বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৫:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম ::
খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত আত্রাই এলাকার উন্নয়নে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না-এমপি রেজু শেখ রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে অভিনেতা শামস সুমন ধামইরহাটে দল ও জনগণের সমর্থন পেলে পৌরবাসীর সেবা করতে চান আনোয়ারুল ইসলাম কয়রায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ তারাকান্দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেক অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছাল নিহত বিএনপি নেতা অলিউল্লাহ মোল্যার বাড়িতে নড়াইলের লোহাগড়ায় জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

জলঢাকায় ভালো নেই মৃৎশিল্প ব্যবসায়ীরা

জলঢাকা প্রতিনিধি :
  • আপডেট সময় সোমবার, ৩১ মে, ২০২১

নীলফামারী জলঢাকায় এক সময় যখন মানুষ গ্রামের বাড়িতে মাটির হাড়ি পাতিলে রান্না বান্না করত। দাদা-দাদুরা গুম থেকে উঠে মাটির প্লেটে সকাল বেলা পান্তা ভাত খেত তা যেন আজ গল্পের মত।অথচ এক সময় মাটির আসবাবপত্রের বিকল্প কিছু ছিল না। রান্নাবান্নাসহ সব প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার হতো মৃৎশিল্পের জিনিস। মাটির হাঁড়িতে রান্না হতো ভাত-তরকারি, পিঠা খাওয়ার জন্য মাটির থালা ও গ্লাস, পানি রাখার জন্য ছিল মাটির কলস।আবার মেয়েরা কলসি কাঁদে করে দূর-দূরান্ত থেকে পানি নিয়ে আসতো। আজ-কাল এসব যেন গল্পের মতো। দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে এসব শিল্প।কালের পরিবর্তন ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় মাটির তৈরি আসবাবপত্রের প্রয়োজন যেন দিন দিন ফুরিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় মৃৎশিল্প ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান(৫৪) সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, মোর বাপ দাদার ব্যবসা মোর বাব করছে এলং মুই করোছং মোর ছোয়া ছোট এই ব্যাবসা করবে।এছাড়া আরো কয়েকজন মৃৎশিল্প ব্যবসায়ী আমিনুর রহমান(৪৫) মহুবার(৬৫) আজারুল সাথে কথা হলে তারা জানান, আমরা কেউ কেউ ৩৫ থেকে ৪৭ বছর ধরে এ ব্যাবসার সাথে জড়িত। এই ব্যাবসা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে করছি। বাপ-দাদার পেশা ছাড়তে পারছি না, তাই আজও এই শিল্পকে ধরে রেখেছেন কিছু মৃৎশিল্প পরিবার। রবিবার ও বৃহস্পতিবার সপ্তাহে দুই দিন হাটবার জলঢাকায় এবং শনিবার ও বুধবার সপ্তাহে দুই দিন হাটবার মীরগঞ্জে এই হাট গুলোতে সপ্তাহে ৪ দিন বিক্রি করতে পারেন তারা। এ গুলো সৈয়দপুরের চওড়া বাজার থেকে মৃৎশিল্প ব্যবসায়ীরা পাইকারী রেটে মাটির হারি, চুলার মুখ, মাটির চাউল দোয়ার কাদা, করাইর ঢাকনা, ঢাকনা, বাটনা, রুটি বাজা তেলাই, বাতের পাতিলের ঢাকনা, হারি-পাতিল কলসি ক্রয় করেন তারা।রবিবার জলঢাকার হাটে মাটির কলসি কিনতে আসা পূর্ব বালা গ্রামের আব্দুস সালাম(৪২) বলেন, গুয়া যাক দেওয়ার জন্য একটি মাটির কলস কিনতে এসেছি। মাটির কলসিতে গুয়া ঝাঁক দিলে ভাল থাকে তাই একটি কলসি কিনলাম। এছারা দুন্দিবাড়ী থেকে তেলাই কিনতে আসা মতিউর রহমান(২২) বলেন, পিঠা বানানোর জন্য একটা মাটির তেলাই কিনেছি। তেলাই তে চিতাই পিঠা খুব ভালো হয় তাই কিনলাম।তবে মৃৎশিল্প স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর সাথে কথা হলে তারা বলেন, আগের মত ব্যবসায় এখন আর চলেনা।বাপ-দাদার ব্যবসা ছাড়তেও পারছিনা। সুস্থ আছি এবং যতদিন সুস্থ থাকব এই ব্যাবসায়ী করে যাব। জলঢাকা ও মীরগঞ্জ হাটে আমরা সপ্তাহে চার দিন ব্যাবসা করতে পারি এতে যে টাকা রোজগার হয় তা দিয়ে কোন রকম বৌ-বাচ্চা নিয়ে দিন কাটাচ্ছি।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com