বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৬:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম ::
খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত আত্রাই এলাকার উন্নয়নে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না-এমপি রেজু শেখ রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে অভিনেতা শামস সুমন ধামইরহাটে দল ও জনগণের সমর্থন পেলে পৌরবাসীর সেবা করতে চান আনোয়ারুল ইসলাম কয়রায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ তারাকান্দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেক অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছাল নিহত বিএনপি নেতা অলিউল্লাহ মোল্যার বাড়িতে নড়াইলের লোহাগড়ায় জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

মুসলিম শাসকের গুণাবলি

মুফতি মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ৩ আগস্ট, ২০২১

হজরত ওমর ফারুক ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা। একজন সুদক্ষ, বিচক্ষণ, সাহসী ও প্রজাবৎসল শাসক হিসেবে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। ২৩ আগস্ট ৬৩৪ থেকে ৩ নভেম্বর ৬৪৪ পর্যন্ত ১০ বছর খিলাফতের দায়িত্ব পালন করেন। হজরত হামজা রা:-এর ইসলাম গ্রহণের তিন দিন পর নবুয়তের ষষ্ঠ বছরের জিলহজ মাসে হজরত ওমর রা: ইসলাম গ্রহণ করেন। হজরত হামজা রা: ও হজরত ওমর রা:-এর ইসলাম গ্রহণ ছিল দ্বীনের আলো প্রজ্বলিত ইঙ্গিত হওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত এবং কুরাইশদের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা। হজরত ওমর রা:-এর ইসলাম গ্রহণের পর মুসলমানদের শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং তাদের ওপর পাইকারি নির্যাতন বন্ধ হয়ে যায়। হজরত ওমর রা: ইসলাম গ্রহণের পর মহানবী সা:কে প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি হকের ওপর নেই? রাসূলূল্লাহ সা: বলেন, ‘আল্লাহর শপথ অবশ্যই হকের ওপর আছি। আপনি কি সত্য নবী নন? রাসূলূল্লাহ সা: বলেন, অবশ্যই সত্য নবী? ইসলাম কি সত্য দ্বীন নয়? রাসূলূল্লাহ সা: বলেন, অবশ্যই সত্য দ্বীন। তাহলে গোপনীয়তা কেন? আমরা কেন পালিয়ে বেড়াব? সেই সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, অবশ্যই আমরা বাইরে বের হবো। অতঃপর দুই কাতারে বিভক্ত হয়ে মিছিল করে আল্লাহর রাসূলকে সাথে নিয়ে বাইরে বের হলেন। এক কাতারের সামনে ছিলেন হজরত হামজা রা: অন্য কাতারে ওমর রা:। হজরত ওমর রা:-এর সেই দিনের বীরত্বে খুশি হয়ে মহানবী সা: ফারুক উপাধি দেন। হজরত ওমর রা:-এর ইসলাম গ্রহণের আগে সাহাবিরা কাবাঘরের কাছে এসে নামাজ আদায়ে সক্ষম ছিলেন না।
মুসলিম শাসকের গুণাবলি : হজরত আবুবকর সিদ্দিক রা:-এর ওফাতের পর হজরত ওমর রা: খলিফা নির্বাচিত হন। তিনি প্রায় অর্ধ পৃথিবী ইসলামী শাসনের আওতায় নিয়ে আসেন। অতঃপর বিভিন্ন এলাকায় তিনি শাসক নিয়োগ করেন। তাদেরকে তিনি যে নির্দেশ দেন তা হলোÑ
১. তোমরা তুর্কি ঘোড়ায় চড়বে না। তুর্কি ঘোড়া ছিল তখন উন্নত ও সেরা বাহন। হজরত ওমর রা: শাসকদেরকে দামি বাহন ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। কারণ ইসলামী শাসকের জন্য সরকারি অর্থের অপব্যবহার বৈধ নয়।
২. উৎকৃষ্ট খেজুর খাবেন না। প্রজারা যে ধরনের খাদ্য খায় আপনারাও তাই খাবেন। কারণ ইসলামে রাজা-প্রজার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
৩. মিহি তথা দামি পোশাক পরিধান করবে না। বরং সাধারণ পোশাক পরিধান করবে।
৪. তোমাদের গৃহ বন্ধ করবে না; বরং সদা খোলা রাখবে। যাতে কোনো বিচার প্রার্থী বা কোনো প্রয়োজনে আগত ব্যক্তি ফিরে যেতে না হয়। অতঃপর তিনি বলেনÑ যদি আমার এ নির্দেশের পরিপন্থী কাজ করো, তবে তোমাদের জন্য শাস্তি অবধারিত হয়ে যাবে (বায়হাকি, মিশকাত হাদিস নং-৩৭৩০)। হজরত ওমর রা: যেমন ছিলেন, তিনি তার গভর্নরদের সেভাবে কাজ করতে নির্দেশ জারি করেন। ওমর ফারুক এবং অন্যান্য খোলাফায়ে রাশেদিনের জীবনী থেকে বর্তমানের মুসলিম শাসকরা শিক্ষা গ্রহণ করলে পৃথিবী স্বর্গে পরিণত হতো। তার অধীনস্থ হিমসের শাসক হিলেন হজরত সাঈদ ইবনে আমের আল জুমাহি রা:। গভর্নর হয়েও তিনি সাদামাটা দরিদ্র জীবন যাপন করতেন। তিনি রাষ্ট্রীয় ভা-ার থেকে গভর্নরের দায়িত্ব পালনের জন্য কোনো ভাতা গ্রহণ করতেন না। একদা হিমস থেকে একদল লোক মদিনায় হজরত ওমর রা:-এর সাথে দেখা করতে আসে। তিনি তাদেরকে হিমসের দরিদ্রদের তালিকা করতে বলেন। তারা হিমসের দরিদ্রদের একটি তালিকা তৈরি করে হজরত ওমর রা:-এর কাছে দেন। ওমর রা: দেখেন দরিদ্রদের তালিকায় এক নম্বরে সাঈদ তথা তাদের গভর্নরের নাম। এতে হজরত ওমর রা: মর্মাহত হন এবং পৃথকভাবে গর্ভর্নরের জন্য এক হাজার দিনারের একটি থলে প্রদান করেন। তিনি দিনারের থলে দেখে এত জোরে ‘ইন্না লিল্লাহ’ পড়েন, যার ফলে তার স্ত্রী জানতে চান কী হয়েছে, খলিফা কি ইন্তেকাল করেছেন? সাঈদ বলেন, না বরং তার চেয়ে মারাত্মক অবস্থা হয়েছে, আমার ঘরে দুনিয়া প্রবেশ করেছে। খলিফা আমার জন্য এক হাজার দিনার পাঠিয়েছেন। স্ত্রী বলেন, সমস্যা নেই, আপনি তা দান করে দিন। সাঈদ সাথে সাথে গরিব মিসকিনদের মধ্যে বণ্টন করে দেন। হজরত উমর রা: হিমস সফরে গেলে প্রজারা তার বিরুদ্ধে চারটি অভিযোগ করেÑ
১. প্রজারা অভিযোগ করে, তিনি খানিকটা বেলা গড়িয়ে না পড়লে আমাদের দেখা দেন না। কারণ জিজ্ঞেস করলে সাঈদ বলেন, ‘আমার ঘরে কোনো চাকর নেই, তাই নিজেই সকালের খাবার প্রস্তুত করে খাবার গ্রহণ পূর্বক জনগণের সাথে দেখা করি।
২. প্রজারা দ্বিতীয় অভিযোগে বলে, তিনি রাতে আমাদেরকে সাক্ষাৎ দান করেন না। হজরত ওমর রা:-এর কারণ জিজ্ঞেস করলে সাঈদ বলেন, আমি রাতকে আল্লাহর ইবাদতের জন্য নির্ধারিত করেছি। তাই রাতে কারো সাথে সাক্ষাৎ করতে পারি না।
৩. প্রজারা আরেকটি অভিযোগ করল, তিনি সপ্তাহে একটি দিন কারো সাথে সাক্ষাৎ করেন না। ওমর রা:-এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি প্রত্যুত্তরে বলেন, আমার কোনো চাকর বাকর এবং অতিরিক্ত জামা নেই। সপ্তাহে একদিন জামা কাপড় ধৌত করি, তাই সাক্ষাৎ করতে পারি না।
৪. সর্বশেষ অভিযোগ করেন, আমাদের গভর্নর হঠাৎ করে মজলিসে বেহুঁশ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। হজরত ওমর রা:-এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, মুসলমান হওয়ার আগে আমার সামনে হজরত খুবাইব ইবনে আদিকে শহীদ করা হয়। এ দৃশ্য যখন আমার সামনে ভেসে উঠে তখন আমি স্থির থাকতে পারি না। হজরত ওমর রা: সব অভিযোগ শুনে খুবই দুঃখিত ও মর্মাহত হন এবং তিনি তার জন্য আবার এক লাখ দিনার পাঠান। তিনি তাও গরিব-দুঃখীদের মাঝে দান করে দেন। হজরত ওমর রা: তাকে একবার মদিনায় ডেকে পাঠান, তখন তার হাতে ছিল একটি লাঠি ও একটি পেয়ালা। তাই ছিল তার সম্পদ। তিনি হিজরি ২০ মতান্তরে ২১ সাল মোতাবেক ৬৪২ খ্রিষ্টাব্দে হিমসের গভর্নর থাকাবস্থায় ইন্তেকাল করেন। মহানবী সা: বলেন, ‘উত্তম শাসক হলো তারা যাদেরকে প্রজারা ভালোবাসে, তারাও প্রজাদেরকে ভালোবাসে এবং প্রজারা তাদের জন্য দোয়া করে, তারাও প্রজাদের জন্য দোয়া করে’ (সহিহ মুসলিম)। প্রধান ফকিহ, আল-জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদরাসা, ফেনী।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com