১১ চার ও ৫ ছক্কায় সাইফ হাসান খেলেন ১২০ রানের ঝলমলে ইনিংস। শেষ দিকে ব্যাটিংয়ে নেমে শামীম হোসেনের ব্যাটে ছিল ঝড়। ২৫ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় তার ব্যাট থেকে আসে ৪৪ রান। বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ব্যাটিংয়ে ৪৪ বলে ৪৩ রান করেন তৌহিদ হৃদয়। এই ব্যাটসম্যানত্রয়ীর দায়িত্বশীল ইনিংসে তৃতীয় আনঅফিসিয়াল ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল ৬ উইকেটে হারিয়েছে আয়ারল্যান্ড উলভসকে।
টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ড উলভস ৪ উইকেটে ২৬৪ রান তোলে। জবাবে বাংলাদেশ ৪৫.৩ ওভারে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে। লক্ষ্য তাড়ায় অধিনায়ক সাইফ বেশ দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। তবে স্ট্রাইক রেট থেকে বাউন্ডারিতে বেশি রান তুলেছেন তিনি। ১২০ রানের ইনিংসে ৭৪ রানই এসেছে বাউন্ডারি থেকে। তার ব্যাট থেকে প্রথম ছক্কা আসে লেগস্পিনার গেরাথের বলে। তাকে লং অফে উড়িয়ে শুরু হয় সাইফের। এক ওভার পর একই বোলারকে কাভারের ওপর দিয়ে দৃষ্টিনন্দন শটে হাঁকান ছক্কা। এগিয়ে এসে দুইবার তার বল সীমানার বাইরে পাঠিয়েন সিদ্ধহস্তে।
নার্ভাস নাইন্টিজেও সাইফ ছিলেন অকুতোভয়। গেরাথের শর্ট বল পুল করে মিড উইকেট দিয়ে চার মেরে ৯৩ থেকে ৯৭ রানে পৌঁছান ডানহাতি ব্যাটসম্যান। পরের বল ইনসাইড আউট শটে কাভারের ওপর দিয়ে ছক্কা। ৯৭ থেকে তার রান একলাফে ১০৩। যা তার লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি। তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পর ইনিংসটি বড় করছিলেন ঠিকঠাক মতো। কিন্তু দুর্বল এক শটে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ১২০ রানে থামেন সাইফ।
জয় থেকে ৬৬ রান দূরে থাকতে সাইফ যখন আউট হন, তখন ক্রিজে আসেন শামীম। গত ম্যাচের মতো বাঁহাতি ব্যাটসম্যান মাঠে নেমেই দেখান আগ্রাসন। তৌহিদ হৃদয়ের পর চাপ কমিয়ে ২২ গজে ঝড় তোলেন এ ব্যাটসম্যান। তাতে বাংলাদেশ পেয়ে যায় সহজ জয়। হৃদয় ৪৩ ও শামীম ৪৪ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। এর আগে ইনিংসের শুরুতে আউট হন তানজিদ (১৭)। মন্থর গতিতে ব্যাটিং করা মাহমুদুল হাসান জয়ের ব্যাট থেকে আসে ১৬ রান। ইয়াসির ইনিংসটি বড় করতে পারেননি, চেজের বলে বোল্ড হওয়ার আগে করেন ১৩ রান। এর আগে আয়ারল্যান্ডের হয়ে ব্যাটিংয়ে সর্বোচ্চ ৮২ রান করেন উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান টার্কার। ৫৩ বলে ৯ চার ও ২ ছক্কায় তিনি ইনিংসটি সাজান। এছাড়া কাম্পার ৪৩, ম্যাককুলাম ৪০ ও টেক্টর ৩৬ রান করেন।
বল হাতে ইমার্জিং দলের পক্ষে ৫৩ রানে ৩ উইকেট নেন মুকিদুল ইসলাম। একটি করে উইকেট নেন সুমন খান ও হৃদয়। এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-০ তে এগিয়ে গেলো বাংলাদেশ। চট্টগ্রাম পর্বে টানা দুটি ম্যাচ জিতলো স্বাগতিকরা। দুই দল আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা ফিরবে। ১২ মার্চ চতুর্থ ওয়ানডে হবে ঢাকায়। শেষ ওয়ানডে ১৪ মার্চ। ওয়ানডে সিরিজ শেষে দুই দল খেলবে দুইটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। ১৭ ও ১৮ মার্চ দুইটি ম্যাচই হবে ঢাকায়। ১৯ মার্চ ঢাকা ছাড়বে অতিথি দল।