পলাশবাড়ী পৌরসভা পরিচালনায় স্থানীয় প্রশাসনের অসহযোগিতা ও বাধা প্রদানের অভিযোগে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পৌরসভা কার্যালয়ে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পৌরসভার মেয়র গোলাম সরোয়ার প্রধান বিপ্লব তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংবিধানের ৫৯ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পৌরসভা রাষ্ট্রের একটি প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে গণ্য। আইনগতভাবে পৌরসভার নাগরিক সনদপ্রদান, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ও সনদ প্রদান, অবকাঠামো উন্নয়ন, পানি ও পয়নিস্কাশন পরিচ্ছন্নতা, বর্জব্যবস্থাপনা, রাস্তা আলোকিত করণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, যানবাহনের পার্কিং স্থান ও বাসস্টান্ডের ব্যবস্থাকরণ, পরিবেশ রক্ষনাবেক্ষনের জন্য বৃক্ষরোপন, সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা, রাস্তার ফুটপাত নির্মাণ, নাগরিক নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলাসহ সবধরণের রাষ্ট্রীয় সেবা ও নাগরিকগণকে সেবা প্রদান করে। পৌরসভার সার্বিক ব্যয় নির্বাহের জন্য পৌরসভা আইন-২০০৯ এর ৩য় তফশিলে বর্ণিত বিভিন্ন কর, রেইট, টোল ফি ইত্যাদির মাধ্যমে পৌরসভা তাহার রাজস্ব আদায় করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় উক্ত তফশিলে উল্লেখিত মোটরগাড়ী ও নৌকা ব্যতীত অন্যান্য যানবাহনের উপর কর বা টোল নির্ধারণ ও আদায়ের জন্য গত ০৫/০৩/২০২১ তারিখে পৌর পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। জুলাই ২০২১ হতে টোল আদায়ের জন্য ইজারা প্রদানের নিমিত্তে সরকারী/অফিশিয়াল ইজারা মূল্য নির্ধারণের স্বার্থে ১৫ দিন অস্থায়ী ভিত্তিতে রশিদ মূলে টোল আদায়ের জন্য সিএনজি প্রতিটি ৩০টাকা, অটো প্রতিটি ১৫টাকা এবং ট্রলি কিংবা অনুরুপ যানবাহন প্রতিটির জন্য ৩০ টাকা হারে প্রাথমিক টোল নির্ধারণ করে দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে ৩ জন শ্রমিক নিয়োগ করা হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় পৌরসভার রশিদ মূলে তাহারা টোল আদায় করতে গেলে পলাশবাড়ী থানা পুলিশ তাহাদেরকে চাঁদাবাজীর মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। আমার স্বাক্ষরিত রশিদ বই দেখার পরেও থানা পুলিশ আমার সাথে কোনরুপ যোগাযোগ না করেই তাদেরকে গ্রেফতার করে মিথ্যা মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করে। যাহা পৌরসভার মত একটি নাগরিক সেবাদানকারী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি অত্যন্ত অবমাননাকর বলে আমি মনে করি। রাষ্ট্রীয় সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পৌরসভা পরিচালনায় সহায়তা করে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। সেখানে পৌরসভার কর্মকান্ডে বাধা প্রদান চরম অসহযোগিতামূলক মনোভাব রাষ্ট্রীয় অপরাধ বলে মনে করি। এহেন অপরাধের জন্য ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য পলাশবাড়ী থানার সংশ্লিষ্ট পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি। এ বিষয়ে পৌর পরিষদের সভায় আলোচনা করে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। সংবাদ সম্মেলনে পলাশবাড়ী পৌরসভার সকল কাউন্সিলগণ এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।