সাংবাদিক দুলাল হোসাইন। জামালপুর জেলাবাসীর খুবই প্রিয় এবং পরিচিত একজন সাংবাদিক। নব্বই দশকে জামালপুর জেলার সর্বপ্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা ঝিনাই এর নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে কাজ করে সুনাম কুড়িয়েছেন পুরো জেলায়। নিজের মেধা, মনন ও পরিশ্রম দিয়ে কাজ করেছেন দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায়। বর্তমানে জামালপুর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন দৈনিক ভোরের কাগজ এবং ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনে। তাঁর ক্ষুরধার লেখনীতে প্রতিফলিত হয়েছে সাধারন মানুষের কষ্ট- দুঃখ ও আশা-আকাংক্ষা। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে হাজারো বার নজর কেড়েছেন এই জেলার লাখো মানুষের। ৮ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের ইতি টানতে যাচ্ছেন এই গুনী সাংবাদিক। হঠাৎই ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে। প্রতিটি মুহুর্ত কাটাচ্ছে মরন যন্ত্রনায়। সাংবাদিক দুলাল হোসাইনের মেয়ে সুলতানা জান্নাত স্বপ্না বলেন-“আমার বাবা ইচ্ছা করলে সাংবাদিকতা করে অনেক টাকার মালিক হতে পারতো। কিন্তু তিনি সারাজীবন সাধারন মানুষের জন্য কাজ করেছেন। তিনি গরীবদের সাংবাদিক হিসেবে এই জেলায় বেশি পরিচিত। জীবনের শেষ সময়ে তিনি এখন মরন যন্ত্রনায় ভুগছেন।” তনি আরো বলেন-“আমরা আর্থিকভাবে তেমন স্বচ্ছল নয়। তবে আমরা যতটুকু পারি আমাদের শেষটুকু দিয়ে হলেও বাবার চিকিৎসা করবো। আসলে আমি অনেক দেখেছি। মফস্বল সাংবাদিকদের শেষ জীবনটা খুবই কষ্টের হয়। তারা সারাজীবন দেশের কল্যানে কাজ করে যায় আর শেষে ধুকে ধুকে মারা যায়। বাবার অনেক সহকর্মী এভাবে মারা গেছেন। ” ধু সাংবাদিক দুলাল হোসাইন নয়। এমন পরিস্থিতির শিকার জেলার প্রায় সকল জৈষ্ঠ্য সাংবাদিক। ীর্ঘ দুই বছর কিডনীতে জটিল রোগে ভুগছিলেন দি ডেইলি স্টারের জামালপুর প্রতিনিধি এবিএম আমিনুল ইসলাম লিটন। কিডনী প্রতিস্থাপনের জন্য গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে যান সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম। ন্নত চিকিৎসার সময় দিল্লিতেই গত ১৬ এপ্রিল করোনায় আক্রান্ত হন তিনি। অবস্থার অবনতির পর তাকে আইসিইউতে প্রেরন করা হলে গত ১লা মে শেষ নি:শ^াস ত্যাগ করেন এই মেধাবী সাংবাদিক। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে জেলার সাংবাদিকদের মাঝে। ামালপুর জেলা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক শোয়েব হোসেন জানান-“নিরপেক্ষ সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম লিটনের মৃতু একটি অপূরনীয় ক্ষতি। বিভিন্ন জটিলতার কারনে তার মরদেহ এখনো ভারতেই আছে। তার মরদেহ আনার সকল ব্যবস্থা করছে ডেইলি স্টার। আমরা সারা জীবন কষ্ট করে দেশ ও দশের জন্য কাজ করি আর জীবনের শেষ সময়ও কষ্ট করেই পার করি। মফস্বল সাংবাদিকদের জীবন এমনই হয়। বেচে থাকতেও কষ্ট, মৃত্যুও পরও কষ্ট। ”দীর্ঘ কয়েক বছর নানান জটিল রোগে ভুগছিলেন একুশে টেলিভিশনের জামালপুর প্রতিনিধি এবং জামালপুর প্রেসক্লাবের সদস্য আরিফ মাহমুদ। গত ৩ এপ্রিল শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাত্র ৪৫ বছর বয়সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন বিচক্ষন এই সাংবাদিক। ২০১৯ সালের ১৩ই এপ্রিল হৃদ যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান সেই সময়ের জামালপুর জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও এনটিভির সাংবাদিক শফিক জামান লেবু। নানান মরনব্যাধী রোগে আক্রান্ত হয়ে ২০২০ সালের ২৯ জুলাই এশিয়ান টিভির সাংবাদিক আব্দুল জলিল এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। এছাড়া নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে বেশ কয়েক বছর যাবত চিকিৎসাধীন রয়েছেন জামালপুর প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক এবং এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের সাংবাদিক লুৎফর রহমান, বিটিভির সাংবাদিক মোস্তফা বাবুল, সিনিয়র সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন ও সৈয়দ শওকত জামান। জামালপুর প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক লুৎফর রহমান বলেন- “ ইদানিং এই জেলার কোনো সাংবাদিক বার্ধক্যজনিত কারনে মারা যাচ্ছে না। সবাই হঠাৎই নানান রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। আসলে মফস্বলের সাংবাদিকরা অমানষিক পরিশ্রম করে। তাদের খাবার খাওয়াসহ কোনো কিছুরই রুটিন ঠিক থাকে না। এর জন্য তারা কম বয়সে নানান রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এর সবই হয় শুধু মাত্র সাংবাদিকতরা জন্য। মফস্বলের সাংবাদিকরা সারা জীবন দেশের কল্যানে কষ্ট করে এবং শেষ জীবনটাও তাদের অনেক কষ্টে যায়। ”জামালপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি হাফিজ রায়হান সাদা বলেন-“ মফস্বলের সাংবাদিকরা সকলেই আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল। তাই তারা যখন নানান জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে তখন তাদের উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। তাদের এই চিকিৎসার খরচ জোগানোর জন্য কিছু সরকারি অনুদান পায়। এই অর্থগুলোও পর্যাপ্ত নয়। আমরা নানা জায়গা থেকে টাকা নিয়ে তাদেরকে সাহায্যের চেষ্টা করি। কিন্তু এভাবে আর কতদিন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি শুধু মাত্র সাংবাদিকদের চিকিৎসার জন্য একটি সরকারি হাসপাতালের ব্যবস্থা করে দিতো তাহলে শুধু জামালপুর নয় এদেশের সকল গুরুত্বর অসুস্থ মফস্বল সাংবাদিক উন্নত চিকিৎসা গ্রহন করে উপকৃত হতো।