বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৪:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম ::
খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত আত্রাই এলাকার উন্নয়নে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না-এমপি রেজু শেখ রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে অভিনেতা শামস সুমন ধামইরহাটে দল ও জনগণের সমর্থন পেলে পৌরবাসীর সেবা করতে চান আনোয়ারুল ইসলাম কয়রায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ তারাকান্দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেক অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছাল নিহত বিএনপি নেতা অলিউল্লাহ মোল্যার বাড়িতে নড়াইলের লোহাগড়ায় জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

নওগাঁয় এক সপ্তাহে মারা গেল ১১ হাজার মুরগি

মোশারফ হোসেন জুয়েল নওগাঁ :
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৫ মে, ২০২১

নওগাঁর পোরশায় অজ্ঞাত রোগের প্রাদুর্ভাবে মুরগী মারা যাওয়ায় সোনালী মুরগি খামারি রবিউল ইসলাম নামে এক উদ্যক্তার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। খামারে পাঁচটি শেডে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ১১ হাজার পিচ মুরগি মারা যাওয়ায় ওই খামারি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। খামারে বিনিয়োগের জন্য বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধেও দুশ্চিন্তায় আছেন। অভিযোগ আছে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ শরিফুল ইসলাম কোন খামারে পরামর্শ দেওয়ার জন্য গেলে ভিজিট (পরিদর্শন) ফি হিসেবে টাকা দিতে হয়। তা না হলে তিনি কোন খামারির খামারে যাবে না বা পরামর্শ দিবেন না। জানা যায়, উপজেলার তেঁতলিয়া ইউনিয়নের জালুয়া গ্রামের উদ্যোক্তা খামারি রবিউল। এক সময় তিনি প্লাস্টিকের দোকান করতেন। সেই দোকানে বেচাকেনা কম এবং লাভ কম হওয়ায় বাধ্য হয়ে দোকান ছেড়ে দিয়ে উদ্যক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। ২০১৮ সালে ১৫ হাজার টাকা নিয়ে ব্রয়লার মুরগির খামার শুরু করেন। সেবার তিনি বেশ কিছু টাকা লাভ করেন। তবে ব্রয়লারে পরিশ্রম ও খরচের পরিমাণ বেশি হওয়ায় কিছু দিনের মধ্যে তা বাদ দিয়ে ঝোঁকেন সোনালী মুরগির দিকে। এরপর পেছনে ফিরতে হয়নি তাকে। লাভ বেশি হওয়ায় তার স্বপ্নও বেড়ে যায়। ফলে খামার সম্প্রসারণ করে পাঁচটি সেড করেন। খামারে ৭-৮ হাজার টাকা বেতনে কাজ করছেন ৫জন শ্রমিক। এ মাসে তার খামারের পাঁচটি শেডে বিভিন্ন বয়সের ১২ হাজার ৭০০ পিস সোনালী মুরগি ছিল। এগুলোর মধ্যে বাচ্চা ৯ দিন বয়সের তাপমাত্রা (ব্রুডিং) এ আছে ৩ হাজার ৫০০ পিস, ৫৮ দিন বয়সের ৩ হাজার ৬০০পিস, ৪৭ দিন বয়সের ২ হাজার ৯৫০ পিস, ৩১ দিন বয়সের ৩ হাজার ৩০০ পিস এবং ১৭ দিন বয়সের ২ হাজার ৮৫০ পিস মুরগি ছিল। গত ১৭ মে রাতে হঠাৎ করে একটি সেডে চারটি মুরগি মারা যায়। পরেরদিন মুরগি মারা যাওয়ার সংখ্যা বেড়ে যায়। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে সবগুলো মুরগি মারা যাওয়ার পরে খামারটিতে বর্তমানে ৭০০ পিসের মতো আছে। জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে পরামর্শ নিয়েও কোন ঔষধ দিয়ে প্রতিকার মিলছে না। তবে বড় মুরগিগুলোতে রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও ছোটগুলো ভাল আছে। মৃত মুরগিগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। রবিউল ইসলাম জানান, মুরগি মারা যাওয়ার বিষয়টি স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে ফোনে জানালেও তিনি কোন গুরুত্ব দেননি। এ শ্রেণির খামার নিবন্ধিত খামার হওয়ায় বাধ্য হয়ে জেলা কর্মকর্তাকে অবগত করেন। খবর পেয়ে তিনি খামার পরিদর্শনে আসেন ও পরামর্শ দেন এবং কিছু মৃত মুরগি পরীক্ষার জন্য নিয়ে যান। তারপরেও মুরগি মারা যাওয়া থামেনি। প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাঃ শরিফুল ইসলাম কয়েকবার তার খামারে এসেছিলেন এবং তাকে কিছু টাকাও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু টাকা দেয়া বন্ধ করার কারনে তিনি আর খামারে আসেন না। এমনকি পরামর্শের জন্য ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেন না। পূর্ব থেকে তার পরামর্শ পেলে হয়ত মুরগিগুলো বাঁচানো যেত। মুরগিগুলো মারা যাওয়ায় তার প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। এগুলো বেঁচে থাকলে প্রায় ১৮-১৯ লক্ষ টাকার মতো বিক্রি হতো। এতে তার প্রায় ৫-৬ লক্ষ টাকার লাভ হতো বলে জানান। কিন্তু সব শেষ হওয়ায় এনজিও পাবে ৩ লাখ ও ফিডের দোকান বাঁকী ১০ লাখ টাকা। এসব টাকা পরিশোধ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বলে জানান। এ বিষয়ে জানার জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ শরিফুল ইসলামকে একাধীকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। নওগাঁ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মহির উদ্দিন জানান, খামারি রবিউল ইসলাম তার খামারের ব্যাপারে আমাকে অবগত করলে তিনি সরেজমিনে তার খামার পরিদর্শন করেন বলে জানান। তিনি জানান, মারা যাওয়া মুরগির কিছু নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য জয়পুরহাট ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছিল। পরীক্ষার পর রানীক্ষেত, কক্সিডিওসিস ও গামবুরো এ তিনটি রোগের প্রাদুর্ভাব দেখাগেছে। রোগ ভাল করার জন্য কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া মৃত মুরগিগুলো মাটি চাপা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে ওই খামারির সঙ্গে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কিছু ভুল বুঝাবুঝি হতে পারে বলেও তিনি জানান।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com