শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত আত্রাই এলাকার উন্নয়নে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না-এমপি রেজু শেখ রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে অভিনেতা শামস সুমন ধামইরহাটে দল ও জনগণের সমর্থন পেলে পৌরবাসীর সেবা করতে চান আনোয়ারুল ইসলাম কয়রায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ তারাকান্দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেক অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছাল নিহত বিএনপি নেতা অলিউল্লাহ মোল্যার বাড়িতে নড়াইলের লোহাগড়ায় জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

রামগতি-কমলনগরে মেঘনার তীর সংরক্ষণ বাঁধ প্রকল্প বেড়ীবাঁধের কাজে জনগণের দাবি সেনাবাহিনী

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় সোমবার, ১৬ আগস্ট, ২০২১

চলতি অর্থবছরের শুরুতে অনুমোদন হওয়া লক্ষ্মীপুরের মেঘনার তীর সংরক্ষন বাঁধের কাজে সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততা চান রামগতি-কমলগরের সাড়ে সাত লাখ জনগন। এমন দাবী জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও সোশাল মিডিয়াতে পোস্ট করে দাবী জানিয়ে আসছে রামগতি-কমলনগরের সচেতন মহল। জাতীয় সংসদেও আলোচনা করেছেন স্থানীয় সাংসদ মেজর (অবঃ)আবদুল মান্নান এমপি। গত পহেলা জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহি কমিটির (একনেক) সভায় রামগতি-কমলনগর উপজেলার মেঘনার ভাংগন রোদে প্রায় একত্রিশ কিলোমিটার তীর সংরক্ষন বাঁধ প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। দুটি উপজেলার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় তিন হাজার একশ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের আওতায় ৫ বছরে (২০২১ইং-২০২৫ইং) প্রায় ৩১ কিলোমিটার তীর সংরক্ষন বাঁধের কাজ সম্পন্ন করা হবে। সুত্র জানায়, ২০১৪ সালে অন্য একটি প্রকল্পের মাধমে দুটি উপজেলার বেড়ী বাঁধের কাজ হয়েছে সাড়ে ৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে রামগতির আলেকজান্ডার এলাকায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার, রামগতি বাজারে ১ কিলোমিটার এবং কমলনগর উপজেলার মাতাব্বরহাটে ১ কিলোমিটার বেড়ী বাঁধ নির্মান করা হয়। রামগতি উপজেলার সাড়ে ৪ কিলোমিটার কাজ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি ইঞ্জিনিয়ারিং টিম। একই প্রকল্পে কমলনগরের মাতাব্বরহাটে কাজটি করে নৌবাহিনীর তত্তাবধানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানী। মাতাব্বরহাটের ১ কিলোমিটার বেড়ীবাঁধে অনিয়ম এবং নি¤œমানের কাজ হওয়ায় এক বছরেই ভাংগন দেখা দিয়েছ দশ বারের মতো। বর্তমানে বাঁধের বেশিরভাগ অংশই নদী গর্ভে বিলীন। অন্যদিকে রামগতি উপজেলার বেড়ী বাঁধ গত সাত বছরে ছোট খাটো দু একটি সমস্যা ছাড়াই দৃশ্যমান রয়েছে। এক হাজার দুইশ কোটি টাকার প্রকল্পের আওতায় মাত্র ১৯৮কোটি টাকার কাজ হয়। এরপর অবশিষ্ট্য প্রকল্পটি আর আলোর মুখ দেখেনি। মূলত কমলনগর উপজেলার মাতাব্বর হাট এলাকায় নির্মিত বাঁধের করুন পরিনতি দেখেই ভুক্তভোগীরা সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বর্তমান প্রকল্পটির কাজ করার দাবি জানিয়ে আসছে। এনিয়ে রামগতি-কমলনগরে নিয়মিত পালিত হচ্ছে সভা সমাবেশ,মানববন্ধন এবং সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে দাবী জানিয়ে আসছে এলাকাবাসী। সেনাবাহিনীর মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ সম্পাদনের দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনেও করা হয়েছে মানববন্ধন। জনসাধারনের দাবির প্রেক্ষিতে মহান জাতীয় সংসদের বাজেট আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে সাংসদ মেজর (অব) আবদুল মান্নান প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করে সেনাবাহিনীর মাধমে কাজটি করার দাবি জানিয়েছেন। এছাড়াও তিনি রামগতি-কমলনগরের একাধিক সভা-সমাবেশেও সেনাবাহিনীর মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ করা হবে বলেও জানিয়েছেন। অন্যথায় বৃহৎ এ প্রকল্পে বড় ধরনের দুর্নীতির আশংকা করছেন তারা। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে এমনটাই আশংকা করছেন সংশ্লিষ্ট সকলেই। কমলনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও কমলনগর নদী শাসন সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিব এম এ মজিদ জানান,প্রথমে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নির্ধারণ করা,আর যদি তা সম্ভাব না হয় তাহলে সেনাবাহিনীর মাধ্যমেই কাজটা করা হউক। সাধারন ঠিকাদারের মাধ্যমে বেড়ীবাঁধের কাজ করার বাস্তব প্রার্থকটা আমরা গত প্রকল্পের কাজে দেখছি। একটি কাজের জন্য বরাদ্ধ বারবার আসেনা। বিশ বছর আন্দোলন সংগ্রামের এতো বড় প্রকল্প। এতে কোন রকম দুর্নীতি বা অনিয়ম হোক তা আমরা চাইনা। আমরা চাই কাজটি সেনাবাহিনীর মাধ্যমে হোক। আর এ জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তিনি আরো বলেন আমরা এই দাবিতে সোচ্চার আছি। আশাকরি এ দাবিতে দলমত নির্বিশেষে সবাই একমত হবেন। প্রকল্পটি নিয়ে গত দু বছর ধরে কাজ করা আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক উপকমিটির সদস্য আবদুজ্জাহের সাজু জানান, রামগতি-কমলনগরের জনসাধারনের স্বপ্নের প্রকল্পটি চূড়ান্ত করতে সাথে ছিলাম। কাজটি যেন সুন্দর ও সঠিক ভাবে সমাপ্ত হয় সে ব্যাপারে অবশ্যই সজাগ থাকবো। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর মাধ্যমে কাজটি করানোর জন্য শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে যাবো। উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল ওয়াহেদ বলেন, মেঘনার অব্যাহত ভাংগনে রামগতি-কমলনগরের অসংখ্য মানুষ দিন দিন সহায় সম্বল হারিয়ে নি:স্ব হচ্ছেন। মেঘনার এ ভাংগন রোধে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ছিল। প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প পাস করে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন। আশাকরি তিনি প্রকল্পটি সুন্দরভাবে সম্পাদন করার জন্য সব ধরনের কার্যক্রম গ্রহন করবেন। লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী হোক আর পানি উন্নয়ন বোর্ড হোক আমরা কাজটি দ্রুত এবং সুষ্ঠুভাবে হোক এটাই চাই।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com