একে সুস্বাদু, অন্যদিকে কচি তালের শাঁসে জলীয় অংশ বেশি থাকায়, তা দেহের পানিশূন্যতা অনেকটাই পূরণ করে। ফলে জ্যৈষ্ঠের এ গরমে ফটিকছড়ির হাট-বাজারে বেশ কদর বেড়েছে তালের শাঁসের। ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এ, বি ও সিসহ নানা ধরনের পুষ্টির চাহিদাও মিটছে তালের শাঁসে। পাশাপাশি মৌসুমি ফল হিসেবে তালের শাঁস অবদান রাখছে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রামসহ সারা দেশে পড়ছে প্রচন্ড তাপদাহ। আর এই প্রচন্ড তাপদাহে জনজীবন হয়ে ওঠেছে বিপর্যস্থ ও দুর্বিসহ। তাপদাহের প্রচন্ড এই গরমে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে জমে উঠেছে মৌসুমি ফল হিসেবে পরিচিত তালের শাঁসের বেচা-কেনা। করোনায় অনেক বেকার যুবকের এই তালের ব্যবসা করে বাড়তি আয়েরও পথ খুজছেন অনেকে। চাহিদা বেশি থাকায় দামও বেশি বলে জানিয়েছে ক্রেতা-বিক্রিতারা। উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার প্রতিটি হাট-বাজার, রাস্তার মোড়, এলাকার বিভিন্ন দোকানের সামনে তালের ফসরা বসিয়েছে বিক্রেতারা। তাতে ভিড় জমিয়েছে ছোট-বড় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পানি-তাল হিসেবে প্রতিটি তাল ১৫-২০ টাকা দরে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা এবং ধারালো দা দিয়ে তা কেটে তালের শাঁস বের করে দিচ্ছেন তৃষ্ণার্ত ক্রেতাদের। অনেকেই রাস্তার পাশে বসে ও দাঁড়িয়ে এ ফল খাচ্ছেন। কেউ খুচরো কিনছেন, কেউবা কাঁধি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন বাড়িতে। উপজেলার সদর বিবিরহাটে রাস্তার পাশে বসে তালের শাঁস বিক্রি করছেন স্থানীয় তাল বিক্রেতা হারুণ। তিনি জানান, কয়েকদিনের গরমে তালের শাঁস বা বিচির চাহিদা বেড়েছে। প্রচন্ড গরম থেকে বাঁচতে অনেক তালের বিচি খাচ্ছে।আবার অনেকে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছে। পাইন্দং এলাকার বেড়াজালী গ্রামের শামসুল আলম নামে আরেক মৌসুমী ফল বিক্রেতা জানান, প্রতিটি তালে থেকে তিন থেকে চারটি শাঁস বা বিচি হয়। প্রতি পিস এখন ৭ টাকায় বিক্রি হয়। তলের শাঁস বা বিচি অত্যন্ত সুস্বাদু ও পানি জাতীয় তুলতুলে নরম ফল হওয়ায় ছোট-বড় সকলে এই ফল পছন্দ করে। মো: মামুন ও ইসমাঈলসহ কয়েকজন তাল শাঁস ক্রেতা বলেন, গ্রামঞ্চলে মৌসুমি ফল হিসেবে তালের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি। মৌসুমি ফলগুলোতে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ও ফরমালিন ব্যবহার করায় ফলগুলো মানবদেহে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। কিন্তু তালে কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়না। তাই এই ফলটি যেমন স্বাস্থ্যকর তেমনি মানবদেহের জন্য খুবই উপকারী।