বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০৬:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম ::
রামগতির মেঘনায় ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ, জেলেদের মুখে হাসি গঙ্গাচড়ায় বিলীন হওয়ার পথে শিমুল গাছ কঠোর লকডাউনের মধ্যেও বরিশালের লাহারহাটে প্রশাসনের চোখের সামনেই চলছে অবৈধ স্পিডবোট মৌলভীবাজারে গত ২৪ ঘন্টায় সর্বোচ্চ আরও ২২৫ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের রেকর্ড ‘অক্সিজেন এক্সপ্রেস’ ট্রেন থেকে ভারতীয় তরল মেডিকেল অক্সিজেন খালাস করে সড়ক পথে নেয়া হচ্ছে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্টে ফেনী সদর উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে করোনা ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন ‘জয়যুগান্তর পত্রিকার অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রদান অনুকরণীয়’ যুবলীগ নেতা বক্করের উদ্যোগে আলাউদ্দিন নাসিমের সুস্থতা কামনায় সালাতুন নারিয়া খতম দুর্গাপুরে কমরেড মণি সিংহের ১২০তম জন্মজয়ন্তী পালিত কমলনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য সেবা ব্যাহত, ৫২ পদের মধ্যে ৩০ টি শূন্য




‘ড্রেন খনন-ত্রুটিপূর্ণ গ্যাস-বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় মগবাজারে বিস্ফোরণ’

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় বুধবার, ৩০ জুন, ২০২১




রাজধানীর মগবাজারে ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে আটজনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৮ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত। গত মঙ্গলবার (২৯ জুন) ঢাকা মহানগর হাকিম মো. আশেক ইমামের আদালত মামলার এজাহার গ্রহণ করে এই দিন ধার্য করেন। এর আগে মঙ্গলবার সকালে রমনা মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. রেজাউল করিম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অবহেলাজনিত প্রাণহানির অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ধসেপড়া ভবন মালিকের অব্যবস্থাপনা, অতিপুরাতন বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইন, ত্রুটিপূর্ণ গ্যাস ব্যবস্থাপনা অথবা ভাড়াটিয়া দোকানদার শর্মা হাউজের অননুমোদিত গ্যাস ও বৈদ্যুতিক সামগ্রীর ব্যবহার ও অবহেলা অথবা বেঙ্গল মিটের অননুমোদিত গ্যাস ও বৈদ্যুতিক সামগ্রীর ব্যবহার ও অবহেলা, অথবা গ্র্যান্ড কনফেকশনারির অননুমোদিত গ্যাস ও বৈদ্যুতিক সামগ্রীর ব্যবহার ও অবহেলা অথবা দ্বিতীয় তলায় সিঙ্গার ইলেকট্রনিকসের অননুমোদিত বৈদ্যুতিক সামগ্রী মজুত রাখা ও অবহেলা অথবা তিতাস গ্যাস কোম্পানির অবহেলাজনিত গ্যাস সরবরাহ অথবা বিদ্যুৎ সঞ্চালন কোম্পানির ত্রুটিপূর্ণ সংযোগ অথবা ঘটনাস্থলের সামনে সিটি করপোরেশনের অপরিকল্পিত ও গাফিলতিপূর্ণ ড্রেন খনন কাজের জন্য এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। যা পেনাল কোডের ৩০৪-ক ধারার অপরাধ। মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, গত ২৭ জুন সন্ধ্যা ৭টার দিকে রমনা মডেল থানাধীন বড় মগবাজারের রেখা নীড় ভবনের কোনো অংশে বিস্ফোরণের বিকট শব্দে ভবনের সামনের ও পেছনের অংশ ধসে পড়ে এবং মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিস্ফোরণের বিকট শব্দের ফলে ভবনের সামনে তিনটি যাত্রীবাহী বাস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বাসের যাত্রীরা আহত হন। আশপাশের কয়েকটি ভবন, তার মধ্যে আউটার সার্কুলার রোডের ৭৭, ৭৮,৭৯/১, ৮১ নম্বর ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভবনের বিপরীত দিকে রাস্তার ওপারে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভবনে অবস্থানরত লোকজনসহ সাধারণ পথচারীও জখম হন।
পরবর্তীতে বোম্ব ডিস্পোজাল ইউনিট, সিআইডি ক্রাইম সিন, পিবিআই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ পার্শ্ববর্তী হাসপাতালে খোঁজ-খবর নেয়া হয়। এ সময় জানা যায়, ঘটনায় জখমপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভুক্তভোগী মোস্তাফিজুর রহমান, স্বপন মিয়া, আবুল কাশেম মোল্লা, রুহুল আমিন নোমান, জান্নাত কাকলি ও সোবহানা ওরফে তায়েবা নিহত হয়েছেন। মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মৃতদের মধ্যে জান্নাত কাকলি ও তার মেয়ে সোবহানা ওরফে তায়েবা ধসেপড়া ভবনের নিচতলা শর্মা হাউজের ভেতরে ছিলেন। মৃত আবুক কাশেম মোল্লা ক্ষতিগ্রস্ত আজমেরী পরিবহন বাসের চালক। তিনি ধসেপড়া ভবনের সামনের রাস্তায় ছিলেন। এছাড়া এ ঘটনায় আহত ৪০ থেকে ৫০ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ফিরে গেছেন।
অবহেলার দায় কার? রাজধানীর মগবাজারের ওয়্যারলেস গেট এলাকায় বিস্ফোরণে ধসে পড়া ভবনের নিচ থেকে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩ টার দিকে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির নাম: হারুনুর রশিদ (৬৫)। তিনি ওই ভবনের কেয়ারটেকার ছিলেন। এদিকে, বিস্ফোরণের ঘটনায় নাশকতার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। অপরদিকে, ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে থানায় অজ্ঞাতনামাদের নামে একটি মামলা করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ঘটনায় কারও দায় থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। কেন এই বিস্ফোরণ ঘটেছে বা এ ঘটনার পেছনে কাদের দায় রয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। বলা হচ্ছে গ্যাস জাতীয় পদার্থের জমাট রূপ থেকেই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। কার অবহেলায় কোথায় এই গ্যাস জমা হয়েছিল তা এখনও তদন্তকারীরা চিহ্নিত করতে পারেননি। গত রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারের ওয়্যারলেসের ৭৯ নম্বর ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ৮ জন নিহত ও ৬৫ জন আহত হয়। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ জানিয়েছে যে, মিথেন গ্যাস থেকে ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক (অপারেশন্স) দেবাশীষ বর্ধন জানান, আমরা অভিযোগ পাচ্ছিলাম হেনা নামে এক নারীর বাবা নিখোঁজ রয়েছেন। গতকাল দুপুর থেকে অভিযান পরিচালনার পর সাড়ে ৩ দিকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করি। পরে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এদিকে, দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে ঘটনার তদন্তের জন্য পুলিশের গঠিত তদন্ত টিম। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (সিটিটিসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, আমাদের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে এসেছি। গ্যাস ডিটেক্টর মেশিন দিয়ে পরীক্ষা করে ঘটনাস্থলে ১২-১৩ শতাংশ মিথেন গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এখন আমরা গ্যাসের উৎপত্তিস্থল খুঁজছি। তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস আবদ্ধ থাকার পর যখন বাতাসের সংস্পর্শে আসে তখন এক্সপ্লোসিভ মিক্সচার তৈরি করে। এ মিক্সচার যদি ১৫ শতাংশের বেশি হয় তবেই বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থলে গ্যাসের উপস্থিতি থাকার কথা বলা হলেও তিতাসের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- এখানে তাদের কোনো গ্যাস সংযোগ ছিল না। এছাড়াও ভবনের সুয়্যারেজ লাইনও অক্ষত রয়েছে। তবে গ্যাস কোথা থেকে এসেছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, আমরা গ্যাসের উপস্থিতি ও রুট খুঁজে বের করার বিষয় নিয়েই কাজ করছি।
এদিকে, বিস্ফোরণে ৮ জন নিহত ও অর্ধ শতাধিক ব্যক্তির আহতের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের অবহেলাকে দায়ী করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় মগবাজারে গ্যাস জমে থাকার কথা উল্লেখ থাকলেও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিতাস বা রাজউকের নাম উল্লেখ করা হয়নি। গতকাল সকালে রমনা থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে। মামলায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান জানান, ফৌজদারি দ-বিধির ৩০৪ (ক) ধারায় মামলা হয়েছে। পুলিশ বিস্ফোরণের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। দণ্ডবিধি ৩০৪ (ক) বলতে কোনো ব্যক্তির বেপরোয়া বা অবহেলার জন্য অন্যের প্রাণহানিকে বোঝায়। কারো বিরুদ্ধে এই ধারার অপরাধ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ ৫ বছরের জেল, অর্থদণ্ড অথবা উভয়দণ্ড হতে পারে।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com