লৌহবর্ম (তৈরি করো), যা যোদ্ধার পূর্ণ শরীর ঠিকভাবে আবৃত করে এবং তাকে শত্রুর আঘাত থেকে বাঁচাতে পারে। (কড়াসমূহ যথাযথ সংযুক্ত করো) যাতে ছোট-বড় না হয়ে যায়, অথবা টাইট বা ঢিলা না হয়ে যায়। অর্থাৎ কড়াসমূহ সংযুক্ত করতে তার খিলগুলো এমন পাতলা না হয়, যাতে জোড়াগুলো নড়াচড়া করতেই থাকে এবং তাতে স্থিরতা না আসে। পরন্তু এমন মোটাও যেন না হয়, যাতে তা ভেঙেই যায় অথবা তা জমে না যায় এবং তা পরাই সম্ভব না হয়। এখানে দাউদ আ:কে লৌহবর্ম তৈরি করার নিয়ম বলা হয়েছেÑ এ থেকে আরো জানা গেল, শিল্পকর্মে বাহ্যিক সৌন্দর্যের প্রতি লক্ষ রাখাও পছন্দনীয় ও জরুরি। কেননা, আল্লাহ তায়ালা বিশেষভাবে এ নির্দেশ দিয়েছেন (মাআরিফুল কুরআন)।
দাউদ আ:-এর জন্য যেমন লোহা নরম করে দেয়া হয়েছিল, অনুরূপ সুলাইমান আ:-এর জন্য তামার প্রবাহিত ঝরনা দেয়া হয়েছিল যাতে তামা পদার্থ দ্বারা তিনি অনায়াসে ইচ্ছামতো পাত্র ইত্যাদি বানাতে পারেন। আল্লাহ বলেন, ‘আমি বাতাসকে সুলাইমানের অধীন করেছিলাম, যা ভোরে এক মাসের পথ অতিক্রম করত ও সন্ধ্যায় এক মাসের পথ অতিক্রম করত। আমি তার জন্য গলিত তামার এক ঝরনা প্রবাহিত করেছিলাম। আল্লাহর অনুমতিক্রমে কিছুসংখ্যক জিন তার সম্মুখে কাজ করত’ (সূরা সাবা-১২)। জিনেরা সুলাইমান আ:-এর ইচ্ছানুযায়ী তার জন্য প্রাসাদ তৈরি করত। মুজাহিদ রহ: বলেন, অর্থ- বড় বড় দালানের তুলনায় ছোট ইমারত-ভাস্কর্য শিল্প প্রস্তুত করত, আর হাউজ সদৃশ বৃহদাকার রান্না করার পাত্র তৈরি করতÑ যেমন উটের জন্য হাওম থাকে। ইবনে আব্বাস রা: বলেন, যেমন জমিনে গর্ত থাকে। আর তৈরি বিশাল বিশাল ডেকচি যা সুদৃঢ়ভাবে স্থাপিত।
আল্লাহ তায়ালাহ ছালেহ আ:-এর সময় সামুদ সম্প্রদায়কে যে শিল্পদক্ষতা দান করেছিলেন তা উল্লেøখ করে কুরআনে বলেন, ‘স্মরণ করো, আদ জাতির পর তিনি তোমাদেরকে (সামুদ সম্প্রদায়কে) তাদের স্থলাভিষিক্ত করেছেন এবং তিনি তোমাদেরকে পৃথিবীতে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন যে, তোমরা নম্র ভূমিতে প্রাসাদ এবং পাহাড় কেটে বাসগৃহ নির্মাণ করছ। সুতরাং আল্লøাহর অনুগ্রহ স্মরণ করো এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় ঘটিও না।’ (সূরা আরাফ-৭৪)।
তাফসির আহসানুল বায়ানে বলা হয়েছে, ‘নম্র্র ভূমিতে প্রাসাদ’ এর অর্থ হলো, নরম জমিন থেকে মাটি নিয়ে ইট তৈরি করো এবং সেই ইট দিয়ে অট্টালিকা নির্মাণ করো। যেমনÑ আজো ভাটিতে এভাবে (নরম) মাটি দিয়ে ইট তৈরি করা হয় এবং তোমাদেরকে এ শিল্পকার্য শিক্ষা দিয়েছেন যে, উন্মুক্ত জায়গায় তোমরা প্রাসাদোপম অট্টালিকা নির্মাণ করে ফেলো এবং পাহাড়ের গাত্র খোদাই করে তাতে প্রকোষ্ঠ তৈরি করো। ফলে তারা প্রস্তর খোদাই ও স্থাপত্যবিদ্যায় খুবই পারদর্শী ছিল। সমতল ভূমিতে বিশালকায় অট্টালিকা নির্মাণ ছাড়াও পর্বতগাত্র খোদাই করে তারা নানা রূপ প্রকোষ্ঠ নির্মাণ করত। তাদের স্থাপত্যের নিদর্শনাবলি আজো বিদ্যমান রয়েছে। এগুলোর গায়ে ইরামি ও সামুদি বর্ণমালার শিলালিপি খোদিত রয়েছে।
অতএব, উল্লিখিত আয়াতদ্বয়ে দেখা যাচ্ছে, আল্লাহ তায়ালা নবীদেরকেও বা তাদের কোনো কওমকে কোনো বস্তুর ওপর শিল্পের বিশেষ দক্ষতা দান করেছেন। যা বর্তমান বিভিন্ন গবেষণায়ও প্রমাণিত হচ্ছে এবং তা পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে বিভিন্নভাবে। আসলে প্রতিটি শিল্পকর্মের সূচনা ওহির মাধ্যমে। হাফেজ শামসুদ্দিন জাহাবি রচিত ‘আত-তিব্বুন-নববি’ কিতাবে বর্ণিত, মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সব রকম শিল্প ওহির মাধ্যমে কোনো না কোনো নবীর পবিত্র হস্তে (বা সেই সময়ে) শুরু হয়েছে। অতঃপর প্রয়োজন অনুসারে যুগে যুগে তার মধ্যে উন্নতি-অগ্রগতি ও উৎকর্ষ সাধন করা হয়েছে। সর্বপ্রথম আদম আ:-এর প্রতি যেসব ওহি নাজিল করা হয়েছিল তার অধিকাংশ ছিল ভূমি আবাদ করা, কৃষিকাজ ও শিল্পসংক্রান্ত। পরিবহনের জন্য চাকাচালিত গাড়ি আদম আ:-ই সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেছিলেন। কালের বিবর্তনে বিভিন্ন প্রকার গাড়ি আবিষ্কৃত হয়েছে, কিন্তু সব গাড়ির ভিত্তি চাকার ওপরই। কাজেই, যিনি সর্বপ্রথম চাকা আবিষ্কার করেন তিনিই সবচেয়ে বড় আবিষ্কারক। এ থেকে বোঝা গেল, মানুষের প্রয়োজনীয় শিল্পকর্ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাসম্পন্ন। তাই আল্লাহ স্বীয় রাসূলদেরকে ওহির সাহায্যে তা শিক্ষা দিয়েছেন মানব জাতির কল্যাণে।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রমাণিত হয়, প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি আবিষ্কার ও তৈরি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আল্লাহ স্বয়ং একে গুরুত্ব দিয়ে তিনি তাঁর নবীদের শিক্ষা দিয়েছেন। আরো উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, নূহ আ:-এর নৌকা বানানোর কৌশল শিক্ষা। সুতরাং মানব জাতির কল্যাণে সব জ্ঞানের ধারাই যে পবিত্র কুরআনে বিদ্যমান তা আবারো প্রমাণিত হলো উল্লিøখিত আলোচনায়। আল্লাহ ঘোষণা দেন, ‘এ (কুরআন) হচ্ছে কল্যাণময় উপদেশবাণী। আমি এ কুরআনে মানুষের (জ্ঞান লাভের) জন্য যাবতীয় দৃষ্টান্ত বিশদভাবে বিবৃত করেছি, কিন্তু মানুষ অধিকাংশ বিষয়েই বিতর্ককারী’ (সূরা আম্বিয়া-৫০, কাহফ-৫৪)।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com